আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একশ’একতম জন্মদিন

314

॥ রাঙামাটি রিপোর্ট ॥
আজ বুধবার (১৭ মার্চ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একশ’ একতম জন্মদিন। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত এই নেতা ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধুর জন্মের এই দিনটি যুগপথভাবে জাতীয় শিশু কিশোর দিবস হিসাবেও উদযাপিত হয়ে থাকে। ২০২০ সালটি ছিল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী, কিন্তু বিশ্বব্যপী করোনা পরিস্থিতির কারণে জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালায় ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ায় শতবার্ষিকী উদযাপনের কর্মসূচি আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছে। দিবসটি ঘিরে আজ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় পালন করা হবে। ‘চিরন্তন বঙ্গবন্ধু’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠানমালা মালাসহ আজ সরকারি ও বেসরকারিভাবে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এই বিশেষ দিবসটি পালন ছাড়াও, বছরজুড়ে শতবার্ষিকীর কর্মসূচি উদযাপন করা হবে।

বাঙালি জাতির হাজার বছরের লালিত স্বাধিকারের স্বপ্ন-আকাক্সক্ষা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর মাধ্যমেই বাস্তব রূপ পেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মাত্র ৫১ বছর বয়সেই জাতিকে উপহার দিয়েছিলেন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। জাতি আজ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে তার মহানায়ককে। উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপন করবে তার ১০১তম জন্মদিন।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। তার নীতি ও আদর্শ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে পড়ুক, গড়ে উঠুক সাহসী, ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতৃত্ব। বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম। ছাত্রজীবনে রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে শোষণ-বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রণী হয়ে ওঠেন তিনি। পাকিস্তানি জান্তার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জীবনের বড় একটি সময় কারাগারেই কাটাতে হয়েছে তাকে। কিন্তু এ দেশের শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধে বারবার জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লড়ে গেছেন তিনি। তার বজ্র হুংকারে বারবার পিছু হটেছে পাকিস্তানি শাসকেরা। মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন তিনি। শেখ মুজিব হয়ে উঠেছিলেন এ দেশের মানুষের শেষ কথা, শেষ আশ্রয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪০ সালে সর্বভারতীয় মুসলিম ছাত্র ফেডারেশনে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ১৯৪৬ সালে তিনি কলকাতা ইসলামিয়া কলেজ (বর্তমানে মওলানা আজাদ কলেজ) ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

বঙ্গবন্ধু ১৯৪৯ সালে তৎকালীন আওয়ামী মুসলিম লীগের পূর্ব পাকিস্তান শাখার যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে তিনি পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের টিকেটে ইস্ট বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আজীবন সোচ্চার এই অবিসংবাদিত নেতাকে রাজনৈতিক জীবনে বহুবার কারাবরণ করতে হয়।
তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬-দফা ও পরবর্তীতে ১১ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বঙ্গবন্ধু উপাধি লাভ করেন। তাঁর সাহসী ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ধাপে ধাপে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে থাকে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জিত হলেও তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর না করে বাঙালি জাতির ওপর নানাভাবে নির্যাতন শুরু করে। অবশেষে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা অনুসারে তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালীর বহু আকাঙ্খিত বিজয় ও স্বাধীনতা অর্জিত হয়। বিংশ শতাব্দীতে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যারা বিশ্বনন্দিত নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাদের অন্যতম।

সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিরামহীন সংগ্রামে অবদান রাখার জন্য তিনি বিশ্বশান্তি পরিষদের জুলিও কুরি পদকে ভূষিত হন। বিবিসি’র এক জরীপে তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী নির্বাচিত হন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত স্বাধীন বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু যখন বিভিন্নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ করতে শুরু করেন ঠিক সেই মুহূর্তে স্বাধীনতা যুদ্ধে পরাজিত শক্তি ও কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর বিরুদ্ধে ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র শুরু করে এবং ওই ষড়যন্ত্রেরই অংশ হিসেবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তাঁর ধানমন্ডির বাসভবনে কতিপয় বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ তিনি নিহত হন।