খাগড়াছড়িতে আম্রপালির বাম্পার ফলন

179
ছবি- শামীমুল আহসান

স্টাফরিপোর্ট- ১৮ জুন ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি:  বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ প্রচেষ্টায় মৌসুমি ফল আম চাষে সফলতা এসেছে। বিশেষ করে আম্রপালি জাতের আমের চাষ ব্যপকতা পেয়েছে। রাঙামাটি ও বান্দরবানের তুলনায় খাগড়াছড়ি জেলায় এ আমের চাষ বেশি হচ্ছে বলে জানা গেছে। এখন দেশজুড়ে পাহাড়ি সুমিষ্ট আম্রপালির পরিচিতি পাচ্ছে। দিনে দিনে এখানকার চাষিরা লাভের মুখ দেখতে শরু করছেন।
গত কয়েক বছরে এ জনপদে বাণিজ্যিকভাবে বেড়েছে আম্রপালির চাষ। সমতলের জেলাগুলোতে আম্রপালির ব্যাপক চাহিদার রয়েছে। আম্রপালি এখন খাগড়াছড়ি ছাড়িয়ে সমতলের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়ে থাকে।

খাগড়াছড়ির আম নিজস্ব চাহিদা মিটিয়ে গত দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে আসছে। এখন অনেক পরিপক্ক আম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে পাহাড়ি সুমিষ্ট আম্রপালি কিনতে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা খাগড়াছড়িতে এসে ভিড় জমিয়েছে। স্থানীয় বাজারে ভালো মানের আম কেজি প্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায়, দ্বিতীয় ক্যাটাগরির আম ৭০ থেকে ৮০ টাকায় এবং শেষ দিকে কেজি প্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় আম চাষিরা।

গত কয়েক বছরে ফল বিপর্যয়ের মুখে পড়া আম্রপালির এ বছর বাম্পার ফলনের কথা জানিয়েছেন চাষিরা। তাদের মতে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দুই গুণ বেশি আম উৎপাদন হবে বলে আশা করছেন। আবহাওয়া অনকূলে থাকায় এ বছর খাগড়াছড়ির বাগানে বেশি ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানানো হয়, এ বছর খাগড়াছড়িতে প্রায় তিন হাজার হেক্টর জমিতে আম্রপালির চাষ হয়েছে। যা থেকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মেট্রিক টন আম্রপালির উৎপাদন হবে হবে আশা করা হচ্ছে। বাজার দর ঠিক থাকলে প্রায় কোটি টাকার আম বিক্রি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৭ সালে বৈরি আবহাওয়ার কারণে আমের উৎপাদন কম হয়ে ছিল। ওই বছর জেলার ২ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে আমের উৎপাদন হয় মাত্র ১৪ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন। ২০১৬ সালে ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে ২৭ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টন, ২০১৫ সালে ২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমিতে ২০ হাজার ৮৬ মেট্রিক টন।

খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সফর উদ্দিন এ বছর আমের ভালো ফলনের বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করে বলেন, পাহাড়ের মাটি এবং আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করেই এই প্রজাতির আম প্রচলন করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।