নানিয়ারচরে অদম্য এক করোনা যোদ্ধার গল্প

314

॥ মাহাদী ইমাম ॥
হালিম, পেশায় একজন ট্রাক ড্রাইভার।  করোনার এই দূর্যোগেও সাহসী এই যোদ্ধা পরিবারের দায়িত্ব পালনের জন্য পিছ পা হয়নি সে। তার বাহনটি নিয়ে সে চলে যেতো দেশের বিভিন্ন জায়গায়। আজ চট্টগ্রাম তো কাল ঢাকা।

এভাবে নিজ পরিবারের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করেছে সমাজের, সচল রেখেছে রাষ্ট্রের অর্থনীতির। কিন্তু দুর্ভাগ্য তার পিছু ছাড়েনি। দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছে কোভিড-১৯ তথা করোনা ভাইরাসে।

২২ মে প্রথম কোভিড-১৯ পজিটিভ রিপোর্ট আসে হালিমের। তাতেও সে দমে যায়নি। থেকেছে আইসোলেশনে যাতে পরিবার, প্রতিবেশী কেউ আক্রান্ত না হয় এবং কেউ আক্রান্তও হয়নি। ৫ই জুন ২য় দফায় আসে হালিমের করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট। হালিম আশার আলো দেখতে পেল। কিন্তু তবুও না দমে চালিয়ে গেল তার কঠোর আইসোলেশন যুদ্ধ।

৮ই জুন তার ৩য় দফায় কোভিড-১৯  নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা অদম্য এই করোনা-যোদ্ধাকে স্যালুট জানান স্থানীয়রা। স্যালুট জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও বরণ করে নিয়েছেন হালিমকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এমন একটি ষ্ট্যাটাস ও দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জুনেল খীসা দৈনিক রাঙামাটির প্রতিবেদক কে মুঠোফোনে জানান, আনারসে রাজ্য খ্যাত নানিয়ারচরে আনারস, কাঁঠাল,  আম, লিচুসহ নানা মৌসুমী ফল বাজারজাত করতে সাহসী ভুমিকা পালন করেন হালিম। দেশের কোন এক অঞ্চল থেকে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসে।

হালিম প্রথম জ্বর, কাশি নিয়ে আমাদের বহির্বিভাগে আসে। আমরা করোনা সন্দেহে তার নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম (বি আই টি আই ডি) করোনা টেষ্ট ল্যাবে পাঠাই। ২২শে মে তার করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। পরে দ্বিতীয় দফায় ও পর্যায়ক্রমে ৩য় দফায় তার করোনা নেগেটিভ আসে। হালিমের করোনা নেগেটিভ হওয়ার মূল হাতিয়ার ছিল একমাত্র তার দৃঢ় মনোবল।

এবিষয়ে হালিম জানান, আমি করোনা আক্রান্ত হয়েও মনোবল হারাইনি। অন্য কেউ যাতে আক্রান্ত না হয় তাই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করেছি। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক চিকিৎসা চালিয়েছি।

তিনি আরও জানান, আইসোলেশনে থাকা কালীন উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন থেকে আমাকে যথেষ্ট সহায়তা করা হয়েছে। ফলে আমি মনবল হারায়নি।

নানিয়ারচর উপজেলায় করোনা আক্রান্তের ঘটনায় সাধারণ জনগণ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে চলছেন। উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, সেনাবাহিনী, পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরেই চলছে করোনা প্রতিরোধের চেষ্টা।