নানিয়ারচরে পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ওভারলোডিং; বাড়ছে দূর্ঘটনা

229

।।মাহাদী বিন সুলতান।।

পাহাড়ি এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে অনিয়ন্ত্রিত ওভারলোডিং এর ফলে নানিয়ারচরে বাড়ছে দূর্ঘটনা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয়রা। মঙ্গলবার উপজেলার ঘিলাছড়ি-সমাজ কল্যাণ- বুড়িঘাট সড়ক সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, পাহাড়ি আঁকাবাঁকা ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটনা। অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণ (ওভারলোডিং), ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অনভিজ্ঞ চালক দ্বারা যান চলাচলের ফলে অহরহ বাড়ছে দূর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন পরে এই এলাকায় সড়ক নির্মাণ ও যান চলাচলের উন্নয়ন হচ্ছে এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার মান। কিন্তু প্রায়শই দূর্ঘটনা আতঙ্কিত করছে স্থানীয়দের। ফলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা।

এই বাপারে ঘিলাছড়ি বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও রামহরী পাড়ার বাসিন্দা জীবন্ত চাকমা জানান, কদিন পর পর এই সড়কে দূর্ঘটনা এলাকাবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বাঁশ ও গাছ পরিবহণে ট্রাকগুলো ওভারলোডিং করে গাছ বোঝায় করে। ফলে এলাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে কৃষক, শ্রমিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। প্রশাসন যদি হস্তক্ষেপ করে এই সড়কে ওভারলোডিং, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও অনভিজ্ঞ চালক দ্বারা গাড়ি চালানো বন্ধ করে এবং পণ্য পরিবহণে বিধিমালা নির্ধারণ করে দেয় তবে আনারস, বাঁশ ও গাছ ব্যবসায়ী ও কৃষকরা লাভবান হবে।

সড়কে দূর্ঘটনা বেড়ে যাওয়া ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনার বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িঘাট এলাকার আইনজীবী ও শিক্ষা বান্ধব ব্যক্তিত্ব মোঃ মামুন ভুঁইয়া প্রতিবেদককে জানান, এই ব্যাপারে প্রথমেই এলাকার চালকদের নিয়ন্ত্রনহীন ভাবে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে হবে। যেহেতু পাহাড়ি এলাকার এই সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেহেতু স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগকে এই সড়কে যান চলাচলে বিধিমালা নির্ধারণ করতে হবে। এলজিইডি বিভাগ সেক্ষেত্রে ৫টনের অধিক ওজনের পণ্য পরিবহণ না করার নির্দেশনা দিবে। এছাড়া প্রতিটি মোড়ে সাইন সিগনাল ও সাপোর্টিং পিলার স্থাপন করতে হবে। যাতে করে পাহাড়ি সড়কের আঁকাবাঁকা মোড়ে দূর্ঘটনা না ঘটে এবং প্রতিটি মোড়ে এ্যারো চিহ্ন ব্যবহার করতে প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে।

এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিউলি রহমান তিন্নী জানান, গত কদিনে বেশ কয়েকটি দূর্ঘটনার খবর পেয়েছি। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো এবং অনিয়ন্ত্রিত ও অতিরিক্ত পণ্য পরিবহণ কোনভাবেই কাম্য নয়। সুতরাং সড়ক সংশ্লিষ্ট বিভাগ, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকদের সাথে আলোচনা পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।