পার্বত্যঞ্চলের সম্পদকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধশালী হবে

428

OLYMPUS DIGITAL CAMERA

 
মঈন উদ্দীন বাপ্পী, ৩০ নভেম্বর ২০১৫, দৈনিক রাঙামাটি : ‘পার্বত্যঞ্চলে প্রকৃতি ও পরিবেশের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা সম্পদ হয়ে উঠতে পারে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। পরিকল্পিতভাবে এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগানো গেলে দেশের অর্থনীতি আরো সমৃদ্ধিশালী হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন। তিনি সিঙ্গাপুরের দৃষ্টান্ত টেনে বলেন, সিঙ্গাপুরের আয়তনের চেয়ে আমাদের রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই হ্রদ অনেক বড়। অথচ আজ সিঙ্গাপুর তাদের মেধা ও কর্মগুণে জিডিপি হিসেবে বিশ্বে এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। তিনি বলেন, কাপ্তাই হ্রদের মত এত বড় সম্পদ থাকার পরও আমরা এ সম্পদটাকে কাজে লাগাতে পারিনি। এ হ্রদকে ঘিরে মৎস্য, বাঁশ, কাঠ, কৃষি, পর্যটন, বিদ্যুৎ সব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ গড়ে উঠেছে। আর আমরা হ্রদের মর্ম না বুঝে প্রতিনিয়ত হ্রদটাকে দূষিত করে তুলছি। আর দূষিত হবার ফলে একদিকে যেমন আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদের বিরাট ক্ষতি হচ্ছে অন্যদিকে আমাদের জনশক্তির জন্য নিরাপদ পানীর অভাব দেখা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের এই সম্ভাবনাময় অঞ্চলে সৌহার্দ ও শান্তি বজায় রেখে একে কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বহুগুণ বেড়ে যাবে।

সোমবার সকালে রাঙামাটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অডিটোরিয়ামে রাঙামাটি ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন (আরডিএ)’র আয়োজনে এবং লন্ডন ভিত্তিক সংস্থা মুসলিম এইড যুক্তরাজ্য শাখার সহযোগিতায় এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য জেলাপ্রশাসক এসব কথা বলেন। বক্তব্য শেষে তিনি “বেস্ট প্রাকটিস ডকুমেনশন এন্ড ডিজেমিনেশন” নামক একটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন।

আশিকার নির্বাহী পরিচালক বিপ্লব চাকমার সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, মুসলিম এইডের হেড অব রিসোর্স মোবিলাইজেশন এন্ড এডভোকেসি ইকবাল আহমেদ, মুসলিম এইডের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর শফিকুল আলম ও সাবেক প্রেসক্লাবের সভাপতি সুনিল কান্তি দে প্রমুখ। এসময় পাহাড়ি গ্রামে বসবাসরত ঝুঁকিপূর্ণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য পানীয়-জল ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সার্বিক কার্যক্রম প্রজেক্টের মাধ্যমে তুলে ধরেন আশিকা’র প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কক্সী চাকমা।

সামসুল আরেফিন আরো বলেন, প্রাকতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এ পার্বত্য অঞ্চল। এ অঞ্চলের মত প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধিশালী আর কোন দেশ আছে কিনা আমার জানা নেই। এখানকার অনুকূল আবহাওয়া, মাটি সবই চাষাবাদের উপযোগী। একটু যতœশীল হলে আমার এ অঞ্চলকে অর্থনৈতিক ভান্ডারে পরিণত করতে পারবো। তিনি মুসলিম এইডের কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা এ অঞ্চলের  কপ্তাই হ্রদ, প্রাকৃতিক সম্পদ, হস্ত শিল্প, ফলজ চাষের ওপর ভিত্তি করে কাজ করুন। তাহলে একদিকে যেমন আপনারা আনাদের কাজের সফলতা পাবেন ঠিক অন্যদিকে এ অঞ্চলের কর্মপরিধি বিস্তার লাভ করবে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান