টানা বর্ষণে কাউখালীতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: জরুরীভাবে বিশেষ বরাদ্দের দাবি

315

 

মোঃ ওমর ফারুক- ২৩ জুন ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি:  রাঙামাটির কাউখালী উপজেলায় সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড় ধস ও ঢলে উপজেলার বিভিন্ন সেক্টর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় অধিবাসি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছন। সূত্র জানায় ইউনিয়নে রাস্তাঘাট, চাষের জমি, ভবন, কালভার্ট, বিভিন্ন সৃজিত বাগান ও বাড়িঘরের বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব রাস্তাঘাট ও ভবন সংস্কারের সরকারি বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা। তারা জানায় দ্রæত এসব রাস্তাঘাট সংস্কার করা না হলে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছুবে।

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানায়, বেশ কয়েকদিন ধরে ভারি ও টানা বর্ষণের কারণ উপজেলার চারটি ইউনিয়নেরই ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। তার মধ্যে ১নং বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়নের সুগার মিল ডাক বাংলো মঈনুল উলুম রেজভীয়া মাদ্রাসার পিছনে খালের ভাংগনে ব্যাপক ক্ষতি হয়। বর্তমানে মাদ্রাসার কোটি টাকার দোতলা ভবনটি ঝুকিঁপুর্ন অবস্থায় রয়েছে। বেতবুনিয়া মডেল ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির সামনে মাটি ভেঙে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবনটি একেবারে ঝুকিঁপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে কাউখালী হতে বার্মাছড়ি সড়কটির ৪ কিঃ মিটারের মধ্যে ১কিঃ মিটার ভেঙেঁ গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সোনাইছড়ি বড়বিলি, হেমন্ত পাড়া,গজালিয়া পাড়ায় পাহাড় ধ্বসে পড়ে রাস্তাঘাট বন্ধ রয়েছে। কলমপতি ইউনিয়নের কাউখালী হতে নাইল্যাছড়ি হয়ে সুগারমিল ১২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে প্রায় ৫/৭ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে গিয়েছে এবং ৫/৭টি কালভার্ট ভেঙেঁ গিয়ে উপজেলা সদরের সাথে সম্পুর্ন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। তাছাড়া এই ইউনিয়নের অনেক এলাকায় পাহাড় ধ্বসের কারনে ৪/৫টি বাড়ি ঘর ভেঙেঁ যায়। পোয়াপাড়া নতন টিটিসি কলেজের পাশে পাহাড় ধ্বসে একটি বাড়ি সম্পুর্ন মাটি ছাঁপা পড়ে রয়েছে কিন্তু কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনী। ফটিকছড়ি ইউনিয়নের ডাবুয়া ক্ষিরাম বার্মাছড়ি এলাকায় পাহাঢ় ধ্বসে গ্রামীণ অনেক যোগাযোগের (কাচাঁ পাকা) রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। ঘাগড়া ইউনিয়নের কাউখালী পানছড়ি ৮কিলোমিটার সড়ক প্রায় জায়গায় ভেঙেঁ যায় এবং ১টি কালভার্ট সম্পুর্ন ভেঙেঁ যায়, কাউখালী সদর হতে ঘিলাছড়ি বাঙালী এলাকা সড়কের উপর পাহাড়  ভেঙেঁ পড়েন, পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় তা সড়ক হতে অপসারন করা হলে সড়কটি বর্তমানে চালু রয়েছে। তা ছাড়া কাউখালী সদর হতে ঘাগড়া সড়ক ৯ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৪কিলোমিটার ভেঙেঁ যায়, যার ফলে এই সড়ক বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই ইউনিয়নের বেশ কিছু এলাকায় পাহাড় ধ্বসে পড়ে বলে জানা যায়। কিন্তু কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনী বলে উপজেলা প্রশাসন সুত্র জানায়।

