কাউখালীতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমুল্যে বৃদ্ধিতে জনমনে ক্ষোভ

237

॥ মো. ওমর ফারুক ॥

রাঙামাটির কাউখালীতে নিত্য প্রয়োজনীও দ্রব্যমুল্যের উর্দ্বোগতির কারনে সব কিছুর দাম বৃদ্বির ফলে জন সাধারণের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বেতবুনিয়া বাজার, নতুন পাড়া বাজার,আমতল গোধার পাড়, ঘাগড়া বাজার, উপজেলা সদর, বেতছড়ি, ঘিলাছড়ি, তালুকদার পাড়া, কচুখালী, ছেলাছড়া,কলাবাগান, কলমপতির পোয়াপাড়া বাজার, নাইল্যাছড়ি, মাঝের পাড়া, ফটিকছড়ি এলাকার বার্মাছড়ি বাজার, ডাবুয়া বাজার সব বাজারে নিত্য প্রয়োজনীও দ্রব্যমুল্য উর্দ্বোগতির কারনে সব দ্রব্যমুল্যের দাম বেড়ে গিয়েছে। দ্রব্যমুল্য বৃদ্বির কারনে সাধারন মানুষজনের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের ক্ষোভ এবং আক্ষেপ। সাধারন লোকজন এখন দিশেহারা।

সরেজমিনে দেখা যায় এসব এলাকার শ্রমজীবী থেকে শুরু করে সকল শ্রেণী পেশার লোকজনের মাঝে এই নিত্য প্রয়োজনীও দ্রব্য মুল্য বৃদ্বির কারনে মানুষের মনে অশান্তি। কারন তাদের দৈনিক আয়ের সাথে ব্যায়ের কোন মিলই নেই ? সাধারন মানুষ পড়েছে চরম ভোগান্তির মধ্যে। জৈনিক আবুল মিয়া, সুজন চাকমা, লাব্রাচাই মারমা,মিঠুন মারমা,শর্মিস্টা বড়–য়া এরা বলেন যে হারে প্রতি দু একদিন পরপর খাওয়ার জিনিসপত্রের দাম বেড়ে চলেছে তাতে আমাদের তো অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আমরা সাধারন গরীব অসহায় মানুষ আমাদের যে পরিমান আয় তাতে ব্যায়ের সাথে কোন মিল নেই বলতে গেলে নুন আনতে পানতা পুরোয়। সরেজমিনে এসব বাজারের বেশ কিছু দোকানে গিয়ে দেখা যায় চাল (মোটা) প্রতি বস্তা ১৯৫০(সর্বনি¤œ) এর উপরে মোটা চাল প্রতি বস্তা -২২০০ শত টাকা, আতপ চাল প্রতি বস্তা-১৬৫০টাকা (সর্বনি¤œ) এর উপরে আতফ চাল প্রতি বস্থা-১৮০০-২০০০টাকা পর্যন্ত, সয়াবিন তৈল প্রতি লিটার (বোতলজাত)- ২০০/২০৫টাকা, খোলা সয়বিন তৈল প্রতি লিটার-২০৫ টাকা, চিনি প্রতি কেজি-৭৫/৮০ টাকা, পিয়াজঁ প্রতি কেজি-৪০/৪৫ টাকা,আটা প্রতি কেজি-৫০ টাকা করে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীও দ্রব্যমুল্য উর্দ্বোমুখি এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীও দ্রব্যের মুল্যও বেশী বলে মনে হয়েছে।

তাছাড়া উপজেলা বিভিন্ন চা দোকানে গিয়ে দেখা গেছে অন্য চিত্র। গত ৪ জুন/২০২২ ইং তারিখ হতে প্রতিটি খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে কাউখালী বাজার স্থায়ী ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদের নতুন খাদ্য তালিকা প্রতিটি চা দোকানে টাংগিয়ে দেয়া হয়েছে। তাতে দেখা যায় পুর্বে পড়াটা ছিল ৫টাকা বর্তমানে ৭টাকা, রুটি ছিল ৫টাকা বর্তমানে ৭টাকা, দুধের চা ছিল কনডেন্স ৫টাকা বর্তমানে ৭টাকা, পাউডার দুধের চা ১০টাকা, ডাল বাজি প্রতি প্লেট ১৫টাকা, গরুর মাংস প্রতি প্লেট ১৪০টাকা, বয়লার প্রতি প্লেট (মুরগি) ৬০টাকা, দেশি মুরগি প্রতি প্লেট১২০টাকা,সবজি প্রতি প্লেট ২০টাকা,রান্না ডিম প্রতি পিছ ২৫টাকা করে নেওয়ার জন্য ব্যাবসায়ী পরিষদের সিদ্বান্ত দেন বলে সংশ্লিস্ট ব্যাবসায়ীরা জানান। এসব নিয়ে ব্যাবসায়ী এবং কাস্টমারদের (গ্রাহকদের) মাঝে দেখা দিয়েছে ব্যাপক দ্বন্ধ এবং ক্ষোভ। এ ব্যাপারে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন আরা সুলতানা বলেন আমরা সরকারীভাবে বিভিন্ন সময় এসব বাজার গুলিতে দ্রব্যমুল্যর উর্দ্বোগতি সহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে থাকি। তা ছাড়া কোন লোক বা গ্রাহক যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তাহলে আমরা সাথে সাথে প্রয়োজনীও আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো বলে তিনি জানান। এর পাশাপাশি আমরা বাজার মনিটরিং করেন বলেও তিনি জানান এবং প্রতিটি দোকানে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী দ্রব্যমুল্য তালিকা রাখার নির্দেশনা দেয়া আছে।

উপজেলার সচেতন মহল মনে করেন সরকারের উর্দ্বোতন বিভিন্ন প্রশাসন প্রতিদিন না হোক অন্তত সপ্তাহে একবার বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন বাজারের দোকানগুলিতে কঠোরভাবে অভিযান অব্যাহত রাখলে নিত্যপ্রয়োজনীও দ্রব্যগুলির হয়তো দাম কিছুটা হলেও ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে আসতো তা ছাড়া এসব ব্যবসায় যারা সিন্ডিকেট করে নিত্য প্রয়োজনীও দ্রব্যমুল্যের দাম বাড়িয়ে সাধারন মানুষকে বেকায়দায় ফেলে তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরী বলে সভাই মনে করেন।