পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্ত্র ও বিষ্ফোরক মজুত: কঠোর অবস্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী

479

স্টাফ রিপোর্ট- ৫ মার্চ ২০১৭, দৈনিক রাঙামাটি: ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রমের দুর্গম পাহাড়ি পথ দিয়ে অবৈধ অস্ত্র আমদানি রোধে বিজিবিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে মিডিয়ায় খবর বেরিয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে পুরো পার্বত্য অঞ্চল। সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে গহিন পাহাড়ি পথ দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের একটি চালান পার্বত্য জেলার সশস্ত্র গ্রুপগুলোর কাছে পৌঁছেছে। অবৈধ পথে আসা এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক হাতবদল হয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায় পাঠানো হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে দেশের গণমাধ্যমে এ বিষয় সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে।

এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলো সশস্ত্র আধিপত্য বিস্তারের জন্যও অস্ত্র আমদানি করছে। এরই মধ্যে পার্বত্য অঞ্চল থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একে৪৭ রাইফেলসহ বিভিন্ন জাতের আগ্নেঅস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে।

এবছরের শুরুতে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান সুপার জ্যোতি চাকমাকে নিজ বাসভবন থেকে একটি ম্যাগাজিন ৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি ফাইভ স্টার পিস্তলসহ গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় ইউপিডিএফ নানন কর্মসূচি পালন করে।

সংবাদে বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনে পার্বত্যাঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রতিবেদনটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রশাসনসহ সব গোয়েন্দা সংস্থাকে নিবিড় ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারিসহ সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্রের চালান পাঠানোর নেপথ্যে রয়েছে মিয়ানমারের আরাকান লিবারেশন পার্টি (এএলপি)। শান্ত থাকা পার্বত্য এলাকায় আবারও অশান্ত করার চেষ্টা হিসেবে একটি গোষ্ঠী অস্ত্রগুলো নিয়ে এসেছে। পাহাড়ি এলাকার একটি সংগঠনের আড়ালে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী বা সংগঠন কিংবা জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকরাও এসব অস্ত্রের চালান আমদানি করতে পারে, যা শুধু পার্বত্য অঞ্চলেই নয়, দেশের অন্যান্য স্থানেও নাশকতায় ব্যবহৃত হতে পারে এসব অস্ত্র।

গত বছরের আগস্টে এএলপির সহযোগিতায় একটি অস্ত্রের চালান আসে। যার মধ্যে ২৫টি রাইফেল ও গুলি রয়েছে। একই বছরের ডিসেম্বরে মিয়ানমারের কারেন প্রদেশে এএলপির অর্থ সম্পাদক ১৬টি একে৪৭ রাইফেলসহ ধরা পড়ে। চালানটির গন্তব্য ছিল তিন পার্বত্য জেলায়।

গোয়েন্দাদের তথ্য মতে, তিন পার্বত্য জেলাসহ কক্সবাজারের দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত এখনও অরক্ষিত। সেখানে বিভিন্ন নামে মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। এর মধ্যে আরাকান আর্মি (এএ), এএলপি এবং রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) সবচেয়ে বেশি তৎপর। সংগঠনগুলো ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। এর বাইরেও ছোট-বড় কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপও সক্রিয় রয়েছে। এসব কারণে বাংলাদেশ-ভারত ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের অরক্ষিত পাহাড়ি অঞ্চলের ৩৬৯ কিলোমিটার বিজিবির নজরদারি এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ভারত ও মিয়ানমারের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সহায়তায় দেশি-বিদেশি চক্র পার্বত্য এলাকায় নানা ষড়যন্ত্র ও অশান্তির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারা মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোকে সংগঠিত করতে আর্থিক সহায়তাও দিচ্ছে। সেই সঙ্গে পার্বত্য জেলাগুলোয় সশস্ত্র দলগুলোকে কৌশলে ইন্ধন দিচ্ছে।

পোস্ট করেন- শামীমুল আহসান. ঢাকা ব্যুরো প্রধান। সূত্র: অন্যমিডিয়া