কাপ্তাইয়ে লিচু চাষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে প্রান্তিক চাষীরা

253

॥ অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই ॥

কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন লিচুবাগানে গেলেই চোখে পড়বে গাছে গাছে লিচুর সমারোহ। মিষ্টি ও রসালো স্বাদের বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিভিন্ন জাতের লিচুর সমাহারে ভরপুর বাগান গুলো। তবে লিচুর জাতের মধ্যে বোম্বাই, কালিপুরী, চায়না-থ্রি এবং দেশী লিচুর সমারোহে ছেয়ে গেছে বাগান গুলোর গাছের ডালপালা।

রোববার কাপ্তাই উপজেলাধীন ওয়াগ্গা ইউনিয়নের সাপছড়ি, আগুনিয়াছড়া, বটতল, পাগলী পাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার লিচুবাগানে ঘুরে দেখা যায়,

বতর্মানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে লিচু পৌঁছাতে প্রস্তুত করছে চাষীরা। বেশীর ভাগ গাছের লিচুই মোটামুটি পরিপক্ক হয়েছে। তবে এখনো কিছু গাছের লিচু কাঁচা রয়ে গেছে। চাষীরা আশা করছেন অল্প সময়ে সেই লিচুগুলো পরিপক্ক হয়ে লাল রং ধারণ করবে। বিশেষ করে মৌসুমী ফল এই লিচু স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। তাছাড়া ভিটামিন-সি যুক্ত এই মৌসুমী ফলটি কমবেশী সবার কাছে জনপ্রিয়।

তাছাড়া কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকার কৃষকেরা এই মৌসুমী ফল এলাকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্রয় করছে। ফলে কেবল মৌসুমী ফলের চাষাবাদ করেই স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা।

কথা হয় কাপ্তাই ওয়াগ্গা সাপছড়ি সড়কের পাশে গড়ে ওঠা লিচু বাগানের মালিক চাষী সুজন তঞ্চঙ্গ্যার সাথে। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে লিচু সহ বিভিন্ন মৌসুমী ফলের চাষ করে ভালোই চলছে তার সংসার। বর্তমানে তার বাগানে লিচুর ব্যাপক ফলন হওয়াতে লাভবান হবে বলে আশা করছে সে। তিনি আরো জানান, বর্তমানে তার বাগানে উৎপাদিত লিচু বাইরে গিয়ে কোথাও বিক্রয় করতে হয়না বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারী ব্যবসায়ীরা এসে লিচু সংগ্রহ করে। এতে তার কষ্ট লাগছে এবং অনেক উপকার হচ্ছে। তবে বতর্মানে বৃষ্টিপাত অনান্য মৌসুমের তুলনায় কম হওয়াতে অনেক লিচু গাছেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানায়।

অপরদিকে, কথা হয় ওয়াগ্গা পাগলীমুখ পাড়ার আরেক সফল লিচুচাষী টোফেল তঞ্চঙ্গ্যার সাথে তিনিও জানায়, লিচুর ভালো ফলন হলেও পানির সমস্যায় ভুগছেন তারা। বিশেষ করে পাহাড়ের উচুঁতে গড়ে ওঠা বাগান গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি দিতে পারলে ফলন আরো ভালো পাওয়া যেতো। এছাড়া এবছর তার বাগানের বেশ কয়েকটি গাছে লিচুর ভালো ফলন পাওয়া গেলেও অপর কিছু গাছে ভালো ফলন আসেনি। তাই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত সে। তবে টোফেল জানান, পাহাড়ের কৃষকদের যদি সরকার কর্তৃক উন্নত মানের কিছু কৃষি সরঞ্জাম দেওয়া হয় তবে অনেক উপকার হবে তাদের।

এবিষয়ে কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ব্লকের উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেহ প্রতিবেদকে জানান, পাহাড়ী অঞ্চলের কৃষকেরা অনেক পরিশ্রমী। ভালো ফলন পাওয়ার জন্য তারা অনেক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমিও সবসময় চেষ্টা করি, তাদের কৃষিকাজে পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা করার জন্য। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন চাষীদের মৌসুমী ফল চাষে উদ্বুদ্ধ ও সহযোগীতা করা হয়। যার ফলে এলাকার চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত এই মৌসুমী ফল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। তাছাড়া এবার কাপ্তাইয়ের বিভিন্ন লিচুবাগানে ভালো ফলন এসেছে। আমি মনে করি, এতে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা লাভবান হচ্ছে।