কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমায় রাঙামাটির ১৬ হাজার হেক্টর জলেভাসা জমিতে বোরো চাষের অনিশ্চয়তা

301

p.1-1

 
মোহাম্মদ সোলায়মান , ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমায় রাঙামাটির ১৬ হাজার হেক্টর জলেভাসা জমির চাষাবাদে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিশেষত বোরো চাষের এই অনিশ্চয়তায় চাষীদের মাথায় হাত পড়েছে। যথা সময়ে পানি না কমায় যেসব জমিতে ইতোমধ্যে চাষীরা চাষাবাদ শুরু করেছেন তারা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমলে এবছর জলেভাসা জমির চাষীরা মারাতœকভাবে ক্ষতির সম্মুক্ষিন হবেন বলে আশঙ্কা করছেন। কাপ্তাই বাঁধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের কথা চিন্তা করে বাঁধ কর্তৃপক্ষের অতি দ্রুত হ্রদের পানি কমিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

এদিকে হ্রদের পানি না কমানোয় বোরো চাষে অনিশ্চয়তার বিষয়টি গত আইন শৃঙ্খলা সভায় গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। এ সময় রাঙামাটির জেলা প্রশাসক জানান, সহসাই হ্রদের পানি কমানোর বিষয়ে তিনি বাঁধ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন।

এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাশয় কাপ্তাই হ্রদ ঘেরা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা। প্রতি বছর শীত মৌসুমে হ্রদের পানি কমে গেলে ভেসে উঠে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর চাষাবাদ যোগ্য জমি। পাহাড়ি ঘোনায় ভেসে উঠা এসব জমিকে বলা হয় জলেভাসা জমি। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে প্রতি বছর পানি কমে যাওয়ার পর পলি জমে থাকা সাত হাজার সাত শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধান, চার হাজার হেক্টর জমিতে শবজি, তিন শত হেক্টর জমিতে তরমুজ ও বাকি জমিতে অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন প্রায় ২৫ হাজার চাষী।

সুত্র জানায়, প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসেই কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে থাকলেও এ বছর কাপ্তাই বাঁধ কর্তৃপক্ষ পানি কম ছাড়ার কারণে সময়মতো ভেসে উঠেনি জলেভাসা জমি। কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য মতে এবছর ১৬ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমি ভেসে উঠেছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে চার হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ শুরু করে দিয়েছেন চাষিরা। পানি এখনো না কমায় বাকি জমি আদৌ ভেসে উঠবে কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষীরা। রাঙামাটি কৃষি অধিদপ্তর এ বছর সাত হাজার সাত শত হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এদিকে যেসব জমিতে দেরিতে বোরো ধানের চাষ শুরু হয়েছে তাতে ফসল আসার আগেই আসন্ন বর্ষায় আবারো হ্রদের পানি বেড়ে তলিয়ে যাবার আশঙ্কায় করছেন চাষিরা।
রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি এলাকার মালা তঞ্চঙ্গ্যা জানান, কাপ্তাই হ্রদের পানি দেরিতে নামায় ভেসে উঠা জমিতে দেরিতেই বোরো ধানের চারা লাগানো হয়েছে। কিন্তু প্রকৃতির যথা নিয়মে বৃষ্টিপাত হলে এসব ধানের চারায় ফসল আসার সময়ে আবারো হ্রদের পানি বেড়ে গিয়ে ডুবে যেতে পারে। তাই এবছর চাষিরা ভাগ্যের উপর নির্ভর করে ঝুঁকি নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছেন।

জেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানায়, ডিসেম্বর মাসে হ্রদের পানি কমতে শুরু করলে, জলেভাসা জমির বোরো চাষিরা বীজতলা তৈরী করেন। মার্চ সাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত পানি কমে গিয়ে লক্ষ্যমাত্রার সব জমি ভেসে উঠে। কিন্তু এবার চাষিরা ডিসেম্বরের শেষের দিকে বীজতলা তৈরী করলেও পানি না কমায় ভেসে উঠেনি সবটুকু জলেভাসা জমিতে ইতোমধ্যে বীজতলার ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। আর শীতকালীন সবজি চাষের সময় ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। এ নিয়ে কাপ্তাই হ্রদের জলেভাসা জমির উপর নির্ভরশীল চাষিরা চরম হতাশায় পড়েছেন।

রাঙামাটি কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক রমনী কান্তি চাকমা জানান, জলেভাসা জমির চাষাবাদ নির্ভর করে কাপ্তাই হ্রদের পানি উঠা নামার উপর। যথা সময়ে পানি কমানো ও বাড়ানো গেলে জলেভাসা জমির চাষাবাদে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যায়। কিন্তু গত বছর বেশি সময় ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যায়। কাপ্তাই বাঁধ কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বার্থে এসব পানি ধরে রাখায় এ বছর যথা সময়ে ভেসে উঠেনি জলেভাসা জমি। তাই এবার বরোচাষসহ জলে ভাসা জমিতে চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদ নিয়ে জাতীয় নীতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রাধান্য পাওয়ায় জলে ভাসা জমির বিষয়টি উপেক্ষিত হয়ে আছে। চাষিরা হ্রদের পানি নিয়ন্ত্রনে একটি নীতিমালা প্রয়োজন বলে মনে করেন।

পোস্ট করেনন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান