চার বছর পর খাগড়াছড়ির প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ নতুন শিক্ষক পেলো

211

॥ আল-মামুন ॥

নিয়োগ জটিলতার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পাহাড়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় গতি ফিরছে। এতে করে পাহাড়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে নতুন আলোর ঝলকানি। এতে খুঁশি দীর্ঘ প্রতিক্ষায় অপেক্ষায় থাকা খাগড়াছড়িবাসী।

স্থানীয়রা বলছেন,নিয়োগ জটিলতার অবসানের ফলে খাগড়াছড়ির “শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দ্বার উম্মোচন” হতে যাচ্ছে। বেকাররা পেতে যাচ্ছে তাদের প্রত্যাশার চাকরী। শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষক সংকট কাটিয়ে শিক্ষার প্রসার ঘটবে বলে মন্তব্য করছেন অনেকে। এরই মধ্যে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের অধীনে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে কাঠ-খড় পুড়িয়ে উর্ত্তীণরা প্রত্যাশার সে চাকরী নামের সোনার হরিণের দেখা পেয়ে এখন আত্মহারা।

এদিকে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসানের পর আইনি জটিলতা ও নানা সমস্যার সমাধান করে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ শিক্ষক নিয়োগের চুড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় সময় গুনতে হয়েছে দীর্ঘ ৪ বছর। ফল প্রকাশে সে আনন্দের শেষ নেই স্থানীয়দের মাঝেও। অন্যদিকে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদে ২১২ জন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ চুড়ান্ত করতে পেরে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষও দায়িত্বশীল ভূমিকা ও যোগ্য ও মেধাবীদের সমন্বয়ে এই প্রক্রিয়ায় খুঁশি রাজনৈতিক নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারাও।

অনেকে আবার তাদের আনন্দকে জানান দিচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরই মধ্যে বর্তমান খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি ও প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহবায়ক খোকনেশ^র ত্রিপুরাসহ বর্তমান পরিষদের সদস্যদের অভিনন্দন জানাচ্ছে নানা ভাবে।

সূত্র জানায়, ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির (শান্তি চুক্তি) পর তিন জেলার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সুবিধার্থে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রাণী ও মৎস্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি বিভাগ পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয় পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে। ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের সহকারী শিক্ষক পদে। নানা কারনে স্থগিত থাকার পর খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নিয়োগ প্রক্রিয়া আবারো সচল হয়।

অন্যদিকে, চাকরি প্রার্থীদের বয়স সীমা শেষ হওয়ার শঙ্কা এবং বেকার জীবনের হতাশা থেকে মুক্তি দিয়ে প্রত্যাশার আলো দেখালো মংসুইপ্রু চৌধুরী অপুর নেতৃত্বাধীন গঠিত পরিষদ। ২০১৭ সালে প্রাইমারি স্কুলে নিয়োগের সার্কুলার হলেও জটিলতায় আটকে যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া, পরে দফায় দফায় লিখিত ও মৌখিক পরিক্ষা হলেও চুড়ান্ত ফল প্রকাশে দেখা দেয় নতুন জটিলতা। এদিকে দীর্ঘ ৪ বছর ঝুঁলে থাকার পর নতুন পরিষদ দায়িত্ব নিয়ে সে জটিলতার সেই নিয়োগে স্বস্থি ফেরায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে তিন পার্বত্য জেলায় জনবল নিয়োগের বিষয়টি নিবিড় তত্ত্বাবধান করার নির্দেশ দেয়। খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বাছাই ও নিয়োগ কমিটির সভাপতি মংসুইপ্রু চৌধুরী ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার,বাছাই ও নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন এর যৌথ স্বাক্ষরে দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই চুড়ান্ত ফলাফল বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করে গত ৮ জুন ২০২১ তারিখ। বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সার্বিক সকল সমস্যার সমাধান করে শিক্ষক নিয়োগ এর চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ এর পর প্রশংসায় ভাসছে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বলেন, এই নিয়োগ চুড়ান্ত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রমের প্রসার ও অগ্রগতি আরো শক্তিশালী হবে। যুগোপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে জনবল প্রয়োজন। তাই পর্যাপ্ত জনবল থাকলে শিক্ষা কার্যক্রম আরও ভালো হবে। সে সাথে শিক্ষা কার্যক্রমে গতিসহ মান সম্মত শিক্ষার প্রসার ঘটার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শিক্ষা খাতের সংকট দূর করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের আহবায়ক খোকনেশ^র ত্রিপুরা বলেন, এটি খাগড়াছড়িবাসীর জন্য সুসংবাদ। সে সাথে শিক্ষার ক্ষেত্রে এই নিয়োগ দৃষ্টান্ত স্থাপনের পাশাপাশি জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াসহ যুগোপযোগী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ অবদান রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, নানা জটিলতাসহ সংকট কাটিয়ে আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সফল হয়েছি। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির শিক্ষা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল এবং মান উন্নয়নে আমাদের চেষ্টা সব সময় অব্যাহত থাকবে। দীর্ঘ দিন নিয়োগ বন্ধ ও সর্বশেষ করোনায় শিক্ষা ব্যবস্থার অচলবস্থার অবসান হতে যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী,সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও ভারত প্রত্যাগত টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে গত ফেব্রুয়ারির গোপনীয় প্রতিবেদনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এ সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি তা অনুমোদন দেন। নিয়োগে সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিত নিশ্চিত করতে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোর অধীনে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগসহ (যখন যে মন্ত্রণালয়/বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষা হবে) পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিবিড় তত্ত্বাবধানে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া যেতে পারে বলে সুপারিশের পর এই কার্যক্রমে নতুন গতি আসে।