পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বাধা হলো চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষের দূরত্বঃ দীপংকর

144

॥ স্টাফ রিপোর্টার ॥
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাঙামাটি আসনের জন্য আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থী ও সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার বলেছেন, পার্বত্য চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে মূল বাধা হলো চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষের দুরত্ব। কারণ যারা চুক্তি করে, চুক্তির প্রতি তাদের চেয়ে আর কারো দরদ বেশি হতে পারে না। যারা চুক্তির বিরোধিতা করেছিল তাদের কাছে চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে যেমন লাভ নেই, তেমনি চুক্তি সম্পদনকারী পক্ষগণের মধ্যে সমঝোতা অভাবও চুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে প্রলম্বিত করতে পারে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা এবং সাহসের কারণে এই শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং তিনি আন্তরিক বলেই চুক্তির অধিকাংশ দফা বাস্তবায়নও হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, সকল চুক্তির মধ্যেই কিছু জটিল দিক থাকে, যা বাস্তবতার আলোকে পারস্পরিক সমঝোতা ও সংলাপের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে, সেই বাস্তবতা সবাই অনুধাবন করতে পারে না।

পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৬তম বর্ষপূর্তি ঘিরে আয়োজিত (মিট দি প্রেস) এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় দীপংকর তালুকদার এই মন্তব্য করেন। জনাব তালুকদার বলেন, কাঠাল থেকে যেমন আমস্বত্ত্ব হয় না, চুক্তির বিরোধিতাকারীদের কাছ থেকেও চুক্তি বাস্তবায়নের আশা করা যায় না। কিন্তু চুক্তি সম্পদনের পর একটি পক্ষ বার বার পথ হারিয়ে ভূল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ভুল মানুষের সাথে সখ্যতা করেছে। কাজেই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার বিকল্প চিন্তা করাটা বাতুলতা।

পার্বত্য চুক্তির ফলে, এক সময় পিছিয়ে পড়া অঞ্চলের তকমা পাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম এখন উন্নয়নের আলোয় ঝলমল করছে। এটা চুক্তি বাস্তবায়নের বড় প্রমাণ। পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছানো, অসংখ্য ব্রীজ, কালভার্ট, রাস্তাঘাট, মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিদ্যালয় ও কলেজগুলোর জাতীয় করণ সর্বপোরী পাহাড়ের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধির অসংখ্য উদাহরণ তুলে ধরে সদ্য বিদায়ী এই এমপি বলেন। আগামীতে ক্ষমতায় এলে আমরা চুক্তির বাকি ধারাগুলোও বাস্তবায়নের জন্য যে যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন তার সব কিছুই করবো এবং এটা আমাদের পক্ষেই সম্ভব, শুধুমাত্র পাহাড়ের মানুষের মাঝে এই বোধ জন্মাতে হবে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে দীপংকর তালুকদার বলেন, যারা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আমার দৃষ্টিতে সবাই শক্সত প্রতিদ্বন্দ্বী, আর আমি জনগণের ভালোবাসায় জিতে আসবো এই প্রত্যাশা নিয়েই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছি। তবে তিনি ২০১৪ সালে মতো যাতে কেউ ডাকাতি করে জনগণের ভোট ছিনিয়ে নিতে না পারে সে জন্য নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

এ সময় সাবেক সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম চিনু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অভয় প্রকাশ চাকমা ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ত্রিদীব কান্তি দাসসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।