পরোলোকে মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল

160

mitil

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, ২১ জুলাই, ২০১৬ : বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও নারীনেত্রী শিরিন বানু মিতিল আর নেই। বুধবার (২০ জুলাই) মধ্যরাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাত ১১টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

একাত্তরের রণাঙ্গণের সাহসী এই নারীর জন্ম ১৯৫১ সালের ২রা সেপ্টেম্বর পাবনা জেলায়। বাবা খোন্দকার শাহজাহান মোহাম্মদ ও মা সেলিনা বানু। বাবা ছাত্রজীবনে ও ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে যুক্ত ছিলেন। মা পাবনা জেলার ন্যাপ সভানেত্রী এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের এমপি ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হওয়ার ফলে নিজেও ছিলেন রাজনীতি সচেতন। ছোটবেলা থেকেই ছাত্র ইউনিয়নে যোগ দেন তিনি।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।  ১৯৭০-১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়ন এর সভানেত্রী এবং কিছু সময়ের জন্য পাবনা জেলা মহিলা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদিকা ছিলেন। তিনি শার্ট প্যান্ট পরে কিশোর যোদ্ধা সেজে যুদ্ধে অংশ নেন। ২৮শে মার্চ পাবনা জেলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জে ৩৬ জন পাকসেনার সঙ্গে জনতার এক তুমুল যুদ্ধ সংগঠিত হয়। সেই যুদ্ধে তিনি ছিলেন একমাত্র নারী যোদ্ধা। এই যুদ্ধে ৩৬ জন পাকসেনা নিহত এবং ২ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হয়। এছাড়াও ৩১শে মার্চ পাবনার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপিত হয়। ৯ এপ্রিল নগরবাড়িতেও এক প্রচ- যুদ্ধ সংগঠিত হয়। সে সময় কন্ট্রোল রুমের পুরো দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে পাবনা শহর পাকবাহিনী দ্বারা দখল হলে তিনি ২০ এপ্রিল সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে বাংলাদেশ সরকার পরিচালিত একমাত্র নারীদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ‘গোবরা’য় যোগ দেন। পরবর্তীতে মেজর জলিলের নেতৃত্বে পরিচালিত ৯নং সেক্টরে যোগ দেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু ছিলেন তিন সন্তানের জননী।

আজ এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি লাকী আক্তার এবং সাধারণ সম্পাদক জিএম জিলানী শুভ বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী,শিরিন বানু  মিতিলের মৃত্যুতে ছাত্র ইউনিয়ন পরিবারের পক্ষ থেকে শোক ও মৃতের শোকাগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশ করেছেন।তারা বলেন শিরিন বানু মিতিলের জীবন ও মুক্তিযুদ্ধে যোগ দান প্রীতিলতা ওয়াদেদারের ব্রিটিশবিরোধী যুদ্ধে যোগদান করার মতই চিরস্মরণীয় ও অনুকরণীয়।

আগামীকাল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধার মরদেহ সকাল ১০টা থেকে ১১:৩০ পর্যন্ত শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাখা হবে। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণের জন্য বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠন, ব্যক্তিবর্গ, শুভানুধ্যায়ীদের নির্ধারিত সময়ে আসার আহবান জানানো হচ্ছে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরো অফিস, দৈনিক রাঙামাটি