ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা-

468


 নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে ছায়া সংসদের অতিথি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা ও ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ-এর কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করছে বিজয়ী দল প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা।

 

স্টাফ রিপোর্ট- ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি (প্রেস বিজ্ঞপ্তি):  আমাদের ফ্লাইওভারগুলো হচ্ছে যার জন্য অনেক জনদুর্ভোগ হচ্ছে। কিন্তু ফ্লাইওভারগুলো করতে হবে। আর এক্ষেত্রে জনদুর্ভোগের জন্য আমরা জনগণের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। কোনো ভালো কিছু করতে গেলে একটু কষ্ট স্বীকার করতে হয়। কিন্তু এসব কাজ বর্ষাকালে কেন করা হয় কারণ, জুন থেকে জুন অর্থবছর হওয়ায় যখন নতুন বরাদ্দ দেওয়া হয় তখনই দ্রুত কাজের অগ্রগতি শুরু হয়, আর তখনই শুরু হয় বর্ষাকাল, তখন ঝটপট টাকাটা খরচ করার জন্য কাজ শুরু করা হয়, ফলে দেখা দেয় জনদুর্ভোগ। তবে দেখা গেছে একটি সংস্থা রাস্তা তৈরি করে দিয়ে আসলো সেটি আবার ওয়াসা খনন করে ফেলল, আবার কিছুদিন পর বিদ্যুৎ বিভাগ গিয়ে বিদ্যুৎ লাইনের জন্য আবার সেটি খনন করে ফেলল। এ কারণেই সিটি কর্পোরেশনের সাথে সকল প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এই প্রেক্ষাপটে গত ২৭ আগস্ট, রোববার রাজধানীর তেঁজগাওস্থ এফডিসিতে নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবে করণীয় নিয়ে এক ছায়া সংসদ বিতর্কে প্রধান অতথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা, এমপি এসব কথা বলেন। ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি ও এটিএন বাংলা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান জনাব হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি আরো বলেন, শহর রক্ষা ও শহর উন্নয়নের দায়িত্ব আমাদের সবাইকেই নিতে হবে। যেমন: সামনে কোরবানির ঈদ আসছে। এ সময়ে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থার সাথে সহযোগিতা করে আমরা সকল নাগরিক যদি নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট জায়গায় কোরবানি দেই তাহলে এর বর্জ্য ও দুগন্ধ লাঘবে আমরা সহজেই সমাধান করতে পারব। তেমনি গণপরিবহনে যে ভোগান্তি ও যানজট তাও নিরসণে যেমন সুষ্ঠু পরিকল্পা প্রয়োজন তেমনি আমাদের সামগ্রিত সচেতনতাও প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন। আজ তরুণ বিতার্কিকরা সরকারি ও বিরোধী দলের ভূমিকায় যে বক্তব্যগুলি উপস্থাপন করেছে তা অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণদের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাজে সচেতনতা গড়ে উঠবে এবং বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের মাঝেও সমন্বয়ের সদিচ্ছা জাগ্রত হবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সমন্বয়হীন কর্মকান্ডে একদিকে যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম নগরী জলবদ্ধতা দূরীকরণসহ নাগরিক ভোগান্তি কমছে না। অন্যদিকে, শত উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা বলা হলেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নাগরিক দুর্ভোগ বেড়েই চলছে। উন্নয়ন কর্মকান্ড সঠিকভাবে সমন্বয় না হওয়ায় দিনে দিনে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়ছে। কিছু সময়ের বৃষ্টিতেই সড়ক-মহাসড়ক তলিয়ে যাওয়া, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, মশক নিধন, ফুটপাথ দখলমুক্ত করা, বিকল্প কর্মসংস্থান না করে হকার উচ্ছেদ, অনিরাপদ পার্ক, বর্জ্য দূরীকরণে অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ জনগণ। তবে নগরবাসীও বিনাকারণে পানির কল ছেড়ে রাখা, যত্রতত্র ময়লা ফেলা, গ্যাসের চুলো জ্বালিয়ে রাখা, ফুটওভার ব্রীজ ব্যবহার না করাসহ নানানরকম অসচেতনতামূলক কার্যক্রম লিপ্ত থেকে নাগরিক দুভোর্গ করে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

প্রতিযোগিতায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইম ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সিনিয়র সাংবাদিক মাঈনুল আলম ও গণবিশ^বিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি শিরীনা বিথী।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।