পার্বত্য জেলার ৭৩৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাতীয়করণের আওতায় আসছে

91

॥ মমতাজ উদ্দীন আহমদ ॥

সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তিন পার্বত্য জেলায় ইউএনডিপি পরিচালিত ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩৮ জন শিক্ষককে জাতীয়করণের আওতায় নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) রাতে পার্বত্যনিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব সাদেক হোসেন চৌধুরী। এ অগ্রগতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুরের আপ্রাণ প্রচেষ্টা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। সাদেক হোসেন চৌধুরী তাঁর ফেসবুক আইেিত পোস্ট দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আগামী রবিবার হয়তো বিস্তারিত জানা যাবে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পার্বত্য তিন জেলায় ইউএনডিপিভুক্ত ২১০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণের ঘোষণা দেয়। বৃহস্পতিবার (৭ এপ্রিল ২২) মন্ত্রণালয় উল্লেখিত ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৭৩৮ জন শিক্ষককে জাতীয়করণের আওতায় নিয়েছে।

জাতীয়করণ হওয়ায় এই শিক্ষকদের জীবন থেকে অনিশ্চয়তা কেটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাতে তারা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আরো মনোযোগী হতে পারবেন এবং শিক্ষার্থীরাও পাবে তাদের কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়, জাতীয়করণ করা ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বান্দরবান জেলার ৮০টি, রাঙ্গামাটি জেলার ৮১টি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় ৪৯টি ইউএনডিপি পরিচালিত বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ইউএনডিপির সহায়তায় সিএইচটিডিএফ প্রকল্পের আওতায় ২৩৩টি বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছিল। এগুলোর মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ২৩টি বিদ্যালয় আগেই জাতীয়করণের আওতায় এসেছে।

ইউএনডিপির দ্বিতীয় দফা প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বাকি ২১০টি বিদ্যালয় পরিচালনার ব্যয়ভার বহন করতে ইউএনডিপি অপারাগত প্রকাশ করায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বিভিন্ন সুবিধা ও অসুবিধার বিষয় বিবেচনা করে এ স্কুলগুলোকে জাতীয়করণ করার বিষয়ে সম্মতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি প্রস্থাব পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী এ স্কুলগুলোর বিষয়ে যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত এবং আর্থিক সংশ্লেষ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামতসহ সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পাঠাতে বলা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রথমে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণের বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে জানানো হলে ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের আওতায় নেয়া হয়।

সর্বশেষ এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জাতীয়করণের আওতায় নিয়ে বিদ্যালয়গুলোকে চূড়ান্তভাবে সরকারিকরণ করা হলো।