আজ বিশ্ব মান দিবস এবারের- প্রতিপাদ্য ‘গ্রহকে মান দিয়ে রক্ষা করা’

31

॥ আনোয়ার আল হক ॥
আজ ৫১তম বিশ্ব মান দিবস। পণ্য এবং সেবার মানের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী এই দিবসটি পালন করা হয়। মূলত পণ্য এবং সেবার মান বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মান উন্নয়নের প্রতি কর্তৃপক্ষ, উদ্যোক্তা এবং ভোক্তাদের সচেতন করার উদ্দেশ্যেই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী কর্মরত বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের অবদানের প্রতি সম্মান জানানো হয়।

গত অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে প্রতি বছর ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে। ইতিহাস বলছে ১৯৪৬ সালের ১৪ অক্টোবর লন্ডনে ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান নির্ধারক সংস্থার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতেই ‘১৪ অক্টোবর’ তারিখে মান দিবস পালন করা হয়। তবে ‘১৯৪৬ সালে ২৫টি দেশ একমত পোষণ করলে (International Organization for Standardization) আইএসও প্রতিষ্ঠিত হয় আরো পরে এবং আইএসও প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭০ সাল থেকে তাদের তত্ত্বাবধানেই দিবসটি পালন করা হয়। তারা প্রতি বছর এই দিবসের জন্য প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করে থাকে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে Protecting the planet with standards বা ‘গ্রহকে মান দিয়ে রক্ষা করা’।

এবারে দিবসটির থীম নির্ধারণ বিষয়ে আইএসও বলেছে, Over the last century human and large-scale industrial activities of our modern civilization have added to the earth’s natural greenhouse gases. They negatively impact our climate and with it all forms of life. At the same time rapid population growth and broad urbanization call for the responsible use of limited resources.

যার ভাবার্থ দাঁড়ায়, আধুনিক সভ্যতার প্রভাবে গত শতাব্দীতে আমাদের অধুনা জীবনযাত্রা ও দ্রুত শিল্পায়নের কারণে পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্রীণহাউস গ্যাস যুক্ত হয়েছে। এই গ্রীণহাউজ গ্যাস আমাদের জলবায়ু এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিস্তৃত নগরায়ন আমাদের দায়িত্বশীলতাকে এবং এই কাজগুলোর সংকোচনে আহ্বান জানাচ্ছে। সেকারণে আমাদের গ্রহকে নিরাপদ করার লক্ষ্যে এবারে এই প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে আইএসও এ বছর প্রোটেকটিং দ্যা প্লানেট উইথ স্ট্যান্ডার্ডস’ বিষয়ের উপর বিশ্বব্যপী পোস্টার প্রতিযোগীতার আয়োজন করেছে। বিজয়ীর জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে ১,৫০০ সুইস ফ্র্যাঙ্ক, বাংলাদেশি টাকায় যার মূল্য প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।

বলার অপেক্ষা রাখে না যে, প্রতিনিয়ত অনেক প্রতিষ্ঠান মানহীন খাদ্যপণ্য উৎপাদন করে বাজারে ছাড়ছে। রাষ্ট্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর নিয়মিত বাজার তদারকিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নকল ও ভেজাল পণ্য তৈরি এবং ওজনে কারচুপিসহ নানা অনিয়ম ধরা পড়ছে। মানহীন খাদ্যপণ্য নিয়ে আতঙ্কে থাকছেন ক্রেতারা। রাষ্ট্রায়ত্ত মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পণ্যের মান নির্ধারণ ও নিশ্চিত করার কাজ করে যাচ্ছে অবিরত। কিন্তু এরপরও পণ্যের মান নিয়ে নানা অভিযোগ উঠছে প্রতিনিয়ত। আর এটা শুধু আমাদের দেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বজুড়ে এ অবস্থা বিরাজমান।

বিএসটিআই মান নির্ধারণ করে দেওয়া সত্বেও অনেক খাদ্যপণ্যে তা অনুসরণ করা হয় না। এতে মানুষের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং অভিযোগের শেষ নেই। বর্তমানে ১৮১টি পণ্যের মান নিশ্চিত করা বিএসটিআইর জন্য বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে মাত্র ৭৬টি খাদ্যপণ্য। বাকি খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিত করা বিএসটিআইর জন্য বাধ্যতামূলক নয়। বাধ্যতামূলক পণ্যের বাইরে অন্য পণ্যের গুণগত মান সঠিক কি-না তাও অবশ্য বিএসটিআই যাচাই করে থাকে। তবে যেহেতু তাদের জনবল সঙ্কট রয়েছে তাই- শুধুমাত্র কেউ চাইলেই এ সেবা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।