পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা

329

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী বলেন, ২০ বছর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ জলবায়ু সম্পর্কে খুব বেশি সচেতন ছিল না এবং এসমস্ত বিষয়গুলো একটা পর্যায় পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। বন ধ্বংস এবং পরিবেশ উজাড় হওয়ার পর আমরা উপলব্ধি করতে পারছি আমরা কি হারিয়েছি। ১০বছর আগেও পার্বত্য চট্টগ্রামের শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে পানির জন্য হাহাকার ছিল, বর্তমানে জনস্বাস্থ্য বিভাগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা হচ্ছে। পূর্বে পাহাড় জঙ্গলে, ছড়াতে এবং ঝিড়িতে পর্যাপ্ত পানি ছিলো, এখন নেই। সব হারাতে বসেছি। তিনি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ কষ্ট পেলেও প্রতিবাদ করেনা, সমস্যা হলেও চুপ থাকে। এটাই এখানকার মানুষের বৈশিষ্ট্য। প্রতিবাদ করতে জানেনা, চাইতে জানেনা, বলতে চাইনা এধরনের মানুষের পক্ষে জনপ্রতিনিধিদেরকেই তাদের মঙ্গলের জন্য সোচ্চার হতে হবে। এ প্রকল্পটি যাতে এখানেই শেষ না হয়ে আবার ফিরে আসে এ ব্যবস্থা করতে হবে। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে। সচেতন এবং আন্তরিক থাকতে হবে এবং জনগণকে সচেতন করতে হবে। এভাবে আগামী প্রজন্মকে একটি সুন্দর পৃথিবী আমরা উপহার হিসাবে দিয়ে যেতে পারবো।

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সভাকক্ষে (এনেক্স ভবন) অনুষ্ঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পের অভিজ্ঞতা বিনিময় শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য রেমলিয়ানা পাংখোয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা এবং প্রকল্পের ফোকাল পার্সন অরুনেন্দু ত্রিপুরা।

সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, জলবায়ুর সকল তহবিল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে যাচ্ছে। নীতিনির্ধারক মহল পার্বত্য চট্টগ্রামের জলবায়ু সম্পর্কে খুব বেশি কথা বলছেনা। জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবের ভুক্তভোগী হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষেরা। বিগত ৪০ বছরের পার্বত্য চট্টগ্রামের জলবায়ুর তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় অতিবৃষ্টি, বৃষ্টির মৌসুম পরিবর্তন, গাছপালা কমে যাওয়া এবং ফসল না হওয়া প্রভৃতি বিষয়গুলো ঘটছে। বাংলাদেশের শতকরা ৮০ ভাগ জৈববৈচিত্র্য এবং ৪৩ শতাংশ বনভূমি পার্বত্য চট্টগ্রামে। অথচ জলবায়ুর ক্ষতির প্রভাব নিরসনে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য জাতীয় পলিসিতে কোন বরাদ্দ নেই। এ অঞ্চলের মানুষকে সরকারকে বলতে হবে পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য যাতে বরাদ্দ রাখা হয়। আমাদের এ বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে এবং সরকারকে জানাতে হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে যেসমস্ত সিআরসি গঠিত হয়েছে তাদেরকে দিয়ে ভবিষ্যতে স্থানীয়ভিত্তিক জলবায়ু বিষয়ক পরিকল্পনা করতে হবে।

কর্মশালায় পরিষদ সদস্য অংসুইছাইন চৌধুরী, জাতীয় মানবধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য নিরূপা দেওয়ান, বিলাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান বীরোত্তম তঞ্চঙ্গ্যা, বরকল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিধান চাকমা, জুরাছড়ি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি প্রকৌশলী দেবাশীষ চাকমা, গ্রীণহিলের চেয়ারপার্সন টুকু তালুকদার, প্রোগ্রেসিভ এর নির্বাহী পরিচালক সুচরিতা চাকমা, আইনজীবি সুস্মিতা চাকমা, ২নং বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, পূর্ব ফুরোমন এলাকার কোষাধ্যক্ষ চিনু চাকমা, বরকলের হাজাছড়া সিআরসি সভাপতি প্রভাত মোহন চাকমা, বরকলের বামে ভূষণছড়া সিআরসি সভাপতি কমলকৃঞ্চ চাকমা, রাঙ্গামাটি সদরের বসন্তমোন সিআরসি সভাপতি অনিল বিকাশ চাকমা, কোষাধ্যক্ষ সুমিরা চাকমা, সদস্য রেবতি রঞ্জন চাকমা, বাঙ্গালকাটা ও চরবেক ছড়া সিআরসি সম্পাদক হলধর চাকমা, তিনকুনিয়া সিআরসি সদস্য নতুন বালা তঞ্চঙ্গ্যা, জুরাছড়ির তন্যাবিছড়া সিআরসি সম্পাদক মিতালী চাকমা, জুরাছড়ির ধুলকল ও পাচগতমা ছড়া সিআরসি সভাপতি সন্তোষ বিকাশ চাকমা, সদরের পূর্ব ফুরোমন সিআরসি সহসভাপতি বিজয় কুমার কার্বারী, সদরের সাপছড়ি সিআরসি পূর্ব ফুরোমন সিআরসি সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রমনি চাকমা, সদরের সাপছড়ি ইউনিয়নের মহিলা মেম্বার সুমিত্রা চাকমা, এসআইডির প্রোগ্রাম অফিসার এ কে এম আজাদ, উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর জয় খীসা, ৩নং ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা, ১নং বিলাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি দেওয়ান, ৩নং সাপছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মৃনাল কান্তি চাকমা, ৬নং বালুখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিজয়গিরি চাকমা, সিএইচটি ভিসিএফ নেটওয়ার্কের সভাপতি থোয়াই অং মারমা, সদরের পূর্ব ফুরোমোন সিআরসি সভাপতি নিরু চাকমার চাকমা, আশিকা ডেভেলাপমেন্ট এসোসিয়েট কক্সি তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।