জঙ্গিবাদ রুখতে পাহাড়ে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্যের ডাক

597

dr...p.1-1

আলমগীর মানিক, ২০ জুলাই ২০১৬ : দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে তার পাশাপাশি যদি ধর্মীয় নেতারাও এগিয়ে এসে সরকারকে সহযোগিতা করে তাহলে উগ্র মৌলবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা আরো সহজ হবে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের সংরক্ষীত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু। নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ধর্মীয়নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, এই ধর্ম কোনো জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। স্বাধীন এই বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ কোন ভাবেই কাম্য নয়। যারা জঙ্গীবাদ করে এই দেশের স্বাধীনতাকে নসাৎ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে তাদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান তিনি।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার দুপুরে রাঙামাটিতে নিরীহ মানুষ হত্যকান্ড, সন্ত্রাস ও জঙ্গী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা মুলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক মোঃ সামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব তানভীর আজম সিদ্দিকী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু শাহেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ শাহিনুর আলম খানসহ অন্যান্য পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় রাঙামাটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও মসজিদগুলোর ইমাম, পুরোহিত ও বৌদ্ধ ভিক্ষুগণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় গুরু, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফিরোজা বেগম চিনু আরো বলেন, ফিরোজা বেগম বলেন, ইসলাম ধর্মে স্পষ্টভাবেই উল্লেখ রয়েছে, যে বিনা অপরাধে একজন মানুষকে হত্যা করলো, সে যেন পুরো একটি মানবজাতিকে হত্যা করলো। এসব কথা না শুনে না জেনে ইসলাম ধর্মকে রক্ষার নামে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠি ইসলাম ধর্ম নির্মূলে সন্ত্রাসবাদে লিপ্ত হয়েছে।

এশার নামাজ চলাকালীন সময়ে যেসকল জঙ্গীরা আর্টিজান রেস্তোরায় হামলা চালালো, তারা কি আসল মুসলমান? এমন প্রশ্ন রেখে চিনু বলেন, যেখানে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ রয়েছে যে, কাল কেয়ামতের ময়দানে সবার আগে হিসেব নেওয়া হবে নামাজের, এই নামাজই হলো বেহেস্তের একমাত্র চাবি। সেই নামাজ না পড়ে অন্যকে পড়তে না দিয়ে যারা মানুষ হত্যায় লিপ্ত হয়েছিলো তারা আর যাই হোক মুসলমান হতে পারে না। তাদের এই হীন কর্মের কারনে সারা বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে বিতর্কিত করা হয়েছে। এটা কোনো দেশ প্রেমিক নাগরিকের দ্বারা কাম্য নয়। এই থেকেই বুঝা যাচ্ছে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করার জন্য ইসলামকে ব্যবহার করে একটি মহল বাংলাদেশকে ধ্বংস করার একটি প্রক্রিয়া তারা হাতে নিয়েছে। ইসলাম ধর্মকে কুলষিত করার জন্য যারা উঠে পড়ে লেগেছে তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ঈমাম, পুরোহিত ও বৌদ্ধ ভিক্ষুগণসহ ধর্মীয় নেতাদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন মহিলা সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু। তিনি বলেন, ইসলাম যে সহিংসতা বিরোধী ও শান্তির ধর্ম আলেমদের উচিত সে বিষয়টি তুলে ধরা।

এমপি চিনু বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে সমাজে হিংসা-বিদ্বেষ, ঝগড়া-বিবাদ, হানাহানি-মারামারি জাতীয় অগ্রগতির পথকে রুদ্ধ করে দেয়। পাহাড়ে যাতে করে জঙ্গিবাদের উত্থান বিস্তৃতি লাভ করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমরা পাহাড়ি-বাঙ্গালীসহ সকল সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ যতো বেশি এক সাথে বসবো, ততবেশি আমাদের মধ্যে হৃদ্যতার সৃষ্টি হবে। এতেই আমরা সকলেই একটি সুখী-সমৃদ্ধশীল এবং অসাম্প্রদায়িক অঞ্চল হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রামকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো।

 পোস্ট করেন, শামীমুল আহসান- ঢাকা ব্যুরোপ্রধান- দৈনিক রাঙামাটি