জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের ইফতার পার্টিতে প্রধানমন্ত্রী: বাজেটে সমস্যা থাকলে তার পরিবর্তণ হবে

332

স্টাফ রিপোর্ট- ৪ জুন ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি:  নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেটে সমস্যা থাকতে পারে এর সমাধান হবে। ‘বাজেট পেশ করা হয়েছে পার্লামেন্টে আলোচনা হবে। হয়ত কারও কিছু সমস্যা থাকতে পারে। নিশ্চয় তা আমরা দেখবো সমাধান করব।’

রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সংগঠন বিএফইউজে (বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন) এবং ডিইউজের (ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন) আমন্ত্রণে ইফতারে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তিনি অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বাজেট নিয়েও কথা বলেন। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে এক বছরের জন্য কার্যকর হবে নতুন বাজেট। গত ১ জুন এই বাজেট উপস্থাপন করে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তার চার লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেটের সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে ব্যাংকে এক লাখ টাকার বেশি হিসাবধারীদের আবগারি শুল্ক ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা বাড়ানো নিয়ে।

অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এরই মধ্যে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন জোট ১৪ দলও এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী যে বাজেট দিয়েছেন, তার ওপর এক মাসব্যাপি আলোচনা হবে এবং ২৯ জুলাই তা পাস হবে। বরাবরই প্রস্তাবিত বাজেটে খানিকটা পরিবর্তন-পরিমার্জন আসে। প্রধানমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন এবারও তা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘সব থেকে বড় বাজেট চার লক্ষ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট আমরা দিয়েছি। এত বড় বাজেট আর কখনও কেউ দেয়নি। হয়ত কিছু সমস্যা থাকতে পারে।’

সাংবাদিকদের বেতন কাঠানো বাড়াতে নবম ওয়েজবোর্ড গঠনেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এটা এখন আটকে আছে মালিকদের কারণে। মালিকদের প্রতিনিধি দেওয়ার কথা, তারা দেননি। তারা প্রতিনিধি দিলে কাজটা শুরু করে দিতে পারি। মালিকরা সদস্য দেবেন, সুপারিশ দেবেন। আমি চাই প্রত্যেক মালিক ওয়েজবোর্ড মেনে চলবেন।’

এতদিন ওয়েজবোর্ড কেবল পত্রিকার জন্য প্রযোজ্য হলেও এখন থেকে রেডিও, টেলিভিশনের মত ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমেরও ওয়েজবোর্ডে সামিল হওয়া উচিত বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এটা না ঘরকা না ঘাটকা।’

নীতি বজায় রেখে রাজনীতি করার তাগাদা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, নীতিহীন রাজনীতি দেশ ও জাতির কল্যাণ করতে পারে না। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলতেন, রাজনীতি করলে নীতির সঙ্গে করতে হবে, সাংবাদিকতায়ও নীতি থাকতে হবে। নীতিহীন সাংবাদিকতায় দেশ-সমাজ কলুষিত হয়, তাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি।’

আগে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হতো উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন গ্রেপ্তারের আগে সমন জারি হয়। সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে উত্তরায় প্লট নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি দিয়ে তারা প্লট নিতে পারবেন। আমি গণপূর্তমন্ত্রীকে বলেছি, কিছু প্লট আলাদা করে রেখে দিতে।’

বিএনপি নেত্রীর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের পায়ের নিচে নাকি মাটি নেই! ১৯৪৯ সালে এদেশের মাটি ও মানুষের মধ্যে দিয়ে, জনগণের অধিকার আদায়ের মধ্যে দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম। আওয়ামী লীগের শিকড় এদেশের মাটির অনেক গভীরে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে যে দলের জন্ম সেই দলের (বিএনপি) পায়ের নিচে মাটি থাকে না, সেটিই হলো বাস্তবতা।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংবিধান লংঘন করে প্রথমে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল এবং ক্ষমতা দখল করে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক দলই হচ্ছে বিএনপি। এদেশের মাটি ও মানুষের মধ্যে থেকে এ দলটির জন্ম হয়নি।’

বিএনপি নেত্রী মামলা মোকাবেলা করতে ভয় পান মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি নেত্রী এতিমের টাকা মেরে খেয়েছেন। সেই মামলা মোকাবেলা করতে উনি ভয় পান। মামলাকে বিলম্বিত করতে ১৪৬ বার রিটসহ নানা প্রকারে সময় চেয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছিল, আমিতো চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে চলে এসেছিলাম। আমি বলেছিলাম আমি মামলা মোকাবেলা করবো। কারণ আমার আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি কোনো অন্যায় করিনি।’ তিনি বলেন, ‘যাদের এই আত্মবিশ্বাসের অভাব তারাই মামলা থেকে পলায়ন করে। এতিমের টাকা মেরে খেয়ে পলায়ন করে যাবে কতদূর সেটাও একটা কথা।’

যারা মানুষ পুড়িয়েছে হুকুম দাতাসহ তাদের বিচার করা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আর মানুষ পুড়িয়ে যারা হত্যা করেছে, যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তাদের বিচার হবেই। এ মামলা নিয়ে অনেক কথা বলবে যে মামলা হয়েছে, মামলা হয়েছে.. মামলা খামোখা হয়নি। জীবন্তগুলো পুড়িয়েছে।’

সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সেখানে আপনাদের সহযোগিতা চাই। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাস, মাদকের বিরুদ্ধেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রাখবো।’

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী সঞ্চালনায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান । তথ্য সুত্র- অন্যমিডিয়া