অপরদিকে সুত্র আরো জানায়, দির্ঘদিন যাবত টানা বর্ষনের ফলে উপজেলার চার ইউনিয়নের প্রায় এলাকায় ফসলি চাষের জমি, পাহাড়ের পাদদেশে থাকা  বাড়িঘরের, সৃজিত বিভিন্ন বনজ/ফলজ বাগানের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে। এখনো থেমে থেমে ভারী বর্ষন অব্যাহত রয়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ খুটি উপরে পড়েন।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, উপজেলার বেতবুনিয়া সুগারমিল , ডাক বাংলো, হেমন্ত পাড়া, কলমপতি নাইল্যাছড়ি বড়ডুলু পাড়া, তারাবুনিয়া, সুগারমিল,ডাববুনিয়া ছড়া, ঘাগড়া কলাবাগান,ছেলাছড়া, ঘাগড়া ্উচ্চ বিদ্যালয়, কাশঁখালী, রাঙীপাড়াহাসপাতাল এলাকা ইছামতি খালের তীর ঘেষে এলাকাগুুলি সরেজমিনে দেখা যায় ছোট ছোট পাহাড় ধ্বসে পড়ে রাস্তাঘাটের বেহাল অবস্থা।  তা ছাড়া এসব এলাকার বাড়িঘর, কালভার্ট, নিজস্ব উদ্যোগে সৃজিত বিভিন্ন ফলজ,বনজ বাগান বেশ কিছুদিন ধরে টানা বর্ষনের ফলে পাহাড়ী ঢলের কারনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ম্যুখীন হয়। তা ছাড়া কাঊখালী হতে রানীর হাট পর্যন্ত ইছামতি খালের দু পাশে বেশ ভাঙনের  ফলে বর্তমানে খালের দু পাশের মানুষের বসত বাড়ি,স্কুল, মাদ্রাসা,মসজিদ, বিভিন্ন পীরের মাজার ভবন বর্তমানে ভাঙঁনের হুমকির মুখে রয়েছে। তা ছাড়া কাউখালী কাশখালী হতে রানীর হাট পর্যন্ত ইছামতি খালের দু পাশে বৈধ এবং অবৈধভাবে মেশিনের সাহায্যে বালু তোলার কারনে ইছাঁমতি খালের দু পাশে ভাঙনঁ অব্যাহত থাকায় খালের পাশের রাস্তাঘাট ব্রীজ কালভার্ট গুলি রয়েছে হুমকির মুখে।

অব্যাহত টানা বর্ষনের ফলে কাউখালী উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তাঘাট কালভার্ট ভেঙ্গে যাওয়া প্রসংগে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র দত্ত “দৈনিক রাঙামাটি”কে বলেন, এই বর্ষায় কাউখালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যে হারে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রীজ ভেঙ্গে গেছে। এতে প্রায় ২০ কোটি টাকার মতো ক্ষতি হয় বলে তিনি জানান। কলমপতি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যাজাই মারমা বলেন, এবারের বর্ষন গত ২০১৭ ইং সালের বর্ষনের ছেয়ে কম নয়। টানা বর্ষনের ফলে কলমপতি ইউনিয়নের রাস্তাঘাট,ব্রীজ,কালভার্ট এবং মানুষের বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কলমপতি ইউনিয়নের একমাত্র প্রধান সড়ক সদর হতে নাইল্যাছড়ি হয়ে সুগারমিল সড়কটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।  মানুষের ভোগান্তি যেন এখন নিত্য সংগী হয়ে দাড়িয়েছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার কমল বরন সাহা বলেন, আমাদের উপজেলায় ১০টি ঘর সম্পুর্ন ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এবং ২৫টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তার মধ্যে উপজেলার বেশ কিছু কাচাঁ রাস্তা নষ্ট হয়। ইতি মধ্যে সরকারের জিআর হতে ১০ মেট্রিক টন চাল (খাদ্য শষ্য) ক্ষতিগ্রস্থ ৫০০জন পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাল বিতরন করা হয়।

এ প্রসংগে কাউখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ,এমজহিরুল হায়াত “দৈনিক রাঙামাটি”কে বলেন, ঈদের আগে বেশ কয়েকদিন যাবত টানা প্রবল বর্ষন হয়। কিন্তু এখন যদিওবা টানা বর্ষন হচ্ছেনা কিন্তু প্রতিদিন থেমে থেমে য়েভাবে বর্ষন হচ্ছে তাতে উপজেলার অনেক রাস্তা ঘাট, মানুষের বাড়িঘর, ব্রীজ, কালবার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা এসবের তালিকা জেলা প্রশাসনে ইতিমধ্যে পাঠিয়েছি। তারপরেও আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সার্বক্ষনিক খোজ খবর রাখছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের উপজেলায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনী বলে তিনি জানান।

পরিশেষে বর্তমানে প্রতিদিন যেভাবে থেমে থেমে ভারী বর্ষন হচ্ছে তাতে করে ঈদের পুর্ব থেকে শুরু করে টানা বর্ষনের ক্ষয় ক্ষতি এখনো অব্যাহত রয়েছে। টানা বর্ষনের সৃষ্ট ক্ষয় ক্ষতি মানুষ এখনো কাটিয়ে উঠতে পারছেনা কাউখালী উপজেলাবাসি সংশ্লিষ্ট মহল এখন তাই মনে করছেন।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।