ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদে ড. এ টি এম শামসুল হুদা: নির্বাচনে পেশিশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে

95

স্টাফরিপোর্ট- ১ ডিসেম্বর ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি):

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণের আভাষ নির্বাচনী সুবাতাস তৈরি করেছে। কিন্তু গ্রেপ্তার, মামলা, কালো টাকার ব্যবহার, পেশিশক্তির প্রদর্শন সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়ার ক্ষেত্রে আস্থার অভাব তৈরি করেছে। যা সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বন্ধ করতে হবে। এ ছাড়া ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোট প্রদান করে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে নির্বাচন কমিশনকে সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। হঠাৎ করে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা দিয়ে ইভিএম কেনার স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীসহ কেউই কিছু জানে না। ইভিএম ক্রয় প্রক্রিয়া কীভাবে করা হয়েছে এ সংক্রান্ত তথ্য নির্বাচন কমিশনের জনগণকে অবহিত করা উচিত।

আজ ১ ডিসেম্বর, শনিবার বাংলাদেশ চলচিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (বিএফডিসি) ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু করা নিয়ে এক ছায়াসংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এ টি এম শামসুল হুদা এসব কথা বলেন। প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ড. এ টি এম শামসুল হুদা আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় সময় ব্যক্তিগত ফোনালাপ গণমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে এটি একটি অনৈতিক চর্চা। যার কারণে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। একই সাথে নির্বাচনকেন্দ্রীক ভুল তথ্য পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্যে তিনি গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানান। যারা নির্বাচনকে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে আনার সমালোচনা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন নির্বাচনকে আন্দোলনের ইস্যু হিসেবে দেখা অযৌক্তিক কিছু নয়। বিশে^র অনেক দেশেই এই চর্চা লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইবুনাল গঠনের কথা তুলে ধরেন। এ ছাড়াও তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, আমাদের দেশে নির্বাচনে সবচেয়ে বড় সমস্যা উইনার টেকস অল। যারা নির্বাচনে জিতে তারা ব্যবসা বাণিজ্য জমি জমা সবই নিয়ে নিতে চায়। আর পরাজিতরা ঘর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে হয়। ফলে নির্বাচনে কেউই হারতে চায় না। তিনি বলেন, এবারে দেশের অন্যতম প্রধান দল বিএনপি তাদের পার্টি প্রধান জেলে থাকায় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়াই নির্বাচনে যেতে হতে পারে। এছাড়াও বিএনপির অনেক নেতা কর্মী হাজতে অথবা মামলার ভয়ে পালিয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে অংশগ্রহণ করা দলগুলি নির্বাচনে সকলের জন্য সমান সুযোগ তৈরি হচ্ছে না বলে দাবি করছে। অন্যদিকে সর্বশেষ গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় এবারের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ব্যাপক মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবারের জাতীয় নির্বাচন যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় তা নিয়ে বেশ কয়েকবার অভিব্যক্ত ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিয়ে কোনভাবেই আস্থাশীল হতে পারছে না বিরোধী জোট থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া ঐক্যফ্রন্টের প্রধান দল বিএনপিসহ তার অন্যান্য শরিকরা। গ্রেফতার-মামলা কালো টাকার ব্যবহার, পেশী শক্তি প্রদর্শণ, ইভিএমের ব্যবহার ইত্যাদিকে বিরোধী দল নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টিতে বড় বাধা মনে করছেন। জনাব কিরণ আরো বলেন জাতি ১৫ ফেব্রæয়ারি বা ৫ই জানুয়ারির মত নির্বাচন দেখতে চায় না। আসন্ন নির্বাচন যাতে সকল দলের অংশগ্রহণে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ হয়। মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজ নিজ ভোট প্রদান করতে পারেন এই প্রত্যাশাই করেন জনাব কিরণ।

প্রতিযোগিতায় বিজেএমইএ ইউনিভার্সিটি অফ ফ্যাশন এন্ড টেকনোলজিকে পরাজিত করে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এন্ড টেকনোলজি বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এতে বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক সালেহউদ্দিন, আইরিন বাশার রিফাত, ড. এসএম মোর্শেদ এবং ফ্রী-ল্যান্স সাংবাদিক জাহিদ রহমান।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।