পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটছে : মাদকবিরোধী বিতর্ক উৎসবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

265

Photo 2

২৪ জানুয়ারি বিএফডিসিতে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সংসদীয় বিতর্ক উৎসবের প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এমপি, বিতর্ক প্রতিযোগিতার ইস্পিকার ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমানের সাথে    উৎসবের চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ দলের বিতার্কিকরা

ঢাকা ব্যুরো অফিস, ২৪ জানুয়ারি ২০১৬, দৈনিক রাঙামাটি : ‘মাদকের বিস্তার রোধে আমাদের কঠোর আইন রয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরসহ সব সেক্টর মাদক প্রতিরোধে একযোগে কাজ করছে। কিন্তু এরপরেও আমাদের দেশে অবৈধ মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটছে। মাদকের ব্যবহার বন্ধ এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত, মায়ানমার থেকে যাতে করে কোন ধরনের মাদক অবৈধভাবে ঢুকতে না পারে সেটাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মাদককে রুখে দিয়েই আলোকিত তরুণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে।’ আজ ২৪ জানুয়ারি ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে রাজধানীর বিএফডিসিতে সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী বিতর্ক উৎসব-এর গ্র্যান্ডফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মাদকের নানা কুফল তুলে ধরে সভাপতির বক্তব্য দেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশ কখনই মাদক উৎপাদন ও সরবরাহের সাথে যুক্ত নয়। প্রতিবেশী দেশ থেকে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের কারণে দেশের তরুণরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বর্তমানে তরুণ সমাজকে যেভাবে বিপদগ্রস্থ হচ্ছে সেটি থেকে অবশ্যই তাদেরকে বের করে আনতে হবে। তবে তিনি আজকের এই ছায়াসংসদে বিতার্কিকদের বক্তব্য শুনে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন।  একই সাথে তিনি বলেন, এই তরুণরাই পারবে মাদকাসক্তি মুক্ত বাংলাদেশের হাল ধরে এগিয়ে নিতে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান বলেন, দেশের স্বপ্নময় শিক্ষার্থীদের মাঝে শুরু থেকেই মাদকবিরোধী মনোভাব জাগ্রত  করতে হবে। যাতে করে আগামীতে কোনো প্রলোভন বা কৌতুহলে তারা মাদকের হাতছানিতে সাড়া না দেয়। তিনি বলেন, অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তাসহ সংম্লিষ্টরা  মাদকের অপব্যবহার বন্ধে দৃঢ়তার সাথে কাজ করছে। তবে সমাজের সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে এই আন্দোলনে অংশগ্রহণ করলে মাদকের ব্যবহার প্রতিরোধ করা যাবে বলে মন্তব্য করেন।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, মাদকের বিস্তারের পাশাপাশি চাহিদা কী কারণে বাড়ছে তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। তবে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, প্রতিহিংসামূলক ঘটনা, হানাহানি, কর্মসংস্থানের অভাব, শিক্ষার প্রতিকূল পরিবেশ মাদকের বিস্তারে প্রভাব রাখছে। সমাজ ও রাষ্ট্রে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মধ্যে দিয়েই মাদককে প্রতিরোধ করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের এই বিপথ থেকে ফিরিয়ে আনতে যুক্তিবাদী সমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

প্রতিযোগিতায় ঢাকা ক্যান্টঃ পাবলিক গার্লস কলেজ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এতে রানার আপ ও তৃতীয় স্থান অধিকার করে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ এবং সাউথ পয়েন্ট কলেজ। চূড়ান্ত প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল- রাজনৈতিক অঙ্গীকারই পারে মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে। প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, রানার আপ ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলকে যথাক্রমে নগদ ৫০ হাজার, ২৫ হাজার ও ১৫ হাজার টাকাসহ ট্রফি ও ক্রেস্ট পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়। চ্যাম্পিয়ন দল  ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিতার্কিকরা হলো-কানিজ মেহজাবিন মেহের তোরসা, মার্জিয়া কবীর ও রওশন জাহান তামান্না । রানার আপ দল শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের বিতার্কিকরা হলো- মাহমুদ হাসান রাজ, নাফিসা আঞ্জুম এবং ফারিহা ইসলাম।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আমির হোসেন, পরিচালক নাজমুল আহসান মজুমদার, সৈয়দ তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, আবু তালেব প্রমুখ। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন যোগাযোগ পরামর্শক সাংবাদিক মাঈনুল আলম, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম এবং মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ খোরশিদ আলম চঞ্চল।

সপ্তাহব্যাপী মাদকবিরোধী বিতর্ক উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- ভিকারুন নূন নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরী গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ, সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারী স্কুল, সাউথ পয়েন্ট কলেজ, ঢাকা কমার্স কলেজ, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ ও ঢাকা ক্যান্টঃ পাবলিক গার্লস কলেজ।

গ্র্যান্ড ফাইনাল প্রতিযোগিতায় বিতার্কিক, শিক্ষার্থী-শিক্ষক, অভিভাবক, গণমাধ্যম কর্মী ও সরকারী-বেসরকারী কর্মকর্তাসহ নানা শ্রেণী পেশার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সপ্তাহব্যাপী এই বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মাদকাসক্তির কারণ, মাদক প্রতিরোধে পরিবার-সমাজ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা, মাদকের কুফল, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মাদক প্রতিরোধ আন্দোলন, গণমাধ্যমের ভূমিকা, সুশীল সমাজের দায়বদ্ধতা, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সম্পাদনা- শামীমুল আহসান, ঢাকা ব্যুরোপ্রধান