উন্নয়ন বোর্ড’র টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ, সিডিউল বিক্রির মেয়াদ বাড়লো

497

tender-pic-2

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অধীন প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের দরপত্র সিডিউল বিক্রি নিয়ে ঠিকাদারদের চাহিদার মুখে সময় বাড়িয়ে দিয়েছে উন্নয়ন বোর্ড।

এ দিকে একটি সিন্ডিকেট এই কাজগুলো নিয়ে গোলযোগ পাকিয়ে সাধারণ ঠিকাদারদের নির্বিঘœ অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্থ করছে বলে অভিযোগ করেছে বেশ কিছু ঠিকাদার। তবে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গোচরে নেই বলে জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুজিবুল হক।

নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, আমরা চাই নির্বিঘেœ সকল ঠিকাদার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করুক। সে কারণেই আমরা যখন দেখলাম ঠিকাদারেরা আগ্রহভরে সিডিউল কিনছেন, তাদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই আমরা ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সিউিল বিক্রির সময়সীমা বৃদ্ধি করেছি।

তিনি বলেন, অনেক দুর দুরান্ত থেকে ঠিকাদারেরা সিডিউল কিনতে আসবেন এমন খবরও আমাদের কাছে আছে। তা ছাড়া এটি চলতি মওসুমে প্রাথমিক টেন্ডার কার্যক্রম এর পরে আরো অনেক কাজ রয়েছে, সবার অংশ গ্রহণের সুবিধার্থে আমরা সময় বাড়িয়ে তা মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই সবাইকে জানিয়ে দিয়েছি।

এদিকে এই কাজগুলো নিয়ে একটি সিন্ডিকেট ঠিকাদারদের সিডিউল কিনতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে ঠিকাদারেরা। তারা জানায় নির্দিষ্ট কয়েকটি গ্রুপের সিডিউল কাউকে কিনতে দেওয়া হয়নি। এই সিন্ডিকেট কাজগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়ার পায়তারা করছে। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন দলের লোকজনও রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

ঠিকাদাররা অভিযোগ করেন এই প্রক্রিয়ায় বোর্ডের প্রকৌশল শাখার কেউ কেউ সহযোগীতা করছে বলে আমরা জানতে পেরেছি।

উন্নয়ন বোর্ডে খবর নিয়ে জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে রাঙামাটি পার্বত্য জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ২১ গ্রুপ উন্নয়ন কাজের একটি টেন্ডার আহবান করে বোর্ড। যার দরপত্র বিজ্ঞপ্তি নং-২/ ২০১৬-১৭। ২১ নভেম্বর আহবান করা টেন্ডারের সিডিউল (দরপত্র) বিক্রির শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। এই কাজের সিডিউল বিক্রিতে ঠিকাদারদের আগ্রহ লক্ষ করে সময় বাড়িয়েছে উন্নয়ন বোর্ড।

এদিকে ঠিকাদারদের একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, সিন্ডিকেট করে কাজ নিয়ে সমঝোতা চেষ্টার অংশ হিসেবে একটি সিন্ডিকেট সিডিউল কিনতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় ঠিকাদারদের চাপের মুখে সময় বাড়িয়েছে উন্নয়ন বোর্ড। তাদের অভিযোগ ক্ষমতাসীনদের একটি গ্রুপ এই কাজ ভাগাভাগি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত রয়েছে।
তবে সরকারি দলের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলা হলে তারা সবাই জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে তারা অবগত নন।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় কেউ ছাত্রলীগের নাম বিক্রি করলে সেই দায় দায়িত্ব তারা নেবেন না। তিনি জানান কারো বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজাতীয় ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেবজ্যোতি চাকমা বলেন, টেন্ডারে যাতে ঠিকাদাররা সবাই অংশ নিতে পারেন সেজন্য আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে উন্মুক্তভাবে সিডিউল বিক্রির অনুরোধ করেছি। তাই সিডিউল জমা দেয়ার শেষ তারিখ ৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১১ ডিসেম্বর করা হয়েছে বলে আমাদের জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক ঠিকাদারেরা জানান, কাজ ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়ায় সিডিউল জমা দেয়ার সময় বাড়ায় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার সকাল থেকে একটি গ্রুপ উন্নয়ন বোর্ডের অফিস ভবনে পাহারা বসানোর প্রেক্ষপটে অনেক ঠিকাদার সিডিউল কিনতে পারেননি।

টেন্ডার সিডিউল বিক্রি নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৗেশলী জানান, এমন অভিযোগ তিনি পাননি। তিনি বলেন, বাইরে কেউ কোনো প্রক্রিয়া করলে সেটা তো আমার জানার বিষয় নয়। কার্যালয়ে কেউ বাধা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।