একান্ত সাক্ষাৎকারে জাহাঙ্গীর কামাল : পাহাড়ে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ঐক্য ও সমঝোতা

514

p..8

রাঙামাটি রিপোর্ট, ১৩ জানুয়ারি ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও দৈনিক রাঙামাটির প্রকাশক জাহাঙ্গীর কামাল বলেছেন, পিছিয়ে পার্বত্য জনপদে গতিশীল উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ঐক্য ও সমঝোতা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পাহাড়ের উন্নয়নে যে ভাবে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে এ এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসতে খুব বেশী সময় লাগবে না। কিন্তু উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে যদি এর সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠী আন্তরিকভাবে সম্পৃক্ত না হয়, তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে নানামুখি সমস্যা দেখা দেয় এভাবেই কাজের মান কমে যাওয়াসহ প্রকল্পে ধীরগতি দেখা দেয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ৪০তম বর্ষপূর্তি ঘিরে দৈনিক রাঙামাটি কে দেওয়া একান্ত সাক্ষৎকারে প্রথম শ্রেণির এই ঠিকাদার বলেন, পাহাড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং বাস্তবসম্মত। বিশেষ করে গত এক বছরে রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সরকার পাহাড়ে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে তা এই অঞ্চলের মানুষ আজীবন কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড শুধু গতানুগতিক উন্নয়নের ধারায় না গিয়ে শিক্ষা, আর্থ সামাজিক উন্নয়ন, কৃষি, সেচ এবং স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশনের ক্ষেত্রে যে উন্নয়ন সাধন করেছে। বিশেষায়িত এবং স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান না হলে হয়তো এই ধারা অব্যহত রাখা কঠিন হতো।

জাহাঙ্গীর কামাল আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ পাহাড়ের উন্নয়নে বিশেষভাবে সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ, গণপূর্ত ও স্কুল ফ্যাসেলিটিজ বিভাগ গত কয়েক বছরে যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করেছে, তা দেখে জনমনে আশার সঞ্চার হয়েছে। কিন্তু চাঁদাবাজি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জনবলের জীবনহানির আশঙ্কা প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে প্রধান অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। তিনি মত প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক সন্দেহ এবং অবিশ্বাস থেকেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। এর জন্য প্রয়োজন সকল পক্ষের মধ্যে আলোচনা এবং সমঝোতা। তিনি বলেন, পাহাড়ে বসবাসরত সকল জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের নিয়ে যদি মাঝে মাঝেই মত বিনিময় সভা, গোল টেবিল বৈঠক এবং মতামত গ্রহণ করা যায়, এই দুরত্ব অনেকাংশেই কমে যাবে। তবে সে ক্ষেত্রে সমঝোতা আনার জন্য রাজনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকান্ড আরো গতিশীল এবং জাবাদিহিতার আওতায় আসবে। তবে সুষম উন্নয়নের জন্য তিনি পাহাড়ের উন্নয়নে একটি মাস্টার প্লান তৈরি এবং উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন।

পোস্ট- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান