রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ ধরা শুরু হয়েছে মাত্র দুই সপ্তাহ হলো। এ সময়ে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে বড়-ছোট মিলে ১০ লাখ ১১ হাজার ৬১২ কেজি মাছ। এসব মাছ থেকে সরকার পেয়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার ৩১৭ টাকা রাজস্ব। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি জেলা কার্যালয়।
তুলনায় দেখা যায়, গত অর্থবছরের একই সময়ে আহরণ হয়েছিল ১০ লাখ ৮ হাজার ৯১৪ কেজি মাছ। সেখান থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ কোটি ৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৯ টাকা।
হ্রদে মাছের প্রজনন নিশ্চিত করতে চলতি বছরের ১ মে থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত তিন মাস মাছ ধরা, বিপণন ও পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ সময়ে প্রায় ২৭ হাজার জেলে ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা পেয়েছে। পাশাপাশি ১২ মে হ্রদে ৫৬ মেট্রিক টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতির কারণে নির্ধারিত সময়ের দুদিন পর, অর্থাৎ ৩ আগস্ট থেকে মৎস্য আহরণ শুরু হয়।
এর আগে, গেল অর্থবছরে ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আট মাসে নয় হাজার মেট্রিক টন মাছ আহরণ করে ১৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছিল। যা আগের বছরের চেয়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি।
১৯৬০ সালে কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের পর সৃষ্ট ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের কাপ্তাই হ্রদ এখন দেশের সবচেয়ে বড় মিঠাপানির মাছের ভাণ্ডার। বছরে এখান থেকে গড়ে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন মাছ ওঠে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। তবে বাণিজ্যিক বিপণনের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব আসে মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক থেকে। বাকি অংশ স্থানীয় বাজারেই খরচ হয়।
রাঙ্গামাটির স্থানীয় ব্যবসায়ী জালাল জানান, বর্তমানে হ্রদে ধরা পড়া মাছের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশই চাপিলা ও কেচকি। তবে আইড়, কাতল, বোয়াল, রুইসহ প্রায় ৩৫ প্রজাতির মাছও জেলেদের জালে আসছে। মিঠাপানির মাছ হওয়ায় ভোক্তাদের কাছে এর চাহিদা ব্যাপক।
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) রাঙ্গামাটি শাখার ব্যবস্থাপক কমান্ডার (নৌ) মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, “গত মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ মাছ আহরণ হয়েছে। মাত্র দুই সপ্তাহে এ বছরও এক হাজার ১১ মেট্রিক টনের বেশি মাছ ধরা পড়েছে, যা থেকে রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।”






























