কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ৭.৪ মেগাওয়াট

420

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

২০২০ সালের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ১০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তি থেকে উৎপাদনের লক্ষে ২০১৭ সালে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের উপর দিয়ে বহে যাওয়া প্রমত্তা কর্ণফুলী নদীর তীরে দেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শুরু করে সরকার। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে চালু হয় দেশের প্রথম এই নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে সৌর শক্তির মাধ্যমে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান,এটা কাপ্তাই বাঁধের পাশে নির্মান করা হয়েছে। কাপ্তাইয়ের চাহিদা মিটিয়ে জাতীয় গ্রিডে বিদু্যুৎ সরবরাহ করছে এই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটা পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।
এদিকে কাপ্তাই উপজেলার ৪নং কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বলেন, এটা আমার এবং আমার ইউনিয়নবাসীর জন্য গর্বের বিষয় যে, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আমার ইউনিয়নে অবস্থিত। তিনি বলেন, দেশের প্রথম পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পর কাপ্তাইয়ে দেশের প্রথম সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পও চালু হলো। এটি দেশের কাছে কাপ্তাইকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি দেশীয় সম্পদে পরিণত হওয়ায় যা স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত গর্বের।

সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে,বিদ্যুৎ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) বাস্তবায়নে পার্বত্য রাঙামাটি জেলার কাপ্তাইয়ে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাপ্তাই বাঁধের পাশেই এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি চালু করা হয়। ‘সোলার ফটোভোল্টাইক গ্রিড কানেকটেড পাওয়ার জেনারেশন প্লান্ট অ্যাট কাপ্তাই’ নামের এই প্রকল্পটির দাতাসংস্থা এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ১১১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পটি নির্মাণ করেছে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জেটটিই করপোরেশন। পুরো প্রকল্পে ৩১০ ওয়াট সম্পন্ন ২৪ হাজার ১২টি সোলার প্যানেল রয়েছে। রয়েছে ৩০ হাজার ওয়াট সম্পন্ন ২৪০টি ইনভার্টার। এর মধ্য দিয়ে সৌর শক্তি উৎপাদিত হচ্ছে ৭ দশমিক ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ, যা সরাসরি যোগ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে।

কাপ্তাই ৭.৪মগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন,এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক প্রথম অন গ্রিড সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। গত আগষ্ট মাসের ১ তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পিডিবিকে বুঝিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জনবল দিয়ে এটা পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরোও বলেন,কাপ্তাই সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আওতাধীন অবশিষ্ট ৫ একর জায়গাতে আরও ১.৫০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ স্থাপন সম্ভব।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আব্দুজ্জাহের বলেন, কাপ্তাই হ্রদে পাইলট প্রকল্প হিসাবে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভবতা যাচাই এর কাজ চলছে। ইতিমধ্যে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট স্টাডি সম্পন্ন করেছেন। আমাদের এই সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প হতে ৭.৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। নবায়নযোগ্য শক্তি হিসাবে সোলার বিদ্যুৎ ইতিমধ্যেই সারা বিশ্বে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে বলে পিডিবি ব্যবস্থাপক জানান।