নৌকার জোয়ারে ভাসছে তিন পার্বত্য জেলা

451

স্টাফরিপোর্ট- ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮, দৈনিক রাঙামাটি:

সম্ভাব্য সব বাধা এবং প্রতিরোধের মধ্যেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি আসনে ব্যপক ভোটের ব্যবধানে নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। সারা দেশের ন্যয় পার্বত্য চট্টগ্রামেও ঐক্যফ্রন্টের প্রতিরোধের পাশাপাশি নৌকার প্রার্থীদের দূর্গমতা পেরিয়ে পার্বত্য সশস্ত্র আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর কঠিন প্রতিরোধের মোকাবেলা করতে হয়। তার পরো নৌকার প্রার্থী রাঙামাটি আসনে দীপংকর তালুকদার, বান্দরবানে বীর বাহাদুর উশৈসিং এবং খাগড়াছড়িতে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হওয়াতে তিন পার্বত্য জেলার আওয়ামী লীগে নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা আনন্দো-উল্লাশে মুখরিত। এই নিয়ে আমাদের এতিবেদন।

চতূর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন দীপংকর তালুকদার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
চতূর্থবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। ২৯৯ নং পার্বত্য রাঙামাটি সংসদীয় আসনের ২০৩টি ভোট কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী তিনি নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী জেএসএস সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঊষাতন তালুকদার সিংহ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লক্ষ ৮ হাজার ৩৬ ভোট। তবে এই ফলাফল প্রতিবেদকের নিজস্ব সোর্স থেকে প্রাপ্ত; যা রিটার্নিং কর্মকর্তার দপ্তর থেকে এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

সোমবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক ও রির্টানিং কর্মকর্তা একেএম মামুনুর রশিদ দৈনিক রাঙামাটিকে জানান, আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টায় সর্বশেষ হেলিকপ্টারটি রাঙামাটি পৌঁছুবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পরপরই বিকাল ৩টা নাগাদ এই আসনের চুড়ান্ত বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হবে। সোমবার পর্যন্ত জেলার ২০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৯৭টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেছেন জেলা রিটানির্ং কর্মকর্তা। তাঁর ঘোষিত ফলাফলে ১৯৭ কেন্দ্রে দীপংকর তালুকদার পেয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৭৮ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী বর্তমান এমপি ও জেএসএস সমর্থিত প্রার্থী উষাতন তালুকদার সিংহ মার্কায় পান ১ লাখ ৫ হাজার ৮৪ ভোট। এছাড়া বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মনিস্বপন দেওয়ান ধানের শীষে পেয়েছেন ৩১ হাজার ২০১ ভোট। জাতীয় পার্টি সমর্থিত এডভোকেট পারভেজ তালুকদার লাঙ্গল মার্কায় পেয়েছেন ৪৮০ ভোট। বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির জুই চাকমা কোদাল প্রতীকে ৪৭৬ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জসীম উদ্দিন হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৫৪ ভোট।

এরপর থেকেই বিভিন্ন স্তরের মানুষ দীপংকর তালুকদারকে অভিনন্দন জানাতে তার বাসভবনে ভিড় জমান। তিনিও একমাসের বিরামহীন ক্লান্তি ভুলে হাসিমুখে সবার সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং মিষ্টি মুখ করেন। সোমবার এই নেতা দলীয় তার প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে কুশল বিনিময় ও মিষ্টি বিতরণ করে আসেন।

প্রসঙ্গত, এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের এই সাবেক নেতা ৪র্থ বারের মতো এমপি নির্বাচিত হলেন। এর আগে নৌকার টিকিটে ১৯৯১ সালে তিনি প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এর পর ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দীপংকর তালুকদার আবারও নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। এই সংসদের মেয়াদকালে পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন তিনি। ২০০৮ সালে নবম সংসদে আবারও নিজের আসন পুণরুদ্ধার করেন তিনি। এবার দল তাকে মূল্যায়ন করে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়। কিন্তু সর্বশেষ ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে তিনি আঞ্চলিক দলের উষাতন তালুকদারের কাছে হেরে যান।

দেশের বৃহত্তর এ জেলায় ১০ উপজেলা ও দুই পৌরসভা নিয়ে ভোটার হচ্ছে ৪ লাখ ১৮ হাজার ২৪৮ জন। এবারে রাঙামাটি জেলায় নতুন ভোটার ছিল ৩৯ হাজার ৫৬৩ জন। জেলার ১০ টি উপজেলায় ৫০ টি ইউনিয়নে ২০৩ টি ভোট কেন্দ্র ও ৮৯৩ টি বুথে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। জেলায় ৪ হাজারের বেশী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। রোববার (৩০ ডিসেম্বর) সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

খাগড়াছড়িতে ফের এমপি হলেন কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি:

খাগড়াছড়ি ২৯৮নং আসনে বেসরকারী ফলাফল অনুযায়ী ১৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যের মধ্যে বেসরকারী ভাবে ১৮৬টি কেন্দ্রে ২,৩৬,১৫৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছে (নৌকা)’র প্রার্থী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউপিডিএফের সিংহ প্রতীকের নতুন কুমার চাকমা পেয়েছে ৫৯,২৫৭ ভোট। রোববার রাতে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা রির্টানিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো: শহীদুল ইসলাম এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এছাড়াও (ধানের শীষ) প্রতীকে বিএনপির প্রার্থী মো: শহীদুল ইসলাম ভূইয়া ফরহাদ পেয়েছেন ৫১,২৬৬ ভোট। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাত পাখার প্রার্থী আ: জব্বার গাজী পেয়েছেন ২৯৩৫ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী লাঙ্গল প্রতিকে সোলায়মান আলম শেঠ পেয়েছেন ২৩৪০ ভোট পেয়েছে।
অপরদিকে- নারাইছড়ি দূর্গম কেন্দ্র হওয়াতে ভোট ফলাফল না পাওয়ায় রির্টারিং অফিসার চুড়ান্ত ফলাফল সোমবার ঘোষণা করবেন বলে জানান। ১৮৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৮৭ কেন্দ্রের প্রাপ্ত ভোট ৩,৫৭,১৫৪। মোট বাতিল ভোট ৫২০০।

খাগড়াছড়িতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৩৩ জন। ১৮৭ কেন্দ্রে রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে টানা ভোট গ্রহণ। খাগড়াছড়িতে জয়ের লক্ষে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেছেন।

বান্দরবান আসনে ৬ষ্ঠবার এমপি হলেন বীর বাহাদুর উশৈসিং

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং নৌকা প্রতীক নিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মত বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। কেন্দ্র এজেন্টদের পাওয়া তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যে মতে, জেলার ১৭৬টি ভোট কেন্দ্রে মধ্যে নৌকা প্রতীকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং পেয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিএনপির প্রার্থী রাজপুত্র সাচিং প্রæ জেরী পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৭১০ ভোট। বেসরকারী ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকা বীর বাহাদুর উশৈসিং ৮৮ হাজার ২৯২ ভোট বেশী পেয়ে ষষ্ঠবারের মত নির্বাচিত হয়েছে।

বীর বাহাদুর এমপি বর্তমানে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি পার্বত্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এর আগে ২০০৮ সালেও তিনি বিজয়ী হন এবং প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পাঁচবছর তিনি এই দায়িত্বে ছিলেন। এই আসন থেকে ছয়বার নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে প্রতিবার জয়ী হন বীর বাহাদুর। তবে এবার তার আসনে নিজের প্রার্থীতা নিয়ে দলীয় নেতাদের কোন্দলে পড়েন তিনি। অবশেষে নানা জল্পনা কল্পনার পর তিনি প্রার্থীতা নিশ্চিত করলেও তার জয় নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিভিন্ন মহল। আখেরে জয় ছিনিয়ে নিয়ে তিনি প্রমাণ করলেন বান্দরবানে নৌকার কান্ডারী হিসেবে বীর বাহাদুরের বিকল্প নেই।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো প্রধান।