আসন্ন পৌর নির্বাচন ঘিরে বান্দরবান আ’লীগে তোড়জোড় বিএনপি দোটানায়

322

॥ নুরুল কবির বান্দরবান থেকে ॥
বান্দরবান দুটি পৌর সভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারী। সে হিসেবে এ বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ঘোষণা হতে পারে এ দুটি পৌরসভার তফসিল। করোনা পরিস্থিতির কারণে এই তফশিল নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও বসে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে প্রার্থীদের তোড়জোড়।

দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যার যার অবস্থান থেকে লবিং শুরু করেছেন। তবে নিরবে এগুচ্ছে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তাদের মধ্যে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের পছন্দের কর্মীদের দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচার প্রচারনা। বর্তমানে বান্দরবান পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইসলাম বেবী।

ক্ষমতাসীন দলের সাধারন সম্পাদক ও মেয়র হিসেবে টানা ৫ বছর সফলভাবে দায়িত্ব পালন করলেও নানা কারনে নেতাকর্মীদের সাথে কোন্দল সৃষ্ঠি হওয়ায় আগামী নির্বাচনে দলের একাধিক সিনিয়র নেতা মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন বলে শুনা যাচ্ছে। তাদেও মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান পৌর মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী, জেলা পরিষদ সদস্য ও দলের সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক লক্ষি পদ দাশ, জেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি সাদেক হোসেন চৌধুরী, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল ইসলাম, পৌর কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান খোকন, কাউন্সিলর সৌরভ দাশ শেখর ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তৌহিদুর রহমান চৌধুরী রাশেদের নাম।

বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ ইসলাম বেবী বলেন, দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। দল যদি চায়, তিনি ২য় বার নির্বাচনে অংশ নিবেন। নির্বাচনে তিনি পুনরায় বিজল লাভ করবেন এমনটি জানিয়েছেন বান্দরবানের এই পৌর মেয়র।

সম্ভাব্য প্রার্থী ও জেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সাদেক হোসেন চৌধুরী বলেন- আমাকে যদি দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় আমি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্ধিতা করতে প্রস্তুত। আমি ৯১ সাল থেকে মুজিবার্দশের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে দলের সুসময়ে দুঃসময়ে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি একজন আদর্শিক কর্মী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতার মতো যৌক্তিক দাবীদার। বাকীটা দলের নীতি নির্ধারনী কমিটির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল। সাধারণ নেতাকর্মীদের যেমন আমার প্রতি সমর্থন রয়েছে, পৌরসভার নাগরিকদের সাধারন ভোটারদেরও আমার প্রতি বিপুল ভালবাসা রয়েছে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। সব মিলিয়ে আমাকে মেয়র হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জল ও বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারব, এটা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি।

সম্ভাব্য প্রার্থী ও জেলা পরিষদ সদস্য লক্ষী পদ দাশ বলেন- দীর্ঘকালের ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতা এবং বর্তমানে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভালোবাসা নিয়ে আসন্ন পৌর নির্বাচনে প্রার্থী হতে দল থেকে মনোনয়ন চাইব। আশা করি দল আমার অতীত রাজনীতি মূল্যয়ন করে আমাকে মনোনয়ন দিবেন। আর মনোনয়ন পেলে তিনি বিজয় লাভের জন্য শতভাগ আশাবাদী।
বান্দরবান পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র জাবেদ রেজা বলেন, এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। সময় আসলে বলব। আর প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি-সম্পাদক ও পৌর বিএনপির সভাপতি-সম্পাদকসহ গঠিত কমিটি সিদ্ধান্ত নিবে। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এদিকে জেলার লামা পৌরসভা নির্বাচনও একই সময়ে হওয়ার কথা রয়েছে। এই পৌরসভার আসন্ন নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চালাচ্ছেন প্রচারনা। বর্তমান মেয়র জহিরুল ইসলাম দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাধারণ জনগণের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেও সাথে সমন্বয় করে কাজ করে গেছেন। এবার নতুন আরো দুই প্রার্থীর নাম শুনা যাচ্ছে। উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি বিজয় কান্তি আইচ, সাধারন সম্পাদক প্রদীপ কান্তি দাশ এবং উপজেলা তাতীলীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন মনোনয়ন চাইবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।

তবে নমিনেশন প্রত্যাশা করলেও সবারই একই বক্তব্য ‘দল যদি মনোনয়ন দেয় তবেই নির্বাচন করবেন’। অথবা দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন।

এদিকে আসন্ন পৌর নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অংশ গ্রহণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোন সিদ্ধান্ত না নিলেও প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে পৌর বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী এবং বিএনপির র্শীষ নেতা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল কদ্দুছ এর নাম শুনা যাচ্ছে। প্রথমজন বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও বিএনপি নেতা আবদুল কুদ্দুস স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করবেন এমন আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন- পৌর এলাকার মানুষ আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন। মানুষ চাইছে দলের বাইরে স্বতন্ত্রভাবে আমি নির্বাচনে অংশ নিই। সুষ্টু নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জেলা বিএনপির এই শীর্ষ নেতা জানান- নির্বাচন সুষ্টু হবে এবং জয়ের ব্যপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। উল্লেখ্য,বান্দরবান পৗেরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ২৮হাজার ৯৩৭ এরমধ্যে পুরুষ ১৬হাজার ৩৬২ এবং মহলিা ভোটার ১২ হাজার ৫৭৫ জন।