জুরাছড়ির প্রসূতিরা হাসপাতালমুখি হয়ে উঠছে ॥ নেই অবকাঠামো সুবিধা

58

॥ স্মৃতিবিন্দু চাকমা ॥
রাঙামাটি জেলা সদর থেকে জুরাছড়ি উপজেলার দুরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যেম হচ্ছে নৌপথ। জুরাছড়ি হাসপাতালের অবস্থাও একেবারে নাজুক। নেই কোন চিকিৎসক ও স্টাফদের থাকার আবাসিক সুব্যবস্থা। বর্ষাকাল আসলে রোগী এবং চিকিৎসকদের যেন কাল হয়ে দাড়াঁয়।

এই এলাকায় অধিকাংশ পাহাড়ী জনগণ প্রসূতি নারীদের প্রসব করানোর জন্য গ্রাম্য ধাত্রীদের উপড় নির্ভর হয়ে থাকেন। বর্তমানে অনেকটা পরিবর্তনের আবির্ভাব দেখা দিচ্ছে। দিন দিন হাসপাতাল মুখী আগ্রহী হতে দেখা যাচ্ছে সন্তান প্রসবকারী গর্ভবর্তী নারীদের।

গত ২৫ -৯-২০২০ হাসপাতালে প্রসব করতে আসা ডেবাছড়া গ্রামের বাসিন্দা বেবী চাকমা থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন.আবাসিক চিকিৎসক ডাঃ কামরুজ্জামান স্যারের নিবির পরিচর্যায় আমার নিরাপদে সন্তান প্রসব হয়েছে,এজন্য আমি ডাঃকামরুজ্জামান স্যার সহ সকল নার্সদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

জুরাছড়ি হাসাপাতালের চিকিৎসক ডাঃ কামরুজ্জামান থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান,ডাঃ অনন্যা ম্যাডোমের নির্দেশনায় আমাদের যতটুকু সম্ভব নরমেল ডেলীভারী সেবা দিয়ে যাচ্ছি। গ্রাম্য ধাত্রীদের উপড় নির্ভর না করে নিরাপদ মাতৃত্ব সেবার লক্ষ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিনিউটি ক্লিনিকে সন্তান প্রসব করার জন্য গর্ভবর্তী নারী ও তাদের পরিবারদের সচেতনতা মূলক পরামর্শ দেওয়ার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি অনুরোধ জ্ঞাপন করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ অনন্যা চাকমা বলেন,হোম ডেলিভারী না করে প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারী করার জন্য আমরা বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তিনি স্বীকার করে বলেন,এখনো পর্যন্ত আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনেক কিছু অপুরণ রয়েছে, “সম্প্রতি আলট্রাসোনোগ্রাফী মেশিনের জন্য কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে,যতি আলট্রাসোনোগ্রাফী মেশিন পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে আর গর্ভবর্তী নারীদের রাঙ্গামাটি যেতে হবেনা”।

গর্ভবর্তী নারীদের নিরাপদ সন্তান প্রসবের লক্ষ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সবসময় রোগীদের সেবাদানের জন্য প্রস্তুত বলে জানান।