অতি বর্ষনে রাঙামাটিতে পাহাড় ধস ট্র্যাজেডি: এখনো ঝুঁকিতে রয়েছে অনেক সরকারি ভবন

216
ছবিটি রাঙামাটি টেলেভিশন ভবনের

 

ছবিটি রাঙামাটি টেলেভিশন ভবনের

মঈন উদ্দীন বাপ্পী- ২৩ জুন ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি:  এবার এ ভারী বৃষ্টি পাতের ফলে রাঙামাটির গুরুত্বপূর্ণ অনেক সরকারি ভবন ঝুঁকিতে রয়েছে। যে কোন সময় ধসে যাওয়ার সম্ভবনা । এ সরকারি ভবনগুলো ধসে যাওয়ার ফলে প্রাণহানীর ঘটনাও ঘটতে পারে।

তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সরকারি ভবনগুলো হলো- রাঙামাটি পুলিশ সুপারের বাংলো, ডিসির বাংলো, রাঙামাটি টেলিভিশন উপকেন্দ্র, রাঙামাটি বেতার, রাঙামাটি পাসপোর্ট অফিস, রাঙামাটি সার্কিট হাউজ, মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের বাংলো, জাতীয় গোয়েন্দা শাখা এনএসআই কার্যালয়, এলজিডি অফিস ছাড়াও বেশ কয়েকটি সরকারি ভবন।

এছাড়া রাঙামাটি টেলেভিশন ভবনের টাওয়ার এবং রেডিও বেতারের টাওয়ারের গোড়া থেকে  মাটি সরে যাচ্ছে। ফলে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ এ ভবন দু’টি বেশী ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে মানিকছড়ি সেনা ক্যাম্পের উপর অবস্থিত বেসরকারি টেলিফোন টাওয়ারটির গোড়া থেকে মাটি সরতে থাকায় যে কোন সময় বড় ধরণের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে পুলিশ সুপারের বাংলো, ডিসি বাংলো, এলজিডি অফিস, সার্কিট হাউজ, মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের বাংলো, জাতীয় গোয়েন্দা শাখা এনএসআই কার্যালয়ের পাশ হতে মাটি সরতে থাকায় এ ভবনগুলো যে কোন সময় ধসে পড়তে পারে।

বেতার ভবনের পাশ্ববর্তী বাসিন্দা তুষার জানান, বেতার ভবনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে তার ঘরের উপর পড়ার কারণে ঘরটি ভেঙে গেছে। বর্তমানে তিনি তার মামার বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে, রাঙামাটি আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোতালেব সরকার বলেছেন, পাসপোর্ট ভবনটি কিছুটা ঝুঁকিতে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালককে অবগত করার পর সেটি সংস্কারের জন্য বরাদ্দও চলে এসেছে, আশা করি বৃষ্টি কমে গেলে এর কাজ শুরু হবে।

বাংলাদেশ বেতারের রাঙামাটি কেন্দ্রের আঞ্চলিক প্রকৌশলী ভাস্কর দেওয়ান বলেন, চতুর্দিকে পাহাড় ধসে যাওয়ায় বেতার ভবন পুরোপুরি ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া তিনটি টাওয়ার ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বেতার ভবনের প্রবেশ মুখের সড়কও ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, ভবনের পাম্প হাউজটিও ধসে পড়া মাটিতে তলিয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় বেতার ভবন স্থানান্তর করা  প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

এ বিষয়ে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ  মানজারুল মান্নান বলেন, সব স্থাপনাই তো পাহাড়ের উপর। এমনিতেই তো ঝুঁকি থাকে। কিন্তু মঙ্গলবারের ঘটনায় বেশ কয়েকটি সরকারি অফিস ও বাংলো ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পাহাড় ধস ও অতি বৃষ্টিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনো পর্যন্ত নিরুপণ করা যায়নি। বিপর্যয়ের পর আমরা প্রথমেই উদ্ধার তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম তা বর্তমানে শেষ হয়েছে। এখন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের পরিস্থিতি জানাতে। এরপরই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান ।