গুলশানে জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তাহীনতায় খালেদা জিয়ার অফিস, বাসা বদলের চিন্তা:

234

khaleda zia dr photo

শামীমুল আহসান- ১৯ জুলাই ২০১৬ : বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়েছে। কেননা তার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনাটি বাসার পাশেই ঘটেছে। সেখানে ঘটনার দিন খালেদা জিয়াকে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভীষণ উদ্বেগ ও উৎকন্ঠার মধ্যে সময় পার করতে হয়েছে। ঘটনার পর তার নিকট আততয়ীয়রা তাকে ওই বাসা ছেড়ে তাদের বাসায় অবস্থন করার অনুরোধ জানালে তিনি তাতে সম্মত হননি। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে তার নিরাপত্তা ফোর্স সিএসএফ এর পক্ষ থেকে। তবে সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য চিঠি দেওয়া হলেও এই ব্যাপারে সরকার অফিসিয়ালি কোন সিদ্ধান্ত জানায়নি।

তবে বর্তমান ব্যবস্থার চেয়ে তার জন্য আলাদা করে নতুন করে নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব হবে না বলে জানান সরকারের একজন নীতি নির্ধারক মন্ত্রী। তিনি বলেন, এখন তিনি একজন সাধারণ মানুষ ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান। অন্য কোন প্রটোকলে তার নিরাপত্তা বর্তমানের চেয়ে বাড়ানো সম্ভব হবে না। গুলশান এলাকায় এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক বাড়ানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি তার বাসা থেকে ৫-৬টি বাড়ির দূরত্বে। সেখানে এই ধরনের একটি ঘটনা ঘটার পর তার নিরাপত্তা পর্যাপ্ত নয় অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে সরকারের কাছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিএনপি ও সিএসএফ এর তরফ থেকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এই জন্য সম্প্রতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বরাবর একটি চিঠি দেন। সেখানে নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেন। ওই চিঠির কপি স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, ডিএমপি কমিশনার ও পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চেও পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠি দেওয়ার পর নতুন করে তার নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত কোন পুলিশ মোতায়েন করা হয়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান বলেন, ম্যাডামের জন্য সরকারের তরফ থেকে নিরাপত্তা বাড়ানো দরকার। না হলে কোন ঘটনা ঘটলে সেই দায় দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। কিন্তু সরকার তা নিচ্ছনা। নিরাপত্তাও বাড়াচ্ছে না। এদিকে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরকারের তরফ থেকে যেটা নেওয়া হয়েছে তাও অপর্যাপ্ত। যেহেতু তার বাসার পাশেই এই ধরনের একটি হামলার ঘটনা ঘটেছে তাতে করে তার নিরাপত্তা সরকারের তরফ থেকেই বাড়ানোর দরকার ছিলো। কিন্তু তা নেওয়া হয়নি।

সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য তার বাসভবনে আরো অতিরিক্ত এক প্লাটুন ও বাইরে ছয় জন পুলিশ কনস্টেবল প্রয়োজন। দুই জন গানম্যানও দিতে অনুরোধ করা হয়।

সূত্র জানায়, এখন খালেদা জিয়ার বাসভবনে নিরাপত্তার দায়িত্বে ২ গানম্যান চাওয়া হয়েছে। পাঁচজন পুলিশ পাহাড়া রয়েছে। এছাড়াও তিনি বাইরে গেলে এই জন্য বাইরে নিরাপত্তা পান। পুলিশ তার নিরাপত্তায় কাজ করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তারা নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তারা চাইলেইতো সব সময় তা দেওয়া সম্ভব হবে না। কারণ এখানে সরকারি নিয়ম রয়েছে। প্রটোকলও রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী সব ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

বিএনপির সূত্র জানায়, পুলিশ রুটিন দায়িত্ব পালন করে। ২০০৮ সাল থেকে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ফোর্স সিএসএফ। সিএসএফ এর সঙ্গে দুই জন গানম্যান খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। গত বছর আন্দোলনে সময়ে তার বাসা থেকে পুলিশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হলেও পরে আবার এই বছরের শুরুতে বহাল করা হয়। ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে কারামুক্ত হওয়ার পর খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় পর্যায়ক্রমে সিএসএফ গঠন করা হয়।

সূত্র আরো জানায়, সরকার গুলশান এলাকায় যেসব বাড়িতে বাণিজ্যিক কোন অফিস, প্রতিষ্ঠান করা যাবে না মর্মে সেই সব প্রতিষ্ঠান তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক কার্যালগুয়গুলোও তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। সেই জন্য চিঠিও দিবে। খালেদা জিয়ার অফিস স্থানান্তরের জন্য এখনও চিঠি তারা না পেলেও এই জন্য চিঠি দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির সূত্র জানায়, তিনি ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের বাসায় উঠেন। এর আগেই তার গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয় ছিলো। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর এখন সরকার গুলশান থেকে এই ধরনের অফিস রাখা যাবে না বলা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রে সরকার চেয়ারপারসনের অফিস সড়ানোরও সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সেই হিসাবে নতুন করে একটা ঝামেলা বাড়বে। অফিস বদল করলে বাসাও বদল করতে হতে পারে।

তিনি হলি আর্টিজানের ঘটনার পর বাসা বদল করার কথাও বিবেচনা করছেন। তবে কোথায় যাবেন। সব জায়গায়ই এখন একই অবস্থা । নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তিনি এখন যে বাসায় থাকছেন ওই বাসার পাশেই তার বাড়ি। ওই বাড়িতে ভাড়াটিয়া থাকায় সেখানেও উঠতে পারছেন না। তাছাড়াও ওই বাসাও একেবারেই কাছে। সেখানেও সমস্যা। সব মিলিয়ে তার উপর নিরাপত্তা হুমকির বিভিন্ন দিক বিবেচনা করেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান আলোচনা করেই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্য চাইলেই একটি নিরাপদ ও একক বাড়ি পাওয়া যাবে না। কারণ এখন বেশিরভাগ বাড়িতেই বহুতল ভবন গড়ে উঠছে। এই জন্য একক বাড়ি পাওয়া কঠিন।

ঢাকা ব্যুরো অফিস- দৈনিক রাঙামাটি। সূত্র- অন্য মিডিয়া