করোনার প্রাদূর্ভাবে সর্বশ্ব হারালেন পোল্ট্রি ব্যবসায়ীঃ ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি

385

॥ মাহাদি বিন সুলতান ॥

বৈশ্বিক করোনা (কোভিড-১৯) ভাইরাস মোকাবেলায় সারা দেশের ন্যায় পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে ও চলছে অঘোষিত লকডাউন।এদিকে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চলমান অঘোষিত লকডাউনে পোল্ট্রি মুরগিকে পর্যাপ্ত খাবার ও ঔষধ সরবরাহ করতে না পারায় সর্বশ্ব হারিয়েছে মো. আব্দুল মজিদ। এর ফলে তার ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা যায়। তিন ছেলে ও এক কণ্যা সন্তানের জনক আব্দুল মজিদ পাগল প্রায় হয়ে প্রতিবেদককে তার ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ তুলে ধরেন।

বুধবার (২২শে এপ্রিল) সকাল ১০ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নানিয়ারচর উপজেলার বগাছড়ি গ্রামের পোল্ট্রি মুরগীর খামারে মারা গেছে ১কেজি ওজনের প্রায় ১৪০০ শত মুরগীর বাচ্চা।

এ ব্যপারে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী আঃ মজিদ বলেন, “আমি বেশ কিছু দিন ধরে পোল্ট্রি ব্যবসা করে আসছি, কিন্তু গত ২৬ শে মার্চ থেকে লকডাউন ঘোষণার পর পর্যাপ্ত মুরগীর বাঁচ্চার খাবার সংগ্রহ করতে পারছিলাম না।এতদিন যদিও কোন ভাবে খাবার সংগ্রহ করে মুরগীর খাদ্য সরবারাহ করেছি, কিন্তু খাদ্য স্বল্পতার কারনে খামারে জ্বর, সর্দিকাশি ও গাম্বুরাসহ নানা রোগ ব্যাধি দেখা দেয়।
ফলে গত সপ্তাহে দেড় কেজি ওজনের প্রায় ১২০০ শত মুরগী এবং গত রাতে (২১শে এপ্রিল) ১কেজি ওজনের প্রায় ১,৪০০শ মুরগী মারা যায়।”

তিনি জানান, নানিয়ারচর উপজেলার সাথে অন্য উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে তিনি দিক-বিদিক ছুটে যান পোল্ট্রি খাবারের সন্ধানে। কিন্তু যানবাহন না চলায় খাদ্য ও জরুরী ঔষুধ সরবারাহ করতে না পেরে খাদ্য ও ঔষুধের অভাবে ২৬০০ শত মুরগী মারা যায়। এতে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান আঃ মজিদ।

জরুরী প্রয়োজনে যানবাহন ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে এমনটা জানালে তিনি বলেন,  আমি খাবার ও ঔষুধ সরবরাহের জন্য সিএনজি ড্রাইভারদের কে বললে তারা করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে বাঁচতে চলাচলে অনেক বাধা রয়েছে বলে এড়িয়ে যান। ফলে আজ তাকে সর্বশ্ব হারাতে হলো।

তিনি অশ্রুঝরা কন্ঠে বলেন, আমি অনেক গরীব, আমি কৃষি ব্যাংক, একটি বাড়ি একটি খামার এবং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। আমার ২ ছেলেও যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেছে।
এখন এই করোনা পরিস্থিতিতে আমার খামারের ২৬০০ মুরগী মারা গিয়ে প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমতাবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের যদি সহায়তার দৃষ্টি না দেয় তো আমার ছেলে মেয়ে নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হয়ে দাড়াঁবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ আহসান হাবিব বলেন, ” আজ বিকেলে বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। মজিদ সাহেব আগে আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। সরেজমিনে তদন্ত না করে সঠিক বলতে পারছি না কি হয়েছে। তবে খাদ্যাভাব ছাড়াও এটা কোন ভাইরাসের সংক্রামণ হতে পারে।”