পর্যটককের ভীড়ে মুখরিত বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলো

438

p......5

 

বান্দরবান থেকে নুরুল কবির, ৬ জানুয়ারি ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : অনুকুল আবহাওয়া এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকার সুবাদে এবার শীতের শুরুতেই পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমিন্ডত পার্বত্য বান্দরবান। প্রতিদিন দেশের বিভিন্নপ্রান্তসহ দেশের বাইরে থেকে ছুটে আসছেন হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু মানুষ। বাংলা বর্ষপুঞ্জিকায় অগ্রহায়ন থেকে ফাল্গুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শীত থাকে পাহাড়ে। এবার সারাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বা সহিংস কোন কর্মসূচি নেই। এতে পরিস্থিতি যেমন শান্ত তেমনি মানুষের মনেও নেই তেমন কোনো আতঙ্কও। এই সুযোগে নানা বয়সী মানুষ মনের আনন্দে খানিকটা সময় কাটানোর জন্য ছুটে আসছেন প্রকৃতির কোল বান্দরবানে।

বান্দরবান জেলা শহর এবং আশেপাশের প্রধান প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো এখন দিনরাত পর্যটকদের কলকাকলীতে মুখরিত। জেলার মেঘলা পর্যটন কেন্দ্র আধুনিক শৈলীসমৃদ্ধ ও স্থাপত্য অবকাঠামোয় নির্মিত নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র, সোনালী রংয়ের বুদ্ধ ধাতু মন্দির, রামজাদি মন্দির, সেনানিবাসের শাপলা চত্বর, ২টি পুরানো রাজবাড়ি, শৈলপ্রপাত, মেঘলায় স্থাপিত ক্যাবলকার ও ২টি ঝলুন্ত সেতু এবং মিনি চিড়িয়াখানা। তাছাড়াও জেলার রুমা উপজেলায় রি স্বং স্বং ঝর্ণা,পাহাড়ের ভাজে ভাজে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পাড়া, কিংবদন্তি বগালেক, ক্যাও ক্রাডং, তাজিংডং, রামাজং পাহাড়, সেনাবাহিনী পরিচালিত আধুনিক স্থাপত্যের নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র, থানছির উজানে সাংগু নদীর বুকের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রাজাপাথর, রেমাক্রি ঝর্ণা ও নাফাকুম পর্যটন স্পট রয়েছে।

প্রতিবছরের মত এবারের শীতেও অবকাশ সময় কাটাতে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক জেলা শহরের আবাসিক হোটেল-মোটেল ও গেষ্টহাউস গুলোতে উঠেছে। এ বছর জেলা শহরে  নতুন নতুন  আবাসিক হোটেল ও গেষ্ট হাউস গড়ে তোলা হয়েছে বেসরকারি উদ্যোগে। আধুনিক মডেল ও কারুকার্য্যে নির্মিত হয়েছে বিলাসবহুল এসব হোটেল। সাধারণ হোটেলের দুইবেড বিশিষ্ট কক্ষ ৫০০ থেকে ১হাজার টাকা এবং উন্নতমানের হোটেলগুলোতে দুইবেড বিশিষ্ট কক্ষ ভাড়া ১২০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। বান্দরবান জেলা শহর ও  উপজেলা গুলোতে ছোট-বড় শতাধিক হোটেল,মোটেল ও গেষ্টহাউজ,সরকারি ও বেসরকারি বিশ্রামাগার গুলোতে এখন পযর্টকদের দখলে। জেলা শহর  পরিণত হচ্ছে হাজারো মানুষের মিলন মেলায় আশার সঞ্চার ঘটেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িদের। জেলার পর্যটন সেক্টরের উদ্যোক্তারা জানান, জেলায় প্রতি মৌসুমে বিশেষ করে নভেম্বর থেকে ফের্রুয়ারী মাস  পর্যন্ত (পিকআওয়ার) গড়ে ১০ লাখ দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন ঘটে। এ সময় কয়েক হাজার লোক মজুরি সুবিধাও পায়। জেলায় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বুনুনকৃত রকমারী পোশাক,চাদর,গামছা,কম্বল এবং শীতবস্ত্র ক্রয়ে বেশি আগ্রহী হন পর্যটকরা। বিকিকিনি বাড়ে এবং আর্থিক ভাবে বেশি লাভবান হন স্থানীয়রা।

শহরের আবাসিক হোটেলের মালিকদের তথ্য মতে ,শীত শুরু থেকেই বুকিং করা হয় শহরের সবগুলো আবাসিক হোটেল ও বিশ্রামাগারগুলো। আবাসিক হোটেল-মোটেল সমিতির সূত্রে জানা যায়, গত মাসে প্রায় ১০ হাজার পর্যটকের আগমন ঘটে। জেলা আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো: সিরাজুল ইসলাম  জানান, রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক থাকলে প্রতিদিনই প্রায় ২০-২৫লক্ষ টাকার লেন-দেন হয় পর্যটন খাতে। এতে হোটেল,গেষ্ট হাউস ও মোটেল ও খাবার হোটেলসহ পরিবহণ সেক্টরে প্রতিদিনই কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা আয় হয়।  এবারও শীত শুরুতেই পর্যটক আসা শুরু করেছে গত বছর থেকে বেশী। তিনি আরো জনান, তবে এবারে পর্যটকের  সংখ্যা আরো বাড়বে, কমবে না। এদিকে জেলা শহর ও জেলার নানাস্থানে স্থাপিত সরকারি ও বেসরকারি পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে সাজানো হয়েছে পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বান্দরবান সদর থানার (ওসি) রফিক উল্লাহ জানান, পর্যটকরা যাতে নির্বিঘেœ ভ্রমণ করতে পারে তার জন্য পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশীদের জন্য  বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিটি দর্শনীয় স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে পোশাক ধারী নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সাথে সাদা পোশাক ধারী বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী।

পোস্ট- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান