নানিয়ারচর থেকে ২৭ গ্রামবাসী অপহৃত হবার সংবাদে এলাকায় আতঙ্ক

386

॥ স্টাফ রিপোর্টার  ॥

রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলা থেকে ২৭ গ্রামবাসী অপহৃত হয়েছে বলে দাবি করে ঘটনার প্রতিবাদে নানিয়ারচর উপজেলায় ১০ জুলাই  মঙ্গলবার সড়ক ও নৌ পথে অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ সমর্থিত নব্য মুখোশ বাহিনী প্রতিরোধ কমিটি।

দুইমাস আগে ওই উপজেলার নির্বাচিত চেয়ারম্যান প্রকাশ দিবালোকে খুন হওয়ার পর তার শূণ্য আসনটিতে নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলছে। এই প্রেক্ষাপটে এ ধরণের অপহরণ ঘটনা ভোটারদের আতঙ্কিত করার ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। রোববার রাতে গণমাধ্যমে মাধ্যমে পাঠনো নব্য মুখোশ বাহিনী প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিব পরাণধন চাকমা সাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো  হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়- ৯জুলাই উপজেলার ঘিলাছড়ি এলাকায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। রোববার সকালে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত উপজেলার হাতিমারা মুখ-ক্যারেটছড়ির দোরের টিলা এলাকায় সাধারণ গ্রামবাসী বহনকারী নৌকাগুলোর গতিরোধ করে প্রতিটি নৌকা থেকে এক-দু’জন করে ২৭জনকে নিয়ে যায়।

২৭জন অপহরণের মধ্যে ১১জনের নাম জানা গেছে। অপহৃতরা হলো- চন্দিলাল চাকমা (৩২), সোনামণি চাকমা (৩৮), বায়ুধন চাকমা (৫২), রাতু মণি চাকমা (৪৫), শ্যামল কান্তি চাকমা (৪৫), প্রত্যেমোহন চাকমা (৫৫), সুইধন চাকমা (৩০),  নবরতন চাকমা (৪৫), লদ্রু সেন চাকমা (৫০), দেব রঞ্জন খীসা (৫০) এবং সুনীল কন্তি চাকমা (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের ন্যায় উপজেলার  স্থানীয়বাসিরা কাঁচামাল নিয়ে কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশ্য নৌকাযোগে (ইঞ্জিন চালিত নৌকা) যাওয়ার সময় একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হাতিমারা মুখ-ক্যারেটছড়ি এলাকার দোরের টিলা এলাকায় নৌকাগুলোর গতিরোধ করে প্রতিটি নৌকা থেকে এক-দু’জন করে ২৭জনকে নিয়ে যায়। জানা যায়, অপহৃতরা সকলে নানিয়ারচর উপজেলার বাসিন্দা। ইউপিডিএফ প্রসীত গ্রুফ এ ঘটনার জন্য ইউপিডিএফ বর্মা গ্রুপ এবং জেএসএস সংস্কারকে দায়ী করেছে।

এ বিষয়ে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’র (ইউপিডিএফ) মুখপাত্র মাইকেল চাকমা জানান,  প্রতিদিনের ন্যায় উপজেলার সাধারণ মানুষেরা মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য কুতুকছড়ি বাজারের উদ্দেশ্য নৌকাযোগে যাতায়াত করে।

কিন্তু রোববার সকালে ইউপিডিএফ বর্মা গ্রুফের সশস্ত্র সদস্য প্রত্যয় চাকমা, রণয় চাকমা এবং জেএসএস সংস্কার’র সশস্ত্র সদস্য প্রগতি চাকমা, রূপম চাকমার নেতৃত্বে সাধারণ মানুষদের অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা এবং সোমবার ( ৯জুলাই) সকালে  মানববন্ধন করা হবে বলে এ নেতা জানান।

নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জানান, আমি এ ধরণের ঘটনার খবর শুনিনি।

এর আগে গত ৪ জুলাই নানিয়ারচরের বুড়িঘাট ইউনিয়নের বগাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত আনন্দ মোহন চাকমার ছেলে সুখেন্তু চাকমা (৫০) ও একই গ্রামের প্রয়াত ডুলু চাকমার ছেলে ত্রিদিব চাকমা (৪৮) নামে দুই ব্যক্তিকে অপহরণ করেছিল সন্ত্রাসীরা। তাদের মুক্তির জন্য তাদের দুই পরিবারের কাছ থেকে ২০ লখ টাকা দাবি করে। তাদের এখনও ছেড়ে দেয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

তবে অপহরণের বিষয় জানা নেই নানিয়ারচর থানা পুলিশের। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে নানিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বলেন, এ ধরনের অপহরণের বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেননি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের উপনির্বাচনে প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টার উদ্দেশ্যে এসব অপহরণ চলছে।