কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদ সীমার উপরে: ১৬টি গেট দিয়ে নামছে পানি

555

স্টাফ রিপোর্ট- ২০ জুন ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি:  কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপদ সীমার উপরে পৌঁছে যাওয়ায় পানি ছেড়ে দেওয়ার পরিমাণ আবারো বাড়িয়ে দিয়েছে কাপ্তাই বাঁধ কর্তপক্ষ। বর্তমানে প্রতি সেকেন্ড ৪৯ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। সোমবার রাত ৯ টায় ১৬ টি গেইট (স্পীলওয়ে) সাড়ে ৩ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। তথ্য কাপ্তাই পানি বিদ্যুত প্রকল্প কর্তৃপক্ষের।

কাপ্তাই পানি বিদুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, বাঁধের ঝুঁকি এড়াতে এক দিনের ব্যবধানেই বাঁধের স্পীল ওয়ে আরো দুইফুট করে খুলে দেওয়া হয়। প্রথমে গত শুক্রবার রাত ৮.১০ মিনিটে ৬ ইঞ্চি করে তুলে দিয়ে পানি ছাড়ে কর্তৃপক্ষ। রেববার থেকে পানি ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে ১৬টি গেইট দেড়ফুট করে খুলে দেওয়া হয়। তখন পানি ছা হচ্ছিল সেকেন্ডে ২৭ হাজার কিউসেক। পানি বিদুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আব্দুর রহমান জানান, অবিরাম বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারনে হ্রদে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার কাপ্তাই লেকে পানির পরিমান ছিল ১০৫ এমএসএল (মীন সি লেভেল)। রুলকার্ভ অনুযায়ী তাই পানি ছাড়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কাপ্তাই হ্রদে ১০৮ এমএসএল পর্যন্ত পানি থাকাকে রুল কার্ভ মওসুম ভেদে স্বাভাবিক পানির উচ্চতা ধরা হয়। কিন্তু বর্তমানে পানি বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে ১০৫ এমএসএল পানি ধরে রাখা হলে বিপুল পরিমাণ জলেভাসা জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ রাঙামাটি জেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় হ্রদ থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। পানি বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সূত্রমতে বর্তমানে কাপ্তাই বিদুৎ কেন্দ্রের ৫ টি ইউনিটের মধ্যে ৩ টি ইউনিট হতে ১৩০ মেগাওয়াট বিদুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে পানি ছাড়ার পর রাঙ্গুনিয়ার নিন্মাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে বলে জানা গেছে। আরো ডুবে যাওয়ার আশঙ্কায় পানি ছাড়ার হার আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান ।