ধর্ম পালন করবো কিন্তু সাম্প্রদায়িক হবো নাঃ এমপি দিপংকর

443

॥ ইকবাল হোসেন ॥

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য দিপংকর তালুকদার বলেছেন, ধর্মের অনুসরণ মানুষের মাঝে নৈতিকতাকে উজ্জিবীত করে, তাই বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, ধর্ম মানুষকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারে। আমরা ধর্ম পালন করবো কিন্তু সাম্প্রদায়িক হনো না; নিজ ধর্ম পালনের পাশাপাশি অন্য ধর্মকেও শ্রদ্ধা করবো এবং অন্য ধর্মবলম্বীদের সহযোগীতা করবো। কারণ কোন ধর্মই মানুষের অনিষ্ট করার শিক্ষা দেয়না। এমন অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। মুক্তিযুদ্ধ বা ৬৯ গণঅভূত্থানে আমরা কে মুসলিম কে বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান তা দেখে আন্দোলন করিনি, আন্দোলন করেছি ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য; মানুষের কল্যাণের জন্য।

রাঙামাটি শহরের আসামবস্তি মুসলিম পাড়ায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত ‘বায়তুন নূর জামে মসজিদ’ উদ্বোধনকালে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার এই মন্তব্য করেন। বুধবার সকালে মসজিদের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা পরিষদ সদস্য ও বায়তুন নূর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাজী মো. মুছা মাতব্বরের সভাপতিত্বে ও মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. সেলিম আল ক্বাদেরীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিক আহমেদ তালুকদার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. হানিফ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইসহাক সওদাগর, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক চিত্ত রঞ্জন দাশ, সদস্য মিন্টু মারমা, বাবলা মিত্র, জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাচিং মার্মা, ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রবি মোহন চাকমা, ৩, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর সোমা বেগম পূর্ণিমা, জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বাপ্পা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল রাঙামাটি জেলার সভাপতি মো. রাসেল তালুকদার, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাসেলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি তালুকদার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ধর্মের এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করে যাচ্ছেন। তিনি সারা দেশের প্রত্যেকটি উপজেলায় ১টি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন, অনেক মসজিদের কাজ সম্পন্নও হয়েছে। এমপি বলেন, আমাদের রাঙামাটির হিন্দু, বৌদ্ধ ও খিষ্টানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ ইতিমধ্যে পাকা করা হয়েছে। হয়ত কয়েকটি হিন্দু মন্দিরের কাজ বাকি আছে, তা আমরা আগামী নির্বাচনের আগেই সম্পন্ন করবো। তিনি মসজিদের বারান্দা, ওজুখানা ও সিঁড়িসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।