ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র ছায়া সংসদে এনবিআর চেয়ারম্যান: রাজস্ব আয় উন্নয়নের অক্সিজেন

566

স্টাফ রিপোর্ট- ৪ মার্চ ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি (প্রেস বিজ্ঞপ্তি): বাংলাদেশে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা জনবান্ধব করার লক্ষ্যে আইনী সংস্কার ও করের বোঝা না বাড়িয়ে করের পরিধি সম্প্রসারণ ও করদাতাদের প্রনোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকার রাজস্ব আহরণকে উন্নয়নের অক্সিজেন হিসেবে মনে করছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বাড়ানো হচ্ছে। সবাই মিলে কর প্রদানকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে দেশকে আরো বেশী স্বনির্ভর করা সম্ভব । অভ্যন্তরীন সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো: নজিবুর রহমান আজ সকালে বিএফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমাক্রেসি আয়োজিত কর ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিতর্ক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ অভিমত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ২৭ লাখ ৫০ হাজার করদাতা চিহ্ণিত করা ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তাদেরকে করের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে ইতোমধ্যে রাজস্ব বোর্ডের জনবল বৃদ্ধি, রাজস্ব সংলাপসহ গণমাধ্যমের সাথে অংশীদারিত্ব কার্যক্রম গ্রহনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।  এ বছরের জুলাই থেকে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকরের সিদ্ধন্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে ব্যবসায়িক পরিচিতি নাম্বার চালু করা হচ্ছে। কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠনের আইনগত দিক পর্যালোচনা করা হচ্ছে । কর কর্মকর্তদেরকে স্বদেশপ্রেমে অনুপ্রাণিত হয়ে কর আহরণ প্রক্রিয়াকে  তরান্বিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর কর্মকর্তাদের কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে লাল, হলুদ ও সবুজ এ তিন শ্রেনীতে চিহ্ণিত করা হচ্ছে। এ ছাড়া আয়করের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে  শক্তিশালী  করে কর আদায়ে নজরদারি আরো বাড়ানো হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হানান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মানুষের মধ্যে যে করভীতি রয়েছে সে ভীতি দূর করার জন্য কিভাবে কর ব্যবস্থাপনাকে আরো সহজ করা যায় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কর নিরূপন ও কর আদায় প্রক্রিয়া সহজ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কর গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকে কর প্রদানকারির সাথে বন্ধুসুলভ আচরন করতে হবে। তাহলেই কর আদায়ের পরিধি বাড়ানো সহজ হবে। অসৎ কর কর্মকর্তাদের দ্বারা যাতে কোন সম্মানিত করদাতা হয়রানির স্বীকার না হয় সেদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয় বিশেষ দৃষ্টি রাখবেন বলে অনুরোধ করেন জনাব কিরণ। একইসাথে তিনি আরো বলেন, কর ফাঁকি দেওয়ার মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। তিনি আদালতে ঝুলে থাকা কর ফাঁকিবাজদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচারের ব্যবস্থা করে মামলা সমূহ দ্রততার সাথে নিষ্পত্তি করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

প্রতিযোগিতায় সরকারী দল  ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি বিরোধী দল প্রাইম ইউনিভার্সিটিকে পরাজিত করে বিজয় হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলকে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ ও শিরীনা বিথী।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান, দৈনিক রাঙামাটি।