করোনার ভীতিতে রাঙামাটি হাসপাতালে যাচ্ছে না রোগীরা

434

॥ শহিদুল ইসলাম হৃদয় ॥
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে বারবার করোনা আক্রান্তদের খবর আসায়  এ হাসাপাতাল নিয়ে ভীতি দেখা দিয়ে স্থানীয়দের মনে। এই ভীতির কারণে এখন চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতাল পরিহার করে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে ভীড় জমাচ্ছে স্থানীয়রা। এমন তথ্য জানিয়েছে প্রাইভেট ক্লিনিকের লোকজন ও স্থানীয় রুগীরা।

সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশনায় সারাদেশের ন্যায় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন বেডসহ করোনা চিকিৎসার আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করে রেখেছিলো। কিন্তু জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত ৪ জন রোগীর তালিকায় জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্স থাকায় ধীরে ধীরে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমতে শুরু করে।

কারণ পরপর রিপোর্টে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের একজন ডাক্তার সহ একাধিক নার্সের শরীরে করোনা শনাক্ত হওয়ায়। পরে ধারাবাহিকভাবে বেড়ে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের প্রায় ২৩ জন ডাক্তার ও নার্স করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় বর্তমানে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল করোনার হটস্পর্টে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা শূন্যর কাতারেই বলা চলে।

জেনারেল হাসপাতাল রাঙামাটির প্রথম করোনার উৎপত্তিস্থল হওয়ার দরুন এখানে চিকিৎসা নেওয়ার কথা শুনলেই মানুষের গা শিউড়ে উঠে। অন্যদিকে শহরের রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি, বনরুপার বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল গুলোতে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ সহ রিতিমতো ভীড় করছে স্থানীয়রা ।

ফলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এবং এসব ক্লিনিক ও হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার দৃশ্য কোথাও চোখে পড়েনি।

এবিষয়ে সূর্যের হাঁসি নেটওয়ার্ক রাঙামাটির সূর্যের হাঁসি ক্লিনিকের ম্যানেজার মোঃ ওমর ফারুকের সাথে মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, আগের তুলনায় বর্তমান করোনা কালীন সময়ে আমাদের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সপ্তাহে ১ দিনে যে টিকা দান কর্মসূচি আমরা করে থাকি তা দ্বিগুণ হারে বেড়ে গেছে।

যেমন আগে আমরা এক সপ্তাহে ২০-২৫ জন শিশুকে টিকা প্রদান করতাম। বর্তমানে এক সপ্তাহে টিকাদান বেড়ে ৩৫-৪০ জনে পৌঁছেছে। এছাড়াও মাতৃত্বকালীন সেবা সহ অন্যান্য সেবা সমূহের হারও বেড়েছে।
আপরদিকে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে পূর্বে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীরাও আমাদের এখানে আসাতে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।