জেলা পরিষদে বিজয় ঘিরে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা

441


॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংরক্ষিত নারী আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু। শুক্রবার জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ মানজারুল মান্নান, পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল ইসলাম, রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আশরাফুল ইসলাম।

এতে অন্যান্যের মধ্যে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ত্রিদীপ কান্তি দাশ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের রাঙামাটি জেলা কমান্ডার রবার্ট রোনাল্ড পিন্টু, সদর উপজেলা কমান্ডার মিজানুর রহমান, বক্তব্য রাখেন। স্বাগত বক্তব্য দেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জাকির হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফিরোজ বেগম চিনু বলেন, মুক্তিযোদ্ধারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের এবং তাদের পরিবারবর্গের সার্বিক সুযোগ সুবিধা প্রদান আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কারণ তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পেয়েছি। সে রাষ্ট্রকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে আমাদের সবাইকে এক হয়ে কাজ করে যেতে হবে।

জেলাপ্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, আপনাদের সন্তানদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে দিন। অন্তত বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ শুনতে দিলেও আপনার সন্তান বাঙালিদের সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। তারা সোনার বাংলা গঠনে কাজ করতে পারে। তিনি বলেন, আমরা একাত্তরে স্বাধীনতার সূর্য ছিনিয়ে এনেছি। আমরা পারবো পারবোই। আমাদের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। আমাদের দৃঢ়তা বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেই।

পুলিশ সুপার সাঈদ তারিকুল হাসান বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি পতাকা, একটি মানচিত্র, বিশ্বের কাছে পেয়েছি সম্মান। যে কোনো কিছু অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা কঠিন। আমাদের স্বাধীনতা রক্ষা করতে কাজ করে যেতে হবে। সত্যিকার অর্থেই দেশকে ভালোবাসতে হবে। শুধু দেশকে ভালোবাসি এই কথা কেবল মুখে বললে হবে না। দেশপ্রেমকে অনুভব করে অন্যের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।

সভাপতির ব্ক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা বলেন, ত্রিশ লাখ শহীদ ও তিন লাখ মা বোনের সম্ভ্রম, অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা। দলমত নির্বিশেষ একাত্তরের বাংলার মানুষ হানাদারদের মোকাবেলা করে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। একাত্তরের মতো এখন দলমত নির্বিশেষে সবাইকে কাজ করতে হবে। তাহলেই সোনার বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব। বাংলাদেশ বিভিন্ন দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংবর্ধনা শেষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এর পক্ষ থেকে রাঙামাটির ৬জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে ২হাজার ৫শত টাকা করে এবং ৯৩জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ১হাজার টাকা করে সম্মানী প্রদান করা হয়।