কাপ্তাই হ্রদে পানি স্বল্পতায় কমে গেছে বিদ্যুৎ উৎপাদন

92

অর্ণব মল্লিক

শুষ্ক মৌসুম, দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টির ফলে কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর অনেকটা কমে এসেছে। এতে প্রভাব পড়েছে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন। দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ এই কেন্দ্রে বর্তমানে পাঁচটি মেশিনের মধ্যে একটি চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৩৫ মেগাওয়াট।

অথচ এই হ্রদে পানি পূর্ণ অবস্থায় পাঁচ ইউনিটের মাধ্যমে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হয়। এখন পানি না থাকায় প্রায় ১৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কম উৎপাদন হচ্ছে। ফলে বাড়ছে লোডশেডিং। এর মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে পড়েছে ভ্যাপসা গরম। এতে খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে সর্বোচ্চ পানির স্তর থাকে। কিন্তু বর্তমানে দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টির ফলে পানির স্থর অনেকটা কমে গেছে। এতে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে হ্রদে পানির উচ্চতা কমে যাওয়ায় কাপ্তাই বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। সহসা বৃষ্টিপাত না হলে এই ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন করাটাও কঠিন হয়ে পড়বে।

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এটিএম আবদুজ্জাহের বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি একেবারেই কমে যায়। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হয়। হ্রদে পানি না থাকায় সব ইউনিট চালানো সম্ভব না হওয়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন হ্রাস পায়। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত না হওয়াতে এমন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে তিনি জানান।

এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায় হ্রদের রুলকার্ভ অনুসারে পানি থাকার কথা রয়েছে ৭৮.৯৬ এমএসএল (মিনস সি লেভেল)। কিন্তু বর্তমানে পানি আরও কম রয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মে) পর্যন্ত পানি রয়েছে মাত্র ৭৪.০০ এমএসএল। প্রসঙ্গত, ১৯৬২ সালে খরস্রোতা কর্ণফুলী নদীর ওপর দিয়ে নির্মিত হয় কাপ্তাই বাঁধ। এরপর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি মৎস্য উৎপাদন, নৌ যোগাযোগ, জলেভাসা জমিতে কৃষি চাষাবাদ, সেচ, ব্যবহার্য পানি সরবরাহ, পর্যটনসহ বিভিন্ন সুযোগ ও সম্ভাবনা গড়ে ওঠে কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে। কিন্তু কাপ্তাই হ্রদে পানি কমলে সব কার্যক্রমের ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হ্রদ ঘিরে তৈরি হয় নানা সংকট।