অশ্রুসিক্ত নয়নে জেলা প্রশাসককে বিদায় সংবর্ধনা দিল সরকারি শিশু সদন

60

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
আবেগঘন পরিবেশে অশ্রুসিক্ত নয়নে জেলা প্রশাসককে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছে রাঙামাটির সরকারি শিশু সদনের পোষ্য শিক্ষার্থীরা। সোমবার রাঙামাটির বিদায়ী জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ- ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আয়োজিত ব্যাডমিন্টেন টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে শিশু সদনে গেলে সেখানে একই সাথে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনাও প্রদান করা হয়। সংবর্ধনাশেষে বিদায় বেলায় শিশু শিক্ষার্থী আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলে। তারা ডিসিকে আরো কিছুদিন রাঙামাটি থেকে যাওয়া আব্দার করতে থাকে।
জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো: ওমর ফারুকে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিদায়ী সংবর্ধনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলাপ্রশাসক নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩ বছর জেলা প্রশাসক হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেছি এটাই আমার বাড়ি। আমি রাঙামাটির মাটি ও মানুষের সাথে নিবিড় সুম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি সব সময়। তিনি বলেন দীর্ঘ সময় কাটানো এ এলাকা ছেড়ে থাকতে আমারও কষ্ট হবে, তবুও চাকরির নিয়মে চলে যেতে হবে। কিন্তু আমি যেখানেই থাকি না কেন, রাঙামাটিকে খুব মিস করব, রাঙামাটির কোনো উপকারে আসলে নিজেকে ধন্য মনে করব।

এ সময় বক্তারা বলেন, কেবল প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা হিসেবে নয়, জেলাপ্রশাসক সাধারণ মানুষের সুখে দুঃখে পাশে থেকে সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দুর্যেগে দুর্ভোগে তিনি সবার মন জয় করে নিয়েছেন। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় রাতের আঁধারে সাধারণ মানুষের ঘরে খাবার পৌছে দেয়া, সপ্তাহে প্রতি বুধবার গণশুণানি করা, গরীব অসহায় দু:স্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিজের হাত বাড়িয়ে দেয়াসহ নানা কারণে তিনি মানুষের কাছে প্রিয় হয়ে উঠেছেন।

এ সময় শিশু সদনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের উদ্দ্যেশে মান পত্র পাঠ করতে যাওয়ায় সদ্য এইচএসসি পাশ করা শিক্ষার্থী মালা আক্তার কান্না করতে করতে মানপত্র পাঠ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো: ওমর ফারুক জানান, সুযোগ পেলেই জেলা প্রশাসক মহোদয় এই অনাথ বাচ্চাদের কাছে আসতেন সময় কাটাতেন, তাই বাচ্চারাও তাকে আপন করে নিয়েছে। চাকরি জীবনে এরকম কর্মকর্তা খুব কমই দেখেছি। শিশু সদনের উপ তত্বাবধায়ক আবদুর রশিদ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মেয়েদের পরিধেয় সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়া স্কাউটের ২টি কাব দল গঠন করে দেন এবং স্কাউট ড্রেস দেয়ার ঘোষণা দেন। রাঙামাটি শিশু সদনে গরীব অনাথ ও এতিম শিশুরা লেখাপড়া করে, বর্তমানে সেখানে ১৭৫জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত: গত ২৮ জানুয়ারী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদকে খাদ্য মšণালয়ে বদলি করা হয়, নতুন জেলা প্রশাসক হিসাবে নিয়োগ পান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।