কৃষক সমিতি ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ : ফসলের লাভজনক দাম না পেলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা থাকবে না

502

4

ঢাকা ব্যুরো অফিস, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৫, দৈনিক রাঙামাটি : আজ ২৭ ডিসেম্বর ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির ঢাকা জোনের উদ্যোগে ঢাকা বিভাগীয় কৃষক সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি পেশ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ধান, গম, পাট, ভূট্টা, সব্জিসহ ফসলের লাভজনক দাম, অবিলম্বে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করে খোদ কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি ফসল ক্রয়, সার-বীজ-কীটনাশকসহ কৃষিউপকরনের দাম কমানো, আলু সংরক্ষনের জন্য পর্যাপ্ত কোল্ডস্টোরেজ নির্মান, বিএভিসিকে সচল করা, পল্লী রেশন ও শষ্যবীমা চালু, পল্লীবিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসে অনিয়ম,হয়রানী, দুর্নীতি বন্ধ করার দাবিতে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষক সমিতি ঢাকা জোনের সমন্বয়ক কৃষক নেতা রোমান হায়দারের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদশে কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষক নেতা মোর্শেদ আলী, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হোসেন খান, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য সৃকান্ত শফি চৌধুরী, নিমাই গাঙ্গুলী, মানবেন্দ্র দেব, কৃষক নেতা জিয়া হায়দার, ডিপটি মানিক মজুমদার, নজরুল ইসলাম, হাজী খোরশেদ আলী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা জোনের সদস্য সচিব কৃষক নেতা আবিদ হোসেন।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, প্রতিবছর কৃষক ধান উৎপাদন করে লাভজনক দাম পায় না। সরকার ধানের দাম নির্ধারণ করলেও সরকারি ক্রয়কেন্দ্র না থাকায় ফড়িয়া-দালাল-মধ্যসত্তভোগীরা কৃষকের কাছ থেকে ৬০০-৬৫০ টাকা মন ধরে ধান কিনে নেয়। মন প্রতি কৃষকের ২০০-৩০০ টাকা প্রতিবছর লোকসান গুনতে হয়। এছাড়া আলুর উৎপাদন বেশী হওয়ার সম্ভাবনা কিন্তু সরকারি বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় এ বছরও কৃষকরা আলুর লাভজনক দাম পাবেনা। পর্যাপ্ত সংখ্যক কোল্ড স্টোরেজ নির্মান করে কৃষককে আলু সংরক্ষন করার ব্যবস্থা করতে হবে। অবিলম্বে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র চালু করে সরাসরি খোদ কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয় করার দাবি জানান নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সার, বীজ, কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমিয়ে কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বিএডিসিকে সফল করে, পল্লীরেশন ও শস্যবীমা চালু করে কৃষককে বাঁচাতে হবে। সারাদেশে পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানী, দুর্নীতির কারনে সবচেয়ে বেশী ভুক্তভোগী হয় কৃষক। অবিলম্বে পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানী, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।

সমাবেশ শেষে কৃষকদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে কৃষকদের একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান