নানিয়ারচরের বড়পুল পাড়ায় ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু সংস্কারের দাবি স্থানীয়দের

332

|| নানিয়ারচর প্রতিনিধি ||

রাঙামাটির নানিয়ারচরে সাবেক্ষং ইউনিয়নের বেইলি সেতুটির বেহাল অবস্থা দেখা দিয়েছে। ফলে উপজেলার নানিয়ারচর সদর ইউনিয়ন ও সাবেক্ষ্যং ইউনিয়নে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে হাজারো পরিবার। ঝুঁকি নিয়েই পায়ে হেটে হচ্ছে স্থানীয়রা।

সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নানিয়ারচর উপজেলা সদর ইউনিয়নের বড়পুল পাড়ার বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এলাকার বাসিন্দারা পায়ে হেটে, মাথায় ও কাধে করে পন্য সামগ্রী পারাপার করছেন। এ ব্যাপারে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা জানান, সাবেক্ষং এলাকার দীর্ঘদিনের এই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্থানীয়দের চলাচলে বিঘ্নতা ঘটছে। ব্যাক্তিগতভাবে আমি চাই কতৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত সেতুটি মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহন করবে।

স্থানীয় মূদি ব্যবসায়ী নরেন্দ্র লাল চাকমা জানান, নানিয়ারচর সদর ও সাবেক্ষং ইউনিয়ন ২টির সংযোগ স্থাপন করেছে। গত ৪/৫ বছর সেতুটির বেহাল দশা হলেও বেশ কিছুদিন এই সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচলে অযোগ্যগ হয়ে পড়ায় এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। সেতুর আগে সিএনজি রেখে কাধে করে মালামাল পার করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবি সেতুটি দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয় লিমা চাকমা জানান, পাহাড়ি ঢলে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। প্রবল বৃষ্টি হলে সেতুটি দিয়ে চলাচল করা যায়না। অনেক স্কুল পড়ুয়া শিশুরা এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু পার হয়ে স্কুলে যায়। এনিয়ে আমরা অভিভাবকরা অনেক চিন্তাই থাকি। স্থানীয় পুলিন চাকমা জানান, ৯০ এর দশকে স্থাপিত হওয়া এই সেতুটি দীর্ঘদিন যাবৎ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পুরাতন এই সেতুটি এখন পর্যন্ত কেউ মেরামতের উদ্যোগ নেয়নি। সেতুটি মেরামত হলে এই পাড়ার ২শত পরিবার ও আশপাশের ৮-১০টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবে।

নানিয়ারচর সদর ইউনিয়নের ৪নং ইউপি সদস্য বিমল চাকমা জানান, সড়ক ও সেতুর বেহাল দশা। যান চলাচলে স্বচ্ছলতা এলে এই এলাকার জনগণ সরকারের উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে। এই বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রকৌশলী রনি সাহা জানান, নানিয়ারচরের সাবেক্ষং এলাকায় উপজেলা এলজিইডি কর্তৃক কোন বেইলি সেতু করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে এটা কি উপজেলা পরিষদ, গণপূর্ত বিভাগ, উন্নয়ণ বোর্ড নাকি সড়ক ও জনপদ বিভাগ এই সেতুটি নির্মাণ করেছে।

এদিকে সাবেক্ষং এর সাথে বড়পুল পাড়ার অপর এক যোগাযোগের মাধ্যম স্থানীয়দের তৈরী বাঁশের সাকো। এই সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন ২শতাধিক পরিবার যাতায়াত করে। স্থানীয়দের দাবি সাঁকোটির জায়গায় একটি সেতু নির্মাণ হলে দুঃখ ঘুচবে স্থানীয়দের।