অর্ধ শতাব্দীর দুঃখ ঘুচিয়ে শুরু হলো তবলছড়ি সেতু নির্মাণের কাজ

183

P.1-1

 
আলমগীর মানিক, ৫ ডিসেম্বর ২০১৫, দৈনিক রাঙামাটি : অর্ধশতাব্দী পর অবশেষে শুরু হয়েছে তবলছড়ি ব্রীজের নির্মাণ কাজ। পর্যটন শহর রাঙামাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কের এই সেতুটি রাঙামাটিবাসীর জন্য ছিল এক বিষফোঁড়া। সেতুটি নির্মিত হলে তবলছড়ি, আসামবস্তী, মাঝের বস্তি, ওমদা মিয়া পাহাড়, ধন মিয়ার পাহাড়, পর্যটন এরিয়া সিলেটিপাড়া ও জাইল্যাপাড়াসহ বিশাল এলাকার অন্তত ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেমন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে তেমনি রাঙামাটি শহরের পর্যটন শিল্পের বিকাশেও গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় বাস্তবায়নাধীন এই সেতুর ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে  ২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। ইতোমধ্যে দরপত্র সংক্রান্ত যাবতীয় প্রক্রিয়া সমাপ্ত করে কাজ শুরু করে দিয়েছে সড়ক বিভাগ। রাঙামাটি বিল্ডার্স নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে। কাজ তদারকির দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা রাঙামাটি সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবু মুছা জানান, আমরা ব্রীজটি নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছি। তিনি বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। বিকল্প কোনো সড়কও নেই, তাই প্রথমে বিকল্প সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। তিনি জানান, প্রথমে বিকল্প সড়ক হিসেবে তবলছড়ি বাজারের ফুটব্রীজটি ব্যবহারের চিন্তাভাবনা করা হয়েছিল।

পরে জনদুর্ভোগ বিশেষ করে পর্যটকদের কথা মাথায় রেখে বিকল্প সড়ক তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কারণ তবলছড়ি এলাকা থেকে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মরত, তা ছাড়া এই পথ দিয়ে বিজিবি, ডিজিএফআই ও পর্যটন কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা ছাড়াও জেলা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ নিয়মিত যাতায়াত করেন। তবে বিকল্প সড়ক তৈরির জন্য জায়গাটি খুবই সংকোচিত তারপরও বিকল্প না বানিয়ে উপায় ছিলনা তাই আমরা অনেক কষ্ট করে কাঠ দিয়ে বিকল্প সেতুটি নির্মাণ করেছি। যদিও এত বিপুল সংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও যানবাহনের সেতুটি নিতান্তই ছোট হয়েছে, তবে এর চেয়ে আর ভালো কিছু করার ব্যবস্থা ছিল না। ইতোমধ্যে বিকল্প সেতুটি জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলী জানান, এখন আমরা মূলসেতুৃ নির্মাণের কাজে হাত দেব। তিনি জানান, আগামী ৪/৫ মাসের মধ্যে ব্রীজ নির্মাণ কাজ শেষ করে জনগণের উদ্দেশ্যে খুলে দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, দেশ বিদেশে খ্যাতি পাওয়া রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু পর্যন্ত পৌঁছার জন্য দীর্ঘবছর এটিই ছিল একমাত্র পথ। সম্প্রতি আসামবস্তি দিয়ে এলজিইডির মাধ্যমে একটি সড়ক নির্মিত হলেও পর্যটকদের কাছে এই সড়কটি তেমন একটা পরিচিতি পায়নি। অথচ যারা পর্যটন শহর রাঙামাটিতে বেড়াতে আসেন তারা পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্স এবং পর্যটন সেতুটি এক নজর না দেখে যেতে চান না। তাই তিন দশক আগে পর্যটনের ঝুলন্ত সেতুটি নির্মাণের সময়ই তবলছড়ি কবরস্থান সংলগ্ন সেতুটি এবং বাজার সংলগ্ন সেতুটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। কবরস্থান সংলগ্ন সেতুটি পরে ভরাট করা হলেও দীর্ঘসূত্রিতার বেড়াজালে এই সেতুটির কাজ এতদিন শুরু হয়নি।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে বিকল্প সড়কটিও বেশ মজবুত করে করা হচ্ছে। তবে এই সড়ক দিয়ে ভারি যানবাহন চলতে দেওয়া ঠিক হবে না। জিপ সিএনজি ও মোটর সাইকেল এর মতো হালকা যানবাহন সহজেই পারাপার করতে পারবে।  সূত্র জানায় ব্রীজটি দৈর্ঘ হচ্ছে ৭০ ফুট এবং প্রস্থ হচ্ছে ৩৪ ফুট। পথচারীরা যাতে অনায়াসেই এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে পারে তাই পরিকল্পনায় ১০ ফুট ফুটপাত রাখা হয়েছে, বাকি ২৪ ফুট রাস্তা থাকবে। দুই ধার ঘেসে ৫ ফুট করে মোট ১০ ফুট ফুটপাত রেখে ডিজাইন করা হয়েছে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান