করোনা মোকবেলায় ডিসিকে ছাত্রদলের ১৩ দফা প্রস্তাবনা

81

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

বৈশ্বিক মহামারী কভিড-১৯ মোকাবেলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ ও রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে জেলা প্রশাসককে জরুরী প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর উত্তম কুমার দাশের হাতে প্রস্তাবনা তুলে দেয় কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির। আরো উপস্থিত ছিলেন জেলার সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বেলাল হোসেন সাকু।
এসময় তারা কভিড-১৯ মোকাবেলায় জেলা প্রশাসনকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

ছাত্রদলের প্রস্তাবনা সমূহঃ

প্রস্তাবনা-১
রাঙামাটি ফিসারী কর্তৃক মাছের গাড়ি অবাধে চলাচল অনতিবিলম্বে বন্ধ করা।

দাবীর পক্ষে যুক্তিঃ- রাঙামাটি ফিসারী হতে মাছ বোঝাই গাড়ি যা প্রতিনিয়ত চট্টগ্রাম, ঢাকাতে আসা যাওয়া করছে এবং করোনা আক্রান্ত জেলা হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জ জেলাতেও এর অবাধ চলাচল রয়েছে। এছাড়াও যাত্রী বোঝাই এর ব্যাপারেও আমরা তথ্য নিশ্চিত করেছি। আপনি অবগত আছেন ইতিমধ্যে একজন ট্রাক চালক হবিগঞ্জ জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত রোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে যার বাড়ি রাঙামাটির লংগদু উপজেলায়। যদি দ্রুত এই বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না যায় রাঙামাটিকে করোনা মুক্ত জেলা হিসেবে বজায় রাখা দুষ্কর হয়ে উঠবে।

বিকল্প প্রস্তাবঃ- বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে যদি এই মাছ বোঝাই গাড়ি চলাচল বন্ধ করা সম্ভবকর হয়ে না উঠে সেক্ষেত্রে রাঙামাটি সদর সীমানার বাহিরে নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ির লোড-আনলোড প্রক্রিয়া প্রশাসন এর উপস্থিতিতে সম্পন্ন করা হোক। যেমনটা পাহাড় ধ্বস-২০১৭ এর সময় কার্যকর করা হয়েছিলো।

প্রস্তাবনা-২
রাঙামাটি জেলা হতে যে সকল আনারস বোঝাই করা ট্রাক সরাসরি নারায়ণগঞ্জের সাথে সম্পর্কিত তাদের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সীমানার বাইরে সীমিত আকারে চলাচল এর অনুমতি প্রদান করা।

প্রস্তাবনা-৩
শহরের প্রবেশ মুখে শহরের বাহির থেকে আগত প্রত্যেক গাড়িতে জীবানুনাশক স্প্রে নিশ্চিত করা, অটোমেটিক জ্বর মাপার যন্ত্র (Thermal Scanner) দিয়ে জ্বর পরিমাপ করা, সন্দেহজনক কেউ থাকলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা, তথ্য সংরক্ষণ করে পুনরায় শহরেই ফেরত যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা।

প্রস্তাবনা-৪
যে সমস্ত জরুরি পরিবহন নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে আসছে তাদের চলাচল সীমিত করে সপ্তাহে ২ বার একসাথে জেলা শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া।

প্রস্তাবনা-৫
যদি বিবিধ কারণে ট্রাক সহ অনান্য বিশেষ পরিবহন সেবা চালু রাখতেই হয় সেক্ষেত্রে বৃহত্তর স্বার্থে রাঙামাটি সদর সীমানার বাইরে উক্ত ব্যক্তিগণকে কোন বিদ্যালয়ে বা আবাসস্থলে থাকার জন্য নির্দেশ প্রেরণ করা ।
দাবির স্বপক্ষে যুক্তিঃ যেহেতু চালক/হেলপার বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের মধ্যে আছেন সেহেতু সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা প্রচুর। এক্ষেত্রে নিশ্চিত ভাবেই বলা যেতে পারে কেউ আক্রান্ত হলেও তা শহরের উপর প্রভাব ফেলবে না। শহর ঝুঁকিমুক্ত থাকবে৷

প্রস্তাবনা-৬
সর্বস্থানে দলমত নির্বিশেষে অসহায়দের ত্রাণ প্রদান নিশ্চিত করা।
দাবীর স্বপক্ষে যুক্তিঃ বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক তৈরিকৃত তালিকা যা নিরপেক্ষ নয়। যার ব্যাপারে ইতিমধ্যে প্রশাসন অবগত রয়েছেন। সুষম বন্টনের মাধ্যমে ত্রাণ প্রদান করা হলে কেউ অভুক্ত থাকবেনা৷
বিকল্প প্রস্তাবঃ জেলা প্রশাসন পূর্ণ যাচাই বাছাই বিশ্লেষণ এর মাধ্যমে সকল জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয়পূর্বক যারা ত্রাণ সাহায্য পেয়েছে তাদের নাম/এন আই ডি নাম্বার চিহ্নিত করে অথবা বাসা বাড়িতে গোপন সংকেত এর মাধ্যমে চিহ্নিত করতে পারেন। এতে সুষম বন্টন নিশ্চত হবে।

প্রস্তাবনা-৭
সম্ভবপর হলে অনেকগুলো উপজেলা সমন্বয়ে সৃষ্টি হওয়া বাংলাদেশ এর সর্ববৃহৎ পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে করোনা পরীক্ষা ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে সুদৃষ্টি প্রদান করা৷

প্রস্তাবনা-৮
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে ও হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত থাকা সকল ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে প্রণোদনা মূলক কিছু ব্যবস্থা করে কর্মক্ষেত্রে উৎসাহিত করা ।

প্রস্তাবনা-৯
করোনা সংক্রান্ত সংবাদ সংগ্রহে নিয়োজিত সকল সাংবাদিকবৃন্দদের সুরক্ষা নিশ্চিত করে কর্মক্ষেত্রে উৎসাহিত করা।

প্রস্তাবনা-১০
বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন এর নামে যে সকল প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে তা বন্ধ করা।
দাবির স্বপক্ষে যুক্তিঃ বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন এর নামে গলির মুখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এলাকার ভিতরের অংশে বিভিন্ন আসর জমানো হয় । প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রশাসন এর টহল দল ও এলাকায় প্রবেশ করতে বাধাপ্রাপ্ত হন। ভিতরে অবস্থান করা জনগন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

প্রস্তাবনা-১১
যে সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে, যারা বিবাদমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে তাদের জন্য পিপিই ব্যবস্থা করে তাদেরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখা ।

প্রস্তাবনা-১২
রাঙামাটিতে অবস্থান করা বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ভান্তে, পুরোহিতদেরকে জেলা প্রশাসনের সাহায্য সহযোগীতার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা। কারন তারা অন্যান্যদের মতো লাইনে গিয়ে সহায়তা গ্রহনে ইতস্তত বোধ করেন ।

প্রস্তাবনা-১৩
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা একটি অনগ্রসর এলাকা। অত্র এলাকার লোকদের আয় অন্য এলাকার মত নেই। রাঙামাটিতে অবস্থান করা দিনমজুর, টেক্সীচালক, হোটেল শ্রমিক, অসহায় মহিলা, বোট চালক , মৎস্য শ্রমিক, কাঠ শ্রমিকদেরকে করোনা মহামারী মোকাবেলায় বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আনার জন্য জোর প্রস্তাব করছি ।
উল্লেখিত বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে।