জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সপ্তদশ সংশোধনী বিল পাশ: বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ক্ষোভ

317

স্টাফরিপোর্ট- ৩ জুলাই ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি (সংবাদ বিজ্ঞপ্তি):  নারী আন্দোলনের দীর্ঘ তিন দশকের সুপারিশ এবং বর্তমান সরকারের জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ঘোষণার নিজস্ব প্রতিশ্রæতি ভঙ্গ করে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের বিধান না রেখে সংবিধানের ৬৫(৩) অনুচ্ছেদে সংশোধন করে সংরক্ষিত নারী আসনের সময় সীমা ২৫ বছর রেখে সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে পাশ হলো। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচনের বিধান না রেখে এই বিল পাশ হওয়ায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

এই ধরনের আইন পাশ হওয়ায় নারীর প্রতি যে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নারীর অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করা হলো বলে মহিলা পরিষদ মনে করে।  সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিধান রেখে ২৫ বছরের  সময়সীমা বাড়িয়ে এই বিল পাশ হওয়ায় বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সময়ে দেয়া প্রতিশ্রæতির সাথে শুধু সাংঘর্ষিকই নয়, নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এই সরকার কর্তৃক দেয়া বিভিন্ন বক্তব্য, গৃহীত নীতি (জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি) এবং জাতিসংঘ ঘোষিত সিডও সনদ ও এসডিজির সাথেও সাংঘর্ষিক।

গত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়মাীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ১২.২ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ৩৩ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি ছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ৮মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন “সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংখ্যা ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ১০০ করা হবে, তাঁরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন।” এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি ২০১১ তেও ৩২.৭ নং অনুচ্ছেদে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার  লক্ষ্যে সংসদে  সংরক্ষিত নারী আসন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ বর্ধিত করা এবং বর্ধিত আসন সমূহে সরাসরি নির্বাচনের  উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

ইারীনেতৃরা আশংকা করেন, এই ধরনের পশ্চাৎপদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ দেশের আপামর নারী সমাজের চলমান অগ্রযাত্রাকে বিপন্ন ও অনিরাপদ করে তুলবে।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ পুনরায় আগামী দুই টার্মের জন্য জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাচন, আসন সংখ্যা এক/তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি এবং নির্বাচনী এলাকা পুন:নির্ধারণের দাবি জানান।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।