নিরাপদ প্রসব সচেতনতা ক্যাম্পেইনে রাঙামাটির ডিসি : মেয়েদের সুশিক্ষিত করে তুলতে পারলে বাল্য বিয়ে কমে যাবে

460

p.1

 

আলমগীর মানিক- স্টাফ রিপোর্টার, ৬ জানুয়ারি ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : সমাজের সকল পর্যায়ের মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে পারলে বাল্য বিবাহ অনেকাংশেই কমে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, মেয়েরা পড়ালেখায় রত থাকলে তাদের বয়সন্ধির সময়টি বিদ্যালয় ও কলেজের আঙ্গিনায় কেটে যায়। এতে পরিবারের উপর যেমন চাপ কম থাকে তেমনি অল্প বয়সে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়ার সম্ভাবনাও কমে যায়। এভাবে বাল্যবিবাহ না হলে অল্প বয়সে গর্ভধারনের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে আশা করেন তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, একজন মেয়েশিশু উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করতে করতে যেমন তার ঝুকিঁপূর্ন বয়স পার হয়ে যায় তেমনি শিক্ষিত হওয়ার কারণে সচেতনতাও বৃদ্ধি পায়। পরিণত বয়সে বিয়ে হলে মেয়েরা সংসার সংসার ধর্ম পলনেও যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারে।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বর্তমান সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কারগুলো থেকে বেড়িয়ে এসে বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসার প্রতি অগ্রসর হওয়ার এখনই সময়। শিশুদের ভবিষ্যৎ উন্নতির জন্য পরিচর্যার কাজটি মাতৃগর্ভ থেকে শুরু করে জন্ম পর্যন্ত নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার কমে এসেছে উল্লে¬খ করে তিনি বলেছেন একমাত্র সচেতনতা এবং সঠিক সেবা পাওয়ার কারনে দিন দিন এ ক্ষেত্রে উন্নতি ঘটছে। মায়ের গর্ভে সন্তান আসার সাথে সাথে ঐ মাকে সকল প্রকার ভিটামিন ও পুষ্টিরও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি এসব জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে সমাজের দর্পন সাংবাদিকদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে রাঙামাটি জেলার সকল উপজেলা ও জেলা সদরের সাংবাদিকদের সাথে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসক আরো বলেন, বর্তমানে সুষ্ঠু এবং নিরাপদ ভাবে বসবাস করতে নিজের বাজেট অনুযায়ী পরিবার গঠন করতে হবে। পরিকল্পিতভাবে পরিবার গঠন করলে আগামী দিনের প্রজন্মকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা যায়। তিনি বলেন, মাকে শিক্ষিত এবং সচেতন করতে পারলে পিছনের দিকে আর তাকাতে হবেনা। তিনি বলেন বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সকলে যদি সন্মিলিত ভাবে উদ্যোগ নেই তাহলে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।

সাংবাদিকদের নিয়ে ‘ছোট পরিবার ধারণার উন্মেষ, পুষ্টি. এএনসি, পিএনসি, নিরাপদ প্রসব ও নবজাতকের যতœ’ শীর্ষক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের উদ্যোগে সচেতনতা মূলকএই ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়। রাঙামাটি সদর, কাউখালী, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, লংগদু, রাজস্থলী, নানিয়ারচর, বিলাইছড়ি, বরকল ও জুরাছড়ি উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স্র মিডিয়ার চল্লি¬শজন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেগম শাহানওয়াজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সচেতনতা মূলক ক্যাম্পেইন এ অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি পরিবার কল্যাণ প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটের অধ্যক্ষ ডাঃ রতন কুমার দে, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের ডাঃ বেবী ত্রিপুড়া, ডাঃ লেলিন তালুকদার, প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের আইইএম ইউনিটের ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার  প্রবীর কুমার সেন।

এছাড়া বিভিন্ন মতামত ব্যক্ত করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত উল্লে¬খ করে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকেদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটির সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি নন্দন দেবনাথ, দৈনিক রাঙামাটি চীফ রিপোর্টার আলমগীর মানিক, কাউখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন, আরিফুল হক মাহবুব, জিয়াউর রহমান জুয়েল, লংগদু প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ এখলাস মিয়া খান, সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক মূছা, বাঘাইছড়ির মোঃ কামাল উদ্দিন, কাপ্তাইয়ের কাজী মোশারফ হোসেন, নজরুল ইসলাম লাভলু, মাহফুজ আলম, রাজস্থলী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজগর আলী খান ও বরকলের পুলিণ চাকমা প্রমূখ।

পোস্ট- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান