দীঘিনালায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ ব্যালট ছিনতাই ॥ হামলায় আহত প্রার্থী

412

॥ খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥

ব্যালট পেপার ছিনতাই, কেন্দ্র দখলের চেষ্টায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে দীঘিনালার ৩ ইউপির নির্বাচন। মেরুং ইউপির দুপুরে রসিক নাগার পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মেম্বার প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা চালায়। এ সময় বিজিবি,পুলিশ,র‌্যাবসহ দায়িত্বরত নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রবিবার সকাল ৮টা থেকে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হলেও সকালের শুরুটা ভোটারদের উপস্থিতি কম। বেলা বড়ার সাথে সাথে লাইন দীর্ঘ হয় ভোটার উপস্থিতি। মেরুং ইউপির আওয়ামীলীগ মনোনিত নৌকার প্রার্থী খাগড়াছড়ির একমাত্র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদা বেগম লাখীর উপর বিকেলে হামলা চালিয়ে লাঞ্চিত করে স্থানীয় তালা প্রতিকের ইউপি সদস্য (মেম্বার) পদ প্রার্থীর নির্দেশে মারধর ও লাঞ্চিত করার অভিযোগ করেছেন তার কর্মী সমর্থকরা। পরে গুরুত্বর আহত অবস্থান (অজ্ঞান) মাহমুদা বেগম লাখীকে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এক পর্যায়ে আধিপত্য বিস্তার করে এদিকে ৩৬নং বাঁচা মরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রার্থীদের আধিপত্য বিস্তার করে জাল ভোট দিয়ে ব্যালট ছিনতাই এর ঘটনা ঘটে। এ সময় সংঘর্ষে ৪জন পাহাড়ি ও ৮ বাঙ্গালী আহত হয়। এ ঘটনায় দুপুর ১২টা থেকে ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অবরুদ্ধ করে করে রাখাসহ প্রার্থীর এজেন্ট,পোলিং ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয়। উদ্ধার করা হয় ছিনতাই হওয়া জাল ভোট দেওয়া ৭৬টি ব্যালট পেপার।

বাঁচা মরং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আশা আলো চাকমা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করা হয়েছে। তারপর আমাদের চেষ্টা ছিল দায়িত্ব সর্বাত্মক ভাবে পালনের। প্রশাসনকে জানানোর পর তাদের আন্তরিক প্রচেস্টায় প্রতিস্থিতি অনুকুলে বলে তিনি জানান। এ ঘটনার পর থেকে বিকেল ১টা থেকে ভোট বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। এ ঘটনার জন্য তিনি নৌকার প্রার্থী ও আসারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে ঘটেছে বলে তিনি জানান। এছাড়াও কবাখালী,হাসিনসনপুর ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে বিছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে নির্বাচন শেষ হয়েছে।
এ সকল ঘটনায় খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবদুল আজিজ এর মুঠোফোনে কল দিলে তিনি ব্যস্ত থাকায় মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আওয়ামীলীগের নৌকার দীঘিনালার কবাখালীতে মো: আবদুল বারেক,বোয়ালখালীতে মো: মোস্তফা ও মেরুং ইউপিতে খাগড়াছড়ির একমাত্র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহমুদা বেগম লাখী। অন্যদিকে স্বতন্ত্র পদে চেয়ারম্যান পদে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের নেতা আনারস প্রতিকে তীর্ব প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন কবাখালীতে নলেজ চাকমা (জ্ঞান),বোয়ালখালীতে চয়ন বিকাশ চাকমা (কালাধন) ও মেরুং ইউপি হেমাব্রত চাকমা (কার্বারী)।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন দাখিলের শেষ তারিখ ২ নভেম্বর, মনোনয়ন বাছাই ৪ নভেম্বর, প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১১ নভেম্বর ও ভোট গ্রহণ ২৮ নভেম্বর ২০২১ইং। দুই উপজেলার ৭ ইউপিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্ররা তাদের নীববে ভোটারদের মনজয় ও নানা কৌশল অবলম্বণ করে তাদের প্রার্থীদের বিজয় শেষে ভোট নিশ্চিত করতে কাজ করে চলেছে।