আওয়ামী লীগের ১৪ দল গঠনের নেপথ্য কথা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার

479

 

মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জি: আবুল হোসেন আবু

 

মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জি: আবুল হোসেন আবু- দৈনিক রাঙামাটি: ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৩৭ আসন পেয়ে নিরঙ্কুষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতঃ সরকার গঠন করে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ মিত্র খুঁজতে থাকে। ঐ সময়ে আমার সাথে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের উঠা-বসা ছিল। ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বাম ১১ দলীয় জোট এর রাজনীতি কিছুটা হলেও সরগরম ছিল।

আমি তখন ১১ দলীয় জোটের গণফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। শেখ সেলিম সাহেব আমাকে বললেন, আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছেন ড. কামাল সাহেবের সাথে আলোচনা করে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে একটি রাজনৈতিক জোট গঠন করার জন্য। এ ব্যাপারে ড. কামাল হোসেন এর সাথে শেখ সেলিম সাহেব আলোচনা করতে চান। সেলিম সাহেবের অনুরোধে ড. কামাল হোসেনকে ২বার ঈড়হারহপব করার চেষ্টা করলাম, শেখ সেলিম সাহেবের সাথে আলোচনা করার জন্য; ড. কামাল হোসেন সাহেব তাতে তেমন সারা দিলেন না। তৃতীয় বার ড. কামাল হোসেন সাহেবকে আওয়ামী লীগের সাথে জোট বাঁধার ব্যাপারে শেখ সেলিমের সাথে আলোচনায় বসতে রাজী করাতে সক্ষম হলাম।

নির্ধারিত তারিখে ও সময়ে আমি শেখ সেলিম সাহেবকে নিয়ে ড. কামাল হোসেন এর অফিসে গেলাম। জোট গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা হলো। আলোচনায় ড. কামাল হোসেন, শেখ সেলিম ও আমি। ড. কামাল হোসেন জোট গঠনে রাজী হলেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে গণফোরাম অফিসে আলোচনার ধারাবাহিকতায় ড. কামাল হোসেন এর নেতৃত্বের ১১ দল, জাসদ (ইনু), ন্যাপ (মোজাফফর) ও আওয়ামী লীগ মিলে ১৪ দলীয় জোট গঠন করা হলো।

জোট গঠন করার আগে শেখ সেলিম সাহেবের বাসায় যখন যেতাম তখন তিনি আমাকে ড্রয়িং রুমে বসতে দিতেন না, আমি তাঁর খুবই কাছের লোক সম্ভবত: এমনটা দেখানোর জন্য সরাসরি নিয়ে যেতেন তাঁর বেডরুমে। যেখানে বসে চা চক্রের সাথে সাথে একান্তে আলোচনা হতো।


জোট গঠনের পর ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গেলে ঐ সরকারের শেষের বছর শেখ সেলিমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যখন তাঁর বাসায় গেলাম তিনি আমার সাথে বারান্দায় দাঁড়িয়ে কথা বলে বিদায় করে দিলেন, বসতেও বললেন না, তিনি এমন ভাব দেখালেন আমাকে যেন চিনতেই তাঁর কষ্ঠ হচ্ছে।পরে এই ভেবে চুপ রইলাম যে, বাংলাদেশের বেশীরভাগ রাজনীতিক তো এমন মনোভাবাপন্ন হয়েই থাকেন। তবে মনে রাখলাম, রাজনীতিতে দেশপ্রেম ও শিষ্টাচার বলতে কিছু থাকবেনা।

লেখক- সভাপতি বেঙ্গল জাতীয় কংগ্রেস(বিজেসি)

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো অফিস। ১৭ ডিসেম্বর ২০১৬