অন্যমত: ৭১’র যুদ্ধাপরাধী চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের মরনোত্তর বিচার দাবি

344
রাজা ত্রিদিব রায়, রাজা দেবাশীষ রায় ও দেবাশীষ রায়ের সন্তান। (ছবি- সংগ্রহিত)
রাজা ত্রিদিব রায়, রাজা দেবাশীষ রায় ও দেবাশীষ রায়ের সন্তান। (ছবি- সংগ্রহিত)

শামীমুল আহসান- ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি: ৭১’র শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে। এ জন্য দেশবাসী বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রামের শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্টীয় ভাবে কোনোরূপ বিচারকার্য না হওয়ায় তিনি নির্দোষ প্রমানিত হয়েই রইলো। তাই দেশের মুক্তিযোদ্ধা-জনতা এবং বোদ্ধাজনরা মনে করছেন, ত্রিদিব রয়ের মরনোত্তর বিচার করা উচিৎ। গত ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের একটি মানববন্ধন থেকে তার মরনোত্তর বিচার দাবি করা হয়।

১৯৭১ একাত্তর সালে বাংলাদশেরে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়রে নেতৃত্বে র্পাবত্য চট্টগ্রামরে চাকমা উপজাতি সম্প্রদায় পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দশেরে স্বাধীনতা যুদ্ধে বিরোধিতা করে যুদ্ধাপোরাধী হসিেেব চহ্নিতি হয়ে আছেন। চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় উপজাতিদের নিয়ে আলাদা রাজাকারবাহিনী গঠন করে পাকিস্তান সনোবাহিনীর সাথে একত্র হয়ে মুক্তিবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধ করছেনে। তিনি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চাকমা রাজাকারবাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার। শক্তি সঞ্চয়রে জন্য সে সময় মিজুবাহিনীকেও তারা সাথে নেন। পাকবাহিনী, মিজুবাহিনী ও চাকমা রাজাকারবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে ৭১’রে পার্বত্য চট্টগ্রামে শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে প্রান দিতে হয়েছে। রাজা ত্রিদিব রায় তার মূল জিম্মাদার।

এছাড়াও রাজা ত্রিদিব রায় সব সময় ক্ষমতা লোভি ছলিনে। নিজের স্বার্থ রক্ষার্থে পাকস্তিান আমলে তিনি কাপ্তাই জল বদ্যিূৎ প্রকল্প বাস্তবায়নরে সময় উপজাতদিরে বাস্তহারা হবার বিষয় পাকিস্তান সরকাররে বিরুদ্ধে কোনো কথা বলনেনি। সে সময় উজাতিরা ভারত গিয়ে শরনার্থী হন। তার পরও তারা রাজা ত্রিদিব রায়রে নতৃত্ব পরহিার করনেনি। কাররণ, চাকমা সম্প্রদায় জাতিগতভাবে সম্প্রদায়রে শীর্ষ নেতা ও বৌদ্য ধর্মগুরুর প্রতি শ্রদ্ধ্যাশীল। যে কারণে তারা অল্পেতেই অতীত ভূলে গেিয় চাকমা রাজার আনুগত্যতা স্বীকার করে। শেষের দিকে যুদ্ধে পরাজয় নিশ্চিত টের পেয়ে তিনি পাকিস্তান গিয়ে আর দেশে ফেির আসনেন। স্বাধীনতার পর তিনি পাককিস্তানরে নাগরিত্ব নিয়ে রাজকীয় অবস্থানে থেকে সেখোনেই মৃত্যু বরণ করণে।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর বাঙালি জাতিস্বত্তার বিরোধ করে তিনি পুন:রায় ষড়যন্ত্র করে র্পাবত্য চট্টগ্রামকে স্বাধীন জুমল্যান্ড করার জন্য জেএসএস ও শান্তিবাহিনী গঠন করতে সহায়তা করে। এজন্য তিনি ততকালীন পর্লামেন্ট  মেম্বর এম এন লারমাকে মাঠে নামান। ইচ্ছা ছিল এ্যামেরিকার অনুকম্পায়, জাতিসংঘের সমর্থনে অতিসহজেই পার্বত্য চট্টগ্রামকে চাকমা রাজার একক নেতৃত্ত্বে স্বায়োত্তশাসনের রাজত্ব কায়েম করা। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর হত্যার ফলে তার সে ষড়যন্ত্রে ভাটা পরে।

রাজা ত্রিদিব রায়ের মৃত্যুর পর তার সন্তান বর্তমান রাজা দেবাশীষ রায়ও তার পিতার পথেই হেটেছেন। শান্তিবাহিনীর সন্ত্রাসী রার্যক্রম বন্ধে রাজা দেবাশীষ রায় কোনো দ্বায়ীত্ব পালন করেননি। বরং, বিভিন্ন তথ্য মতে জনাযায়, তিনি দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বিদেশে শান্তিবাহিনীর পক্ষে ক্যাম্পেইন করতেন। কিন্তু, সর্ব শেষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরতœ শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার কাছে হেরে যায় শান্তিবাহিনী। তার সরকার ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি করে সে ষড়যন্ত্রের সমাপ্তি করে প্রথম দফায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেন।
সম্প্রতি ‘‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও স্থাপনায় থাকা স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম মুছে ফেলতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে ৬০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে শিক্ষা সচিব ও স্থানীয় সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৬ বুধবার বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।’’

এ নির্দেশনার পর রাঙামাটির মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ জনগণ পার্বত্য রাজকারবাহিনীর আঞ্চলিক কমান্ডার চাকমা রাজা ত্রিদিব রায়ের নামে নামকরণ করা ত্রিদিব নগর ও ত্রিদিব সড়কের নামকরণ বাতিলের পক্ষে মতামত দিচ্ছেন। রাঙামাটির সাধারণ জনগণের মধ্যে এও আলোচনা হচ্ছে, যদি সংশ্লীষ্ট কর্তৃপক্ষ এবিষয় ব্যার্থতার পরিচয় দিলে স্থানীয় জনতা রাজপথে আন্দোলন করবেন। এমন কি সে আন্দোলন আঞ্চলিক রাজনীতিতে রূপ নিতে পারে। তাই স্থানীয় বোদ্ধাজনরা মনে করেন, ৭১’রের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে রাজা ত্রিদিব রায়ের বিচারের পাশাপাশি কৃতীত্ত্ব হিসেব প্রকাশ্যে যে সব স্থানে তার নাম রয়েছে সেখান থেকে তার নাম সরিয়ে নেয়া উচিৎ। তার নামের পরিবর্তে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম করণের দাবি করা হয় পার্বত্য সমঅধিকার আন্দোলনের পক্ষ থেকে।

গত ১৪ ডিসেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমঅধিকার আন্দোলনের একটি মানববন্ধন থেকে তার মরনোত্তর বিচার দাবি করে রাঙামাটি জেলা সদরে অবস্থিত ত্রিদিব রায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত ত্রিদিবনগর বাতিল করে ঐ স্থানের নাম ‘মুজিবনগর’ নাম করণ করার দাবি করা হয়। এছাড়াও রাজাকার কমান্ডার বিজয় কেতন চাকমাসহ উপজাতীয় রাজাকার, মিলিশিয়া, শান্তি কমিটির নেতাদের বিচারেরও দাবি করা হয়।

পোস্ট- ঢাকা বুরো অফিস।