কামাল বারি’র একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা

665


মালা পরতে ইচ্ছে করে

মালা পরতে ইচ্ছে করে আমার-
তার অনুভবের, রক্ত-মাংসের;
অই লাবণিক দেহ জাদুময়…!
আহা, প্রতিটি ঝালর অপরূপ!
আলো-আঁধারীর আদিম সড়ক
আলো-নীল গভীর চোখের ভাষা
সুমধুর খয়েরি মিনার-চিক…
জীবনিক বাহন আমার চাই…!

মালা পরতে ইচ্ছে করে আমার-
ওইরকম সুখে… গভীর আঁধারে-
আহা, যেতে মন চায় বারবার…!

অই নদী বহমান- ঢেউ ঢেউ…
অই দেহ-মন মসৃণ সুরেলা….
জলজ জোয়ার মিহি ধ্বনিময়-
অই ঘন জোছনা কুসুম কলি-
রূপসি নদীর ছলছলে বাঁক-
আহা, ঠিকঠাক পেতে চাই আমি!

শত রূপে শত রঙ নগ্নিকার…;
সাহসিকার কেশের পাশে ঘ্রাণে
হাজার বারের জনম আমার…;

পৃথিবীর আর কী সাজাবো মনে?
গোল কমলে- লাল কানে কপোলে-
অই অলোক নাচে আলো-আঁধারে!
আগ্রহী ঠোঁট যদি ফুলের মালা…!
অই রঙ-রঞ্জনে আগ্রাসী আমি…;
ঠোঁটের মালায় জ্বলবে মাতাল
শাল-পেয়াল এই দেহ আমার!
মালায় সাজাও সমগ্র আমায়…;
অই আঁধারে আমি জন্মাবো ফের;

নিসর্গ বাহুর দেয়ালে আমায়
তীব্র ক্ষুধার লাবণ্যে বেঁধে রাখো!
অগণন নষ্ট নগ্নতা এদিকে…!
অগ্নি-লাল মাংসের বন্ধনে বাঁধো-
ভেতরে সাধো অই পবন-সুরে…!

আহা, দিনরাত ভুল হয়ে যায়!
অই পৃথিবীর সবকিছু বাকি…!
চারুময় অই মায়াবী আঙুল!
গোপন-প্রকাশ অই চিহ্নমালা!

আহা! দিনরাত ভুল হয়ে যায়!
অই পৃথিবীর সবকিছু বাকি…!
চারুময় অই মায়াবী আঙুল!
গোপন-প্রকাশ অই চিহ্নমালা!
তাবৎ পৃথিবী ধারণে অধীর!

আহা, বিস্ময়-ধরা অই তিলকে!
তিলকমালায় মিশে  মিশে যাই!
———–

নেপথ্য রক্তের স্রোতে কামোষ্ণ দহন

উজ্জ্বল মুখ তার ঘাম গম্বুজ উপত্যকা;
স্বর্ণপূর্ণ ভূমি চিকচিক হিরক শহর;
আহা, কামিনী লাস্যময়ী! কাম-চঞ্চল রূপ;
উষ্ণ কাম ঘাম মোহ নেশা উস্কানো নগরী;
মেনকা হাস্যময়ী- হিরকদ্যুতিমাখা হাসি;
তিলোত্তমা শহরে শয্যার পর শয্যাজুড়ে
পদ্মিনী চিত্রানী অশ্বিনী- সখাসখি শৃঙ্গার;
হায়, শিশমহলায় কাঁপে ঝিনুক-শরীর!

ঘামের মোহনাজুড়ে জরিন রঙিন ঠোঁট!
তুলে নেয় কামাতুর দেহ অবিরাম সিঁড়ি;
জিহ্বার লীলা মঞ্জুল সুরম্য গলি ঝিল্লির;
তরুণ নক্ষত্রে জীবনিক দাহ ঘাম জ্বলে-
হায়, নেপথ্য রক্তের স্রোতে কামোষ্ণ দহন!
————–

তৃষ্ণার্ত দুটি হাত

তুমি আমাকে দিয়েও ব্যাপক দিয়েছো
না দিয়েও দিয়েছো অনেক…
তোমার ঠোঁটের মধুতে মানুষ হয়েছি…
বিষেও হয়েছি অধিক…
চিনতে পারোনি সন্ন্যাস বাতাস…
হতাশ করে করে মিথ্যে সুখে মেতেছো;
রহস্য পুরান আদি মানবী
তারও সৌন্দর্য অগ্রবর্তিনী স্তনচূড় ভগাঙ্কুর;
এগোতে হয় তাকেও…
তবে কেন আগবাড়ানো শিশ্ন প্রাবল্যের
কথামালায় আমাকেই কেবল উস্কে দাও…?

বিরহ বিহঙ্গ নিশিগীত গায় কেঁপে কেঁপে কেঁদে কেঁদে;
টোল-খাওয়া-গাল, তুমি কি একটুও আনমনা হও না?
আয়না জলে চোখ রেখে শাড়িপাড়ে
মাছের খেলা দ্যাখো না?

অশেষ সবুজের চোখের জল আদরে আদরে
মুছে মুছে যায় তৃষ্ণার্ত দুটি হাত।
———–

একালের বাৎস্যায়ন

শতরূপে তোকে অবজ্ঞায় রেখে
শতরূপে শ্রদ্ধায় নত;
স্বেদে ও ক্লেদে দূরবর্তী হইনি কখনও;
শরীরী আগুনে মোমের মতো গলেছি;

মহাসূর্যের ব্যর্থ আলোকরশ্মি
থাক অধরা থাক;
দারুণ অালোকচ্ছটার অপ্সরা আমার- মৃত্তিকাসখি
পঞ্চসুখের অসংখ্য আরামাসনে
কামিনী তোকে বসাবো প্রেমাসনে;
একালের বাৎস্যায়ন, আমি।
———-

কবি পরিচিতি :

কামাল বারি ১৯৬৫ সালের ১৮ জানুয়ারি পুরান ঢাকার প্যারিদাস রোডে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলাস্থ ডাঙ্গারপাড় গ্রামে। নব্বইয়ের দশকে কবিতা লেখার মধ্যদিয়ে লেখালেখির হাতেখড়ি। নিয়মিত লিখছেন গল্প, ছড়া, গান, প্রবন্ধ, নাটক প্রভৃতি।

কামাল বারি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে তিনি একটি অনলাইন নিউজপোর্টালে সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান- ২১ জুন ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